লন্ডনে শিশুদের বেড়ে ওঠার জন্য ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় সবচেয়ে প্রতিকূল এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে পশ্চিম লন্ডনের হাউনসলো। ইংল্যান্ডের শিশু বিষয়ক কমিশনারের প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা, টিকাদান, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা ও যুবসেবার ঘাটতির কারণে এলাকাটির অবস্থান এত নিচে নেমেছে। তালিকায় হাউনসলোর চেয়ে খারাপ অবস্থানে রয়েছে উত্তর-পূর্ব ইংল্যান্ডের মিডলসব্রো।
হাউনসলোর শিশুদের নিয়মিত হাম, মাম্পস ও রুবেলা (এমএমআর) টিকা নেওয়ার হার মাত্র ৭০ দশমিক ৮ শতাংশ। এ ক্ষেত্রে ইংল্যান্ডের ১৩২টি স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে এলাকাটি। প্রতি ১০ জনের মধ্যে একজনেরও বেশি শিশু প্রয়োজনের সময় ভালো স্বাস্থ্যসেবা পায় না বলে জানিয়েছে গবেষণা। এ সূচকে ১৫৩টি এলাকার মধ্যে হাউনসলোর অবস্থান ১৪৬তম।
এলাকাটিতে শূন্য থেকে ১৯ বছর বয়সীদের মৃত্যুহার প্রতি ১০ হাজারে ৬ দশমিক ০৭, যা দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ। এ সূচকে ১৫৩টি এলাকার মধ্যে হাউনসলোর অবস্থান ১৪৯তম। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তার জন্য কোনো ড্রপ-ইন কেন্দ্র, শিশুদের শোক মোকাবিলায় বিশেষায়িত সেবা কিংবা বিশেষ শিক্ষাগত চাহিদা ও প্রতিবন্ধিতা থাকা শিশুদের জন্য নির্দিষ্ট সহায়তা গোষ্ঠী নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গবেষণায় সুলা নামের ছয় বছর বয়সী এক শিশুর অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। তার মা জানতেন, শিশুর টিকা নেওয়া জরুরি। কিন্তু গণপরিবহনে টিকাদান কেন্দ্রে পৌঁছাতে না পারা এবং কী ধরনের সহায়তা পাওয়া যায়, সে সম্পর্কে তথ্যের অভাবে তিনি মেয়েকে সময়মতো টিকা দিতে পারেননি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাউনসলোর অনেক পরিবারের জন্যই এ ধরনের সমস্যা রয়েছে।
তবে শিশুদের পড়াশোনার ফলাফলে হাউনসলোর অবস্থান তুলনামূলক ভালো। ইংরেজি ও গণিতে জিসিএসই পরীক্ষায় গ্রেড ৫ বা তার বেশি পেয়েছে ৫২ দশমিক ৬ শতাংশ শিক্ষার্থী। এ ক্ষেত্রে ইংল্যান্ডের ২৬তম অবস্থানে রয়েছে এলাকাটি। ১৬ ও ১৭ বছর বয়সীদের মধ্যে শিক্ষা, চাকরি বা প্রশিক্ষণের বাইরে রয়েছে মাত্র ১ দশমিক ৪ শতাংশ। এ ছাড়া মাত্র ১২ দশমিক ৪ শতাংশ শিশু জানিয়েছে, তারা স্কুলে যেতে পছন্দ করে না। এই সূচকে ইংল্যান্ডে তৃতীয় সেরা অবস্থানে রয়েছে হাউনসলো।
যুবসেবার ক্ষেত্রেও বড় ঘাটতির চিত্র উঠে এসেছে। হাউনসলোতে কিশোর-কিশোরীদের পেছনে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ব্যয় জনপ্রতি বছরে ৬৫ পাউন্ড ৯০ পেন্স। অথচ ইংল্যান্ডে জাতীয় মধ্যম ব্যয় ৯২ পাউন্ড। এলাকাটিতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পরিচালিত কোনো যুবকেন্দ্র, যুব ক্লাব বা যুব কার্যক্রমের কেন্দ্র নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এলজিবিটিকিউ+ এবং জিপসি, রোমা ও ট্রাভেলার সম্প্রদায়ের শিশুদের জন্যও নির্দিষ্ট যুব সহায়তা গোষ্ঠী নেই।
এ ছাড়া সরকারি তত্ত্বাবধানে থাকা শিশুদের ৬৫ শতাংশের বেশি হাউনসলোর বাইরে রাখা হয়েছে। এলাকার ১০ দশমিক ৩ শতাংশ শিশুকে বছরের মাঝপথে এক বা একাধিকবার স্কুল পরিবর্তন করতে হয়। শিশুদের যৌন সহিংসতার শিকার হওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষায়িত স্বাধীন পরামর্শদাতা এবং সরকারি তত্ত্বাবধানে থাকা শিশুদের প্রতিনিধিত্বকারী পরিষদও নেই বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
হাউনসলো কাউন্সিলের শিশু ও তরুণদের ভবিষ্যৎবিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত ক্যাবিনেট সদস্য কাউন্সিলর মাদিহা আসিম বলেছেন, প্রতিটি শিশুরই ভালোভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগ পাওয়া উচিত। তার মতে, প্রতিটি এলাকার সমস্যা আলাদা এবং কোনো একক সংস্থার পক্ষে একা সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, এই তালিকা কাউন্সিলগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক র্যাঙ্কিং নয়; বরং কোথায় কী ধরনের ঘাটতি রয়েছে, তা শনাক্ত করে নীতিনির্ধারণ ও স্থানীয় পর্যায়ে পদক্ষেপ নিতে সহায়তা করার একটি উপায়। শিশু ও পরিবারকে সহায়তা এবং স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও শিশুদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাউন্সিলের চার বছর মেয়াদি পরিকল্পনার প্রতিও তিনি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
সূত্রঃ মাই লন্ডন
এমকে

