রাজধানীতে পৃথক দুটি ঘটনায় আলোচনায় এসেছেন শেখ হাসিনার সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ও দৈনিক অবজারভার পত্রিকার সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরী এবং চিত্রনায়িকা পরীমনি। বুধবার (৪ নভেম্বর) ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। একই দিন ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় পরীমনির জামিন বাতিল করে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে রাজধানীর মহাখালীর একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের কার্যালয় থেকে বুধবার দুপুরে আটক করা হয়। ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়েছে।
তবে কী অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি এই পুলিশ কর্মকর্তা। কোনো নির্দিষ্ট মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে কি না, সেটিও এখনো স্পষ্ট করা হয়নি।
এর আগে গত ১৫ এপ্রিল পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যাওয়ার সময় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেদিন সৌদি এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তার জেদ্দা যাওয়ার কথা ছিল।
অন্যদিকে, ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় বুধবার চিত্রনায়িকা পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রাহমান।
আদালত সূত্রে জানা যায়, এদিন মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য ছিল। শুনানির সময় বাদীপক্ষ আসামিদের জামিন বাতিলের আবেদন করে। অন্যদিকে, পরীমনির আইনজীবী সময় চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, অ্যালার্জিজনিত রোগে আক্রান্ত থাকায় তিনি আদালতে হাজির হতে পারেননি।
পরে বাদীপক্ষের আবেদন মঞ্জুর করে আদালত পরীমনির জামিন বাতিল করেন এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন।
এর আগে গত বছরের ২৬ জানুয়ারি এ মামলায় পরীমনির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিলেন আদালত। ওই দিনও তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তিনি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. মনির হোসেন ২০২৪ সালে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে পরীমনি এবং তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমের বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। তবে আরেক আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।
পরবর্তীতে ঢাকার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করেন এবং পরীমনি ও তার কস্টিউম ডিজাইনারকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেন। ২০২৪ সালের ২৫ জুন তারা আদালতে হাজির হয়ে জামিন পান।
সূত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক
এমকে

