উত্তর লন্ডনে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমে যাওয়ায় চারটি স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে স্কুলগুলো রক্ষায় অভিভাবকেরা প্রচারাভিযান শুরু করেছেন। লন্ডনের ক্যামডেন কাউন্সিল তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে জনমত গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, সব প্রক্রিয়া শেষে স্কুলগুলো বন্ধ হলে ২০২৭ সালের শরৎকাল থেকে তা কার্যকর হতে পারে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম মাই লন্ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার ক্যামডেন কাউন্সিলের মন্ত্রিসভা স্কুলগুলোর কাঠামোগত পরিবর্তন নিয়ে ছয় সপ্তাহের পরামর্শ প্রক্রিয়া শুরুর অনুমোদন দেয়। প্রস্তাবের আওতায় রয়েছে তিনটি ক্যাথলিক স্কুল—কভেন্ট গার্ডেনের সেন্ট জোসেফস, কেন্টিশ টাউনের সেন্ট প্যাট্রিকস এবং হাইগেটের লা সাঁতে ইউনিয়ন ক্যাথলিক স্কুল। এ ছাড়া হলবর্নের সেন্ট অ্যালবানস চার্চ অব ইংল্যান্ড স্কুলও বন্ধের ঝুঁকিতে রয়েছে।
অভিভাবক আন্দ্রেইয়া মোরেইরার মেয়ে লা সাঁতে ইউনিয়ন ক্যাথলিক স্কুলে পড়ে। তিনি বলেন, স্কুলটি বন্ধ হয়ে গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেছে নেওয়ার সুযোগ হারাবে। কয়েক প্রজন্ম ধরে স্কুলটি স্থানীয় সম্প্রদায়ের অংশ হিসেবে মেয়েদের শুধু পরীক্ষার ফলাফল নয়, আত্মসম্মান, আচরণ ও অর্জনের মূল্যবোধ শেখাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ক্যামডেনের মাধ্যমিক স্কুলগুলোর মধ্যে লা সাঁতে ইউনিয়নে সপ্তম থেকে একাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আসন খালি রয়েছে। স্কুলটির মোট আসনের ৬৩ শতাংশই অব্যবহৃত ছিল। অন্যদিকে, ক্যামডেনের স্কুলগুলোতে সামগ্রিকভাবে খালি আসনের হার ১৫ দশমিক ১ শতাংশ। গত তিন বছরে সেন্ট জোসেফস স্কুলের রিসেপশন শ্রেণিতে গড়ে মাত্র ১৩ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে।
কাউন্সিলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্যামডেন এলাকায় জন্মহার কমে যাওয়ায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। ২০১৫ সালের তুলনায় সেখানে জন্মহার ২৭ শতাংশ কমেছে, যা লন্ডনের সামগ্রিক ২০ শতাংশ হ্রাসের চেয়ে বেশি। পাশাপাশি পরিবারগুলোর লন্ডন ছেড়ে অন্য এলাকায় চলে যাওয়াও এ সংকটকে আরও বাড়িয়েছে।
ক্যামডেন কাউন্সিলের শিশু ও পরিবারবিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য মার্কাস বয়ল্যান্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারি অর্থায়ন শিক্ষার্থীর সংখ্যার ওপর নির্ভর করে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রতিটি খালি আসনের কারণে বছরে আনুমানিক ৭ হাজার ৫০০ পাউন্ড এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৯ হাজার ৭০০ পাউন্ড পর্যন্ত সরকারি অর্থায়ন হারাতে হয়।
স্কুল বন্ধের বিকল্প হিসেবে অভিভাবকেরা একাধিক প্রস্তাব দিয়েছেন। সেন্ট প্যাট্রিকস স্কুলের অভিভাবকদের পক্ষে অ্যাগনেস পানাসিউক স্কুলগুলোর মধ্যে আনুষ্ঠানিক ফেডারেশন গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। এ ব্যবস্থায় একাধিক স্কুল একই পরিচালনা পর্ষদের অধীনে কাজ করলেও নিজেদের নাম, বাজেট ও স্বতন্ত্র পরিচয় বজায় রাখতে পারে। তার মতে, এতে পরিচালন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি স্কুলগুলো চালু রাখার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে, লা সাঁতে ইউনিয়নের সাবেক শিক্ষার্থী জেনিফার ওফোডিলে স্কুলটির সঙ্গে কাছাকাছি অবস্থিত উইলিয়াম এলিস স্কুলের আনুষ্ঠানিক একীভূতকরণের প্রস্তাব দিয়েছেন। তার মতে, শুধু প্রশাসনিক ব্যয় ভাগাভাগি করে সমস্যার সমাধান হবে না। লা সাঁতে ইউনিয়ন স্কুলের ঘাটতি বর্তমানে ১২ লাখ পাউন্ড, যা ২০২৯ সালের মধ্যে ৬৫ লাখ পাউন্ডে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
তবে লা সাঁতে ইউনিয়নকে ছেলেদের স্কুলের সঙ্গে একীভূত করে সহশিক্ষা চালুর বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন অভিভাবক মোরেইরা। তার মতে, স্কুলটির স্বতন্ত্র পরিচয় ও মেয়েদের জন্য আলাদা শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখা জরুরি। তিনি স্কুলটি বন্ধের পরিবর্তে বাস্তবসম্মত বিকল্প খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়েছেন। স্কুলটি রক্ষায় তার শুরু করা অনলাইন আবেদনে প্রায় ২ হাজার ৯০০ জন স্বাক্ষর করেছেন।
কাউন্সিলের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য মার্কাস বয়ল্যান্ড জানিয়েছেন, মঙ্গলবারের বৈঠকে কোনো স্কুল বন্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, স্কুল বন্ধ এড়ানো সম্ভব হলে কাউন্সিল তা করার চেষ্টা করবে। অভিভাবক ও শিক্ষকদের দেওয়া ফেডারেশন বা অংশীদারত্বের প্রস্তাবগুলোও বিবেচনা করা হবে।
কাউন্সিলের ‘স্ট্রং অ্যান্ড সাসটেইনেবল স্কুলস’ শীর্ষক পরামর্শ প্রক্রিয়া ২ নভেম্বর শুরু হয়ে ১৪ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা। এরপর স্কুল বন্ধের প্রস্তাব এগিয়ে নেওয়া হলে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে অর্ধমেয়াদি ছুটির পর চার সপ্তাহের একটি বিধিবদ্ধ মতামত গ্রহণের সময় রাখা হবে। ওই সময়ে স্কুল, অভিভাবক, পরিচর্যাকারী ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষ তাদের মতামত জানাতে পারবেন।
সূত্রঃ মাই লন্ডন
এমকে

