TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

শামিমা বেগমের নাগরিকত্ব বাতিল নিয়ে ইউরোপীয় আদালতের প্রশ্নঃ সিদ্ধান্তে অনড় যুক্তরাজ্য সরকার

ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালত (ইসিএইচআর) শামিমা বেগমের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। আদালত জানতে চেয়েছে, সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় তিনি মানবপাচার ও গ্রুমিংয়ের শিকার ছিলেন কি না এবং সেই প্রেক্ষিতে যুক্তরাজ্যের কোনো আইনি দায় ছিল কি না।

 

তবে যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই সিদ্ধান্ত দৃঢ়ভাবে রক্ষা করবেন এবং জাতীয় নিরাপত্তাই তাদের প্রধান বিবেচ্য।

সরকারি সূত্রের দাবি, শামিমা বেগমের নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত একাধিকবার যুক্তরাজ্যের আদালতে পরীক্ষা করা হয়েছে এবং প্রতিবারই তা বৈধ বলে রায় এসেছে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে, ফলে ইউরোপীয় আদালতের নতুন করে হস্তক্ষেপকে তারা অপ্রয়োজনীয় মনে করছে।

শামিমা বেগমের বয়স ছিল মাত্র ১৫ বছর, যখন তিনি ২০১৫ সালে পূর্ব লন্ডনের বেথনাল গ্রিন এলাকা থেকে দুই স্কুলবন্ধুর সঙ্গে সিরিয়ায় যান। সে সময় ওই এলাকা ছিল ইসলামিক স্টেট (আইএস) গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে। সেখানে পৌঁছে তিনি এক আইএস যোদ্ধাকে বিয়ে করেন এবং পরবর্তীতে তিন সন্তানের জন্ম দেন, যাদের কেউই বেঁচে ছিল না।

জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি বিবেচনায় ২০১৯ সালে তার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়। সরকারের যুক্তি ছিল, তিনি বংশগতভাবে বাংলাদেশের নাগরিক হওয়ায় এই সিদ্ধান্তে তিনি রাষ্ট্রহীন হবেন না। ২০২০ সালে একটি ট্রাইব্যুনালও একই যুক্তিতে নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে।

ইসিএইচআরে দায়ের করা মামলায় শামিমা বেগম ইউরোপীয় মানবাধিকার কনভেনশনের ৪ নম্বর অনুচ্ছেদ—দাসত্ব ও জোরপূর্বক শ্রম নিষিদ্ধ—লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছেন। আদালত বিশেষভাবে জানতে চেয়েছে, নাগরিকত্ব বাতিলের আগে স্বরাষ্ট্রসচিবের কি এটি বিবেচনা করা উচিত ছিল যে তিনি মানবপাচারের শিকার একটি শিশু ছিলেন।

শামিমা বেগমের আইনজীবী গ্যারেথ পিয়ার্স বলেন, ১৫ বছর বয়সী একটি মেয়েকে প্রলুব্ধ ও প্রতারিত করে যৌন শোষণের উদ্দেশ্যে আইএস নিয়ন্ত্রিত এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল—এ বিষয়টি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তার বক্তব্য, শিশুটিকে রক্ষা করতে রাষ্ট্র একাধিক ধাপে ব্যর্থ হয়েছে, বিশেষ করে যখন একই পথে তার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু আগেই সিরিয়ায় নিখোঁজ হয়েছিল।

বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টি কড়া অবস্থান নিয়েছে। দলটির দাবি, শামিমা বেগমকে কোনো অবস্থাতেই যুক্তরাজ্যে ফিরতে দেওয়া উচিত নয়। ছায়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস ফিলিপ বলেন, তিনি নিজের ইচ্ছায় সহিংস চরমপন্থীদের সমর্থন করতে গিয়েছিলেন এবং সুপ্রিম কোর্ট ইতোমধ্যেই নাগরিকত্ব বাতিলকে বৈধ ঘোষণা করেছে।

ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতের এই পদক্ষেপ নতুন করে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় মানবাধিকার কাঠামোর মধ্যে টানাপোড়েন সৃষ্টি করেছে। একদিকে জাতীয় নিরাপত্তা, অন্যদিকে মানবপাচার ও শিশুর অধিকার—এই দুইয়ের সংঘাতে শামিমা বেগম মামলা এখন আন্তর্জাতিক আইনি ও রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে।

সূত্রঃ বিবিসি

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে ভিসা কঠোরতার ধাক্কা: পাকিস্তান–বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ভর্তিতে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা

ব্রিটেনে নতুন করে আরো ৩০ হাজার ৩০১ জন করোনায় আক্রান্ত

যুক্তরাজ্যের প্রতিটি পরিবার ৪০০ পাউন্ড জ্বালানি ছাড় পাবে