২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর থেকে যুক্তরাজ্যে লেবার সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রায় ৬০ হাজার অননুমোদিত অভিবাসী ও দণ্ডপ্রাপ্ত বিদেশি অপরাধী দেশটি ছেড়েছেন বা তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে হোম অফিস।
কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ রিমুভাল ও ডিপোর্টেশনের সংখ্যা।
হোম অফিসের তথ্যমতে, নির্বাচনের পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৫ হাজার ২০০ জন অবৈধভাবে অবস্থানকারী ব্যক্তিকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যা আগের ১৯ মাসের তুলনায় ৪৫ শতাংশ বেশি।
পাশাপাশি, কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পাওয়ার পর ৪৩ হাজার মানুষ স্বেচ্ছায় যুক্তরাজ্য ত্যাগ করেছেন। এ ছাড়া বিদেশি নাগরিক অপরাধীদের বহিষ্কার ৩২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার আওতায় বর্তমান লেবার সরকারের সময়ে ৮ হাজার ৭০০ জনের বেশি অপরাধীকে দেশছাড়া করা হয়েছে।
এই তথ্য প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে হোম অফিস একটি রিমুভাল ফ্লাইটের ভিডিও প্রকাশ করে, যেখানে আটক ব্যক্তিদের মুখ ঝাপসা করে পূর্ব ইউরোপগামী বিমানে তুলে দিতে দেখা যায়। সরকারের দাবি, এসব পদক্ষেপ অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার অংশ।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শাবানা মাহমুদ বলেছেন, বহিষ্কার কার্যক্রম আরও বিস্তৃত ও জোরদার করা হবে। তার ভাষায়, যাদের যুক্তরাজ্যে থাকার কোনো বৈধ অধিকার নেই, তাদের সরাতে সরকার “যা দরকার তাই করবে” এবং শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সরকার আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য হোটেল ব্যবহারের অবসান, চ্যানেল পাড়ি দিয়ে ছোট নৌকায় আগমন রোধ এবং বহিষ্কার বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। স্টারমার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৬৫ হাজারের বেশি মানুষ চ্যানেল পার হয়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেছে বলে সরকারি হিসাব।
সরকার একই সঙ্গে ইউরোপীয় মানবাধিকার সনদ (ECHR)–এর কিছু ধারার প্রয়োগ সীমিত করার উদ্যোগ নিচ্ছে। বিশেষ করে আর্টিকেল ৩ (অমানবিক বা অপমানজনক আচরণ থেকে সুরক্ষা) এবং আর্টিকেল ৮ (পারিবারিক জীবনের অধিকার) ব্যবহার করে বহিষ্কার ঠেকানোর সুযোগ কমাতে আইন সংশোধনের প্রস্তুতি চলছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, অননুমোদিত অভিবাসীদের জন্য একটি মাত্র আপিলের পথ রাখা হবে।
এ ছাড়া সরকার জানিয়েছে, চলতি সংসদ মেয়াদের শেষ নাগাদ আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসনের জন্য হোটেল ব্যবহার বন্ধ করে সামরিক ঘাঁটির মতো অপেক্ষাকৃত সাধারণ আবাসন ব্যবহারে যাওয়া হবে। বর্তমানে ২০০টিরও কম হোটেল আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, যেখানে আগের সরকারের সময়ে সংখ্যা ছিল প্রায় ৪০০।
তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী সহায়তা সংস্থাগুলো সরকারের এই অবস্থানকে বিতর্কিত ও ক্ষতিকর বলে আখ্যা দিয়েছে। অভিবাসী সহায়তা সংস্থা প্রাক্সিস–এর প্রধান নির্বাহী মিনি রহমান বলেন, বহিষ্কৃত অনেক ‘বিদেশি নাগরিক অপরাধী’ বাস্তবে জীবনের বড় সময় যুক্তরাজ্যে কাটিয়েছেন এবং এখানে থাকার বৈধ দাবি রয়েছে।
জয়েন্ট কাউন্সিল ফর দ্য ওয়েলফেয়ার অব ইমিগ্র্যান্টস–এর মুখপাত্র গ্রিফ ফেরিস সরকারের নীতিকে নিষ্ঠুর ও বিভাজনমূলক বলে উল্লেখ করে বলেন, ব্যাপক বহিষ্কার এবং মানবাধিকার সুরক্ষা দুর্বল করার চেষ্টা সমাজের জন্য ভয়াবহ বার্তা দিচ্ছে।
এদিকে ফ্রিডম ফ্রম টর্চার সংস্থার পরিচালক নাতাশা স্যাঙ্গারাইডস সতর্ক করে বলেছেন, ইসিএইচআরের আর্টিকেল ৩ দুর্বল করার উদ্যোগ বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার সুরক্ষার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং এটি নির্যাতনবিরোধী আন্তর্জাতিক কাঠামোকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে।
সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান
এম.কে

