18.2 C
London
September 20, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

রুশ তেল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক হুমকিতে চাপে ভারতঃ নড়বড়ে হতে পারে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক

রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে ভারতের ওপর যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে শুল্ক আরোপ করলে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে প্রভাব পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে নয়াদিল্লি। ১৭ সেপ্টেম্বর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ অবস্থান জানায়। এর আগে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে একটি বিস্তৃত নিষেধাজ্ঞা ও শুল্কসংক্রান্ত বিল পাস করে। 
‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ নামে পরিচিত বিলটি মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদে পাস হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে পাঠানো হয়েছে। আইন হিসেবে কার্যকর হলে এর আওতায় রাশিয়ার জ্বালানি ক্রয়কারী কয়েকটি দেশের পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের হাতে যেতে পারে। ভারত ও চীন এ ব্যবস্থার আওতায় পড়তে পারে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিনিধির সঙ্গে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছে নয়াদিল্লি। ভারতের পক্ষ থেকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে সম্ভাব্য প্রভাবের বিষয়টিও যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে।
নয়াদিল্লি আরও জানিয়েছে, ১৪০ কোটির বেশি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ভারতের অন্যতম অগ্রাধিকার। বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে দেশটি। একই সঙ্গে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে ভারত।
ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল আমদানিকারক এবং রাশিয়ার তেলের বড় ক্রেতাদের একটি। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর পশ্চিমা দেশগুলো মস্কোর ওপর বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এরপর ভারত তুলনামূলকভাবে কম দামে রুশ অপরিশোধিত তেল কেনা বাড়ায়।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতীয় তেল শোধনাগারগুলো সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের জন্য রুশ তেলসহ বিভিন্ন সরবরাহের ব্যবস্থা করেছে। সম্ভাব্য নতুন মার্কিন শুল্ক নিয়ে শোধনাগারগুলোর পক্ষ থেকে সরকারের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
শোধনাগার-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, রুশ তেলের সরবরাহ কমে গেলে জ্বালানি সংগ্রহের খরচ বাড়তে পারে এবং শোধনাগারগুলোর মুনাফায় চাপ তৈরি হতে পারে। এ কারণে তারা সরাসরি সর্বোচ্চ শুল্ক আরোপের পরিবর্তে ছাড়, সময়সীমা বা নির্দিষ্ট পরিমাণ রুশ তেল কেনার অনুমতির মতো বিকল্প নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পক্ষে মত দিয়েছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
এদিকে রাশিয়ার তেল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান বাণিজ্য আলোচনাকেও প্রভাবিত করতে পারে। কয়েক মাস ধরে দুই দেশ বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আলোচনা করলেও এখনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছায়নি। ভারতীয় বিশ্লেষকদের মতে, রুশ তেল ইস্যুতে নতুন শুল্কের হুমকি আলোচনায় অতিরিক্ত জটিলতা তৈরি করতে পারে।
ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের চলতি মাসের শেষ দিকে জি২০ বাণিজ্যমন্ত্রীদের বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ারের সঙ্গে তার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। দুই দেশের বাণিজ্য আলোচনায় রুশ তেল ও সম্ভাব্য মার্কিন শুল্কের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
অন্যদিকে, রাশিয়া নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও শুল্কের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নতুন নিষেধাজ্ঞা ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর প্রচেষ্টাকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।
সব মিলিয়ে রুশ তেল কেনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন আইনগত উদ্যোগের ফলে ভারতকে জ্বালানি নিরাপত্তা, বাণিজ্যিক স্বার্থ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সম্পর্ক—তিনটি বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করতে হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত বিলটি প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে; ফলে ভারতের ওপর বাস্তবে কী ধরনের শুল্ক আরোপ করা হবে, তা চূড়ান্ত হয়নি।
সূত্রঃ দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস \  রয়টার্স
এম.কে

আরো পড়ুন

বিশ্বে এই প্রথম নাকে দেওয়ার করোনা ভ্যাকসিন বাজারে আনলো ভারত

নিউজ ডেস্ক

ভারতের চিপ প্রকল্পে থাকছে না ফক্সকন

নেদারল্যান্ডসে ‘পুড়িও না, পড়’ কর্মসূচিতে কুরআন বিতরণ