লন্ডনে কুকুরের ঘেউ ঘেউ নিয়ে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ পাওয়া এলাকার তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। তথ্য অধিকার আইনের আওতায় করা আবেদনের মাধ্যমে পাওয়া তথ্য সংগ্রহ করেছে ‘পাপিজ ডট কো ডট ইউকে’। এতে দেখা গেছে, ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত কুকুরের ঘেউ ঘেউ নিয়ে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে ইসলিংটনে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ওই সময়ে ইসলিংটনে কুকুরের ঘেউ ঘেউ নিয়ে মোট ৩ হাজার ৬৩৭টি অভিযোগ করা হয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অভিযোগ পাওয়া গেছে রেডব্রিজে, যেখানে অভিযোগের সংখ্যা ৩ হাজার ৪০১টি। তৃতীয় অবস্থানে থাকা বার্কিং অ্যান্ড ড্যাগেনহামে একই সময়ে ২ হাজার ৭৩৬টি অভিযোগ জমা পড়ে।
গত বছর অবশ্য বার্কিং অ্যান্ড ড্যাগেনহামেই কুকুরের ঘেউ ঘেউ নিয়ে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ করা হয়েছিল। ২০২৫ সালে ওই এলাকায় মোট ২ হাজার ২৩৯টি অভিযোগ পাওয়া যায়। এরপর ছিল সাউথওয়ার্ক ও হ্যাকনি।
‘পাপিজ ডট কো ডট ইউকে’র একজন মুখপাত্র বলেন, কুকুরের যোগাযোগের স্বাভাবিক একটি মাধ্যম হলো ঘেউ ঘেউ করা। তবে তা দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকলে প্রতিবেশীদের জন্য বিরক্তিকর হয়ে উঠতে পারে।
তিনি বলেন, অতিরিক্ত ঘেউ ঘেউ করার মাধ্যমে কুকুর কোনো বিষয় সম্পর্কে তার মালিককে জানানোর চেষ্টা করতে পারে। কুকুর উদ্বিগ্ন, ভীত, বিরক্ত, উত্তেজিত অথবা আশপাশের কোনো কিছুর প্রতিক্রিয়ায় ঘেউ ঘেউ করতে পারে।
কুকুরের অতিরিক্ত ঘেউ ঘেউ নিয়ন্ত্রণে মালিকদের প্রতিদিন পর্যাপ্ত ব্যায়ামের ব্যবস্থা করার এবং একা থাকার সময় ব্যস্ত রাখার জন্য বিভিন্ন ধরনের খেলনা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কুকুরকে শান্ত রাখতে কম শব্দে টেলিভিশন চালু রাখার কথাও বলা হয়েছে।
কুকুর মালিক বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় ঘেউ ঘেউ করলে অল্প সময়ের জন্য বাইরে যাওয়ার অনুশীলন করিয়ে ধীরে ধীরে সেই সময় বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে কুকুর বুঝতে পারবে যে মালিক আবার ফিরে আসবেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘস্থায়ী কুকুরের ঘেউ ঘেউ শুধু প্রতিবেশীদের মধ্যে বিরোধের কারণ হতে পারে না, এটি আইনগত ব্যবস্থারও কারণ হতে পারে। কোনো কাউন্সিল যদি মনে করে শব্দটি বিধিবদ্ধ বিরক্তির পর্যায়ে পৌঁছেছে, তাহলে কুকুরের মালিককে সমস্যা সমাধানের জন্য বিধিবদ্ধ শব্দ নিয়ন্ত্রণের নোটিশ দেওয়া যেতে পারে।
এ ধরনের নোটিশের শর্ত পালন না করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে এবং জরিমানার মুখোমুখি হতে পারেন তিনি। তাই দীর্ঘস্থায়ী ঘেউ ঘেউয়ের সমস্যা শুরুতেই নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এমন একটি ঘটনায় কুকুরকে অবিরাম উচ্চস্বরে ঘেউ ঘেউ করতে দেওয়ার অভিযোগে এক মালিককে মোট ১ হাজার ৮৫০ পাউন্ড পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি তদন্ত করে এনফিল্ড কাউন্সিলের পরিবেশগত স্বাস্থ্য বিভাগ। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে তার প্রতিবেশীরা ৩৯ বছর বয়সী ইয়াসার মুস্তাফার জার্মান শেফার্ড কুকুরের উচ্চস্বরে ঘেউ ঘেউ করার বিষয়ে অভিযোগ করে আসছিলেন।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মুস্তাফাকে বিধিবদ্ধ শব্দ নিয়ন্ত্রণের নোটিশ দেওয়া হয়। পরে ওই নোটিশের শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে জুলাই মাসে হাইবারি কর্নার ম্যাজিস্ট্রেটস কোর্টে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
গত ৬ আগস্ট বিচারক তাকে ২৫০ পাউন্ড জরিমানা, এনফিল্ড কাউন্সিলের খরচ বাবদ ১ হাজার ৫০০ পাউন্ড এবং ভুক্তভোগী সারচার্জ হিসেবে আরও ১০০ পাউন্ড পরিশোধের নির্দেশ দেন। সব মিলিয়ে তার ওপর ১ হাজার ৮৫০ পাউন্ডের আর্থিক দায় পড়ে।
এনফিল্ড কাউন্সিলের লাইসেন্সিং বিভাগের ক্যাবিনেট সদস্য কাউন্সিলর এলিসা মোরিয়ালে বলেন, কুকুরের অবিরাম ঘেউ ঘেউয়ের মতো উচ্চ শব্দ অসামাজিক আচরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এবং এটি স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
তিনি আরও বলেন, অভিযোগ ও শব্দজনিত বিরক্তির ঘটনায় পরিবেশগত স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের নেওয়া পদক্ষেপ কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা না মানা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতির প্রমাণ।
তবে আদালতের রায়ের পরও ইয়াসার মুস্তাফাকে তার কুকুরটি রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত অভিযোগের হিসাবে ইসলিংটনের পর রেডব্রিজ ও বার্কিং অ্যান্ড ড্যাগেনহাম রয়েছে। এরপর সাউথওয়ার্কে ২ হাজার ২৩৬টি, ল্যামবেথে ২ হাজার ৮০টি, গ্রিনউইচে ১ হাজার ৫৯৩টি এবং ব্রমলিতে ১ হাজার ৫৮৩টি অভিযোগ পাওয়া গেছে।
একই সময়ে কেনসিংটন অ্যান্ড চেলসিতে ১ হাজার ৫১৩টি, হ্যামারস্মিথ অ্যান্ড ফুলহ্যামে ১ হাজার ৪০৬টি, বেক্সলিতে ১ হাজার ২৪৯টি, হ্যারিঞ্জিতে ১ হাজার ১৯৬টি, সাটনে ১ হাজার ১৬টি, ওয়েস্টমিনস্টারে ৮৬০টি, কিংস্টন আপন টেমসে ৮৬০টি এবং ক্রয়ডনে ৮৪৪টি অভিযোগ জমা পড়েছে।
প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে দ্য লন্ডন স্ট্যান্ডার্ড। তথ্য সংগ্রহে তথ্য অধিকার আইনের আওতায় পাওয়া সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলগুলোর অভিযোগের পরিসংখ্যান ব্যবহার করা হয়েছে।
সূত্রঃ দ্য লন্ডন স্ট্যান্ডার্ড
এম.কে

