TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

শাবানা’র দিকে আক্রমণের তীর নাইজেল ফারাজেরঃ লেবার সরকারকে তুলোধুনা

ব্রিটেনে অভিবাসীদের স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন (আইএলআর) নীতিতে সম্ভাব্য ছাড়ের ইঙ্গিত ঘিরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আক্রমণ শুরু করেছে কনজারভেটিভ পার্টি ও রিফর্ম ইউকে। তাদের অভিযোগ, লেবার পার্টির বামপন্থি নেতাদের চাপে পড়ে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের অবস্থান থেকে সরে আসছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

কনজারভেটিভ পার্টির ছায়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস ফিলিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, শাবানা মাহমুদকে লেবার পার্টির বামপন্থি অংশের কাছে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করা হয়েছে। তার অভিযোগ, নতুন সিদ্ধান্তের ফলে কম বেতনের কর্মী কিংবা বর্তমানে কোনো কাজ বা আয় নেই এমন লাখ লাখ অভিবাসী যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে থাকার সুযোগ পেতে পারেন এবং ভবিষ্যতে সরকারি ভাতার দাবিও করতে পারেন।

ক্রিস ফিলিপ বলেন, গত মার্চে এক বক্তব্যে শাবানা মাহমুদ নিজেই জানিয়েছিলেন, শুধু কম বেতনের পরিচর্যা খাতের কর্মীদের স্থায়ীভাবে থাকার সুযোগ দিলে করদাতাদের প্রায় ১০ বিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় হতে পারে। তিনি তখন এমন সিদ্ধান্তকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলেও মন্তব্য করেছিলেন। অথচ এখন সরকার সেই সিদ্ধান্তের দিকেই এগোচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ফিলিপ।

তিনি আরও দাবি করেন, অভিবাসন নীতির নিয়ন্ত্রণ এখন অ্যাঞ্জেলা রেনারের হাতে চলে যাচ্ছে এবং এর ফলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিজের অবস্থানও ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে।

কনজারভেটিভ পার্টির প্রস্তাবিত নীতি তুলে ধরে ফিলিপ বলেন, আইএলআরের জন্য ১০ বছরের পথ রাখা উচিত, তবে তা শুধু উচ্চ বেতনের কর্মীদের জন্য প্রযোজ্য হওয়া উচিত। তার মতে, নতুন করে কম বেতনের কর্মীদের যুক্তরাজ্যে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। বর্তমানে যারা অস্থায়ী কর্মভিসায় রয়েছেন, তাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হলে দেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য করা উচিত।

অন্যদিকে, রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজও একই ধরনের সমালোচনা করেছেন। তার দল আইএলআর ব্যবস্থা পুরোপুরি বাতিল করার পক্ষে।

ফারাজের অভিযোগ, আইএলআর নিয়ে লেবার পার্টির অভ্যন্তরে বিরোধ চলছে এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ নিজের দলের বামপন্থি অংশের কাছে রাজনৈতিকভাবে পরাজিত হচ্ছেন। তার দাবি, অ্যাঞ্জেলা রেনার বিদেশি নাগরিকদের প্রতি ‘ন্যায্য আচরণের’ যুক্তি তুলে ধরে আগের সরকারের নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

ফারাজ প্রশ্ন তোলেন, বিদেশি নাগরিকদের প্রতি ন্যায্য আচরণের কথা বলা হলেও ব্রিটিশ জনগণের স্বার্থ ও মতামতের গুরুত্ব কোথায়? তার মতে, অভিবাসনের চাপ সামলাতে গ্রাম, শহর ও নগরাঞ্চলের সাধারণ মানুষকে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। অথচ এ বিষয়ে জনগণের মতামত নেওয়া হচ্ছে না।

তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমান মন্ত্রিসভার এ ধরনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য নির্বাচনী ম্যান্ডেটও নেই। তার দল ব্রিটেনে নিট অভিবাসনের সংখ্যা শূন্যের নিচে নামানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

এদিকে, আইএলআর নীতিতে সরকারের চূড়ান্ত ঘোষণা ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হচ্ছে। বিশেষ করে কম বেতনের কর্মী, পরিচর্যা খাতের অভিবাসী এবং ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বিদেশি নাগরিকদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এমকে

আরো পড়ুন

গাজায় ইসরায়েলের হামলার বিরুদ্ধে লন্ডনে বিক্ষোভঃ ১২ জন গ্রেপ্তার

বন্ধ হতে পারে গোটা একটি টিউব লাইন!

প্রধানমন্ত্রীত্বের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ালেন বরিস জনসন

অনলাইন ডেস্ক