বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশ হিসেবে পরিচিত ফিনল্যান্ড এবার আন্তর্জাতিক পর্যটন প্রচারণায় যুক্ত করেছে ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অবিবাহিত নারী-পুরুষকে বিনামূল্যে ফিনল্যান্ড ভ্রমণের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। উদ্দেশ্য শুধু দেশটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, খাবার ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া নয়; পাশাপাশি স্থানীয় অবিবাহিতদের সঙ্গে পরিচয় এবং সম্ভাব্য জীবনসঙ্গী খুঁজে পাওয়ার সুযোগ তৈরি করা।
ফিনল্যান্ডের পর্যটন সংস্থা ‘ভিজিট ফিনল্যান্ড’ এই বিশেষ আয়োজনের নাম দিয়েছে ‘ফিনিশ ডিনার ডেট’। ২০২৭ সালের ৯ থেকে ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে এই আয়োজন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মোট ১৬ জন অবিবাহিত ব্যক্তিকে বাছাই করে আমন্ত্রণ জানানো হবে। নির্বাচিত অংশগ্রহণকারীদের ভ্রমণের সব খরচ বহন করা হবে বলে জানিয়েছে আয়োজকরা।
এই আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ হবে বিশেষ গ্রুপ ডিনার ডেট। ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাজধানী হেলসিংকি এবং লেকল্যান্ড অঞ্চলের তাম্পেরে শহরে আন্তর্জাতিক অতিথিরা স্থানীয় ফিনিশ অবিবাহিত নারী-পুরুষদের সঙ্গে সরাসরি পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবেন। খাবারের টেবিলে একসঙ্গে সময় কাটানো, কথোপকথন এবং সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে নতুন সম্পর্ক গড়ে তোলাই এই আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।
অংশগ্রহণকারীদের জন্য থাকছে ফিনল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী খাবারের বিশেষ আয়োজন। দেশটির প্রকৃতিতে পাওয়া বুনো মাছ, বিভিন্ন ধরনের বেরি এবং বন থেকে সংগ্রহ করা মাশরুমসহ স্থানীয় উপাদানে তৈরি খাবার পরিবেশন করা হবে। ফিনল্যান্ডের শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন শেফ এসব খাবারের বিশেষ মেনু তৈরি করবেন। এর মাধ্যমে বিদেশি অতিথিরা দেশটির স্বতন্ত্র খাদ্যসংস্কৃতি সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবেন।
বিজনেস ফিনল্যান্ডের আন্তর্জাতিক বিপণন বিভাগের জ্যেষ্ঠ পরিচালক হেলি হিমেনেজ এক সরকারি বিবৃতিতে বলেন, ফিনিশ খাবার দেশটির সুখী জীবনযাত্রার একটি সরাসরি প্রতিফলন। খাবারের মাধ্যমে মানুষ নিজেদের স্থান, ঋতু এবং আশপাশের মানুষের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করে। খাবার ফিনিশ সমাজের মানুষকে একত্রিত করে। এবার ভ্রমণকারীদের সম্পূর্ণ ভিন্ন ও ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতার মাধ্যমে সেই সংস্কৃতির অংশ হওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে।
এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে ফিনল্যান্ডে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা একটি নতুন ডেটিং প্রবণতা, যার নাম ‘সিঙ্গল বাস্কেট’ বা ‘সিঙ্ককোরি’। দেশটির বেশ কয়েকটি সুপারমার্কেট চেইন অবিবাহিত ক্রেতাদের জন্য বিশেষ গোলাপি রঙের শপিং ঝুড়ি চালু করেছে। এসব ঝুড়ি ব্যবহার করে অবিবাহিত ব্যক্তিরা নিজেদের একক থাকার বিষয়টি অন্যদের কাছে সহজভাবে প্রকাশ করতে পারেন। একই সঙ্গে এটি নতুন মানুষের সঙ্গে কথা বলা কিংবা ডেটিংয়ে আগ্রহ প্রকাশের একটি অনানুষ্ঠানিক মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে।
ফিনল্যান্ডের পর্যটন বিভাগ মনে করছে, এই সামাজিক প্রবণতাকে আন্তর্জাতিক পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করার মাধ্যমে দেশটির জন্য নতুন ধরনের পর্যটন অভিজ্ঞতা তৈরি করা সম্ভব। বিশেষ করে খাবার, সংস্কৃতি এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের সমন্বয়ে এই আয়োজন অন্য প্রচলিত পর্যটন কর্মসূচি থেকে আলাদা।
পর্যটন বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, ইতালীয়, চীনা ও অন্যান্য দেশের খাবার বিশ্বজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি পেলেও ফিনিশ খাবার এখনো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত। অথচ দেশটির বনজ সম্পদ, স্থানীয় উপাদান এবং ঋতুভিত্তিক খাবারের রয়েছে নিজস্ব ঐতিহ্য। সনা থেকে শুরু করে বন থেকে খাবার সংগ্রহের সংস্কৃতি—সবকিছু মিলিয়ে ফিনল্যান্ডের খাদ্যজগৎ বিদেশি পর্যটকদের সামনে তুলে ধরতে চায় দেশটি।
হেলি হিমেনেজ আরও বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশে এসে অংশগ্রহণকারীরা হয়তো নতুন ভালোবাসার সন্ধান পাবেন। সেই ভালোবাসা হতে পারে কোনো মানুষের প্রতি, ফিনল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী খাবারের প্রতি, কিংবা দেশটির প্রতি, যা ভবিষ্যতে তাদের প্রিয় ভ্রমণ গন্তব্য হয়ে উঠতে পারে।
সব মিলিয়ে ফিনল্যান্ডের এই উদ্যোগ কেবল অবিবাহিতদের জন্য একটি বিনামূল্যের ভ্রমণ আয়োজন নয়; বরং আন্তর্জাতিক পর্যটন, স্থানীয় সংস্কৃতি এবং মানুষের মধ্যে নতুন সম্পর্ক তৈরির একটি অভিনব প্রচেষ্টা। তবে এই আয়োজনে অংশ নিতে হলে আগ্রহীদের নির্বাচিত হতে হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১৬ জনকে নিয়ে আয়োজনটি হওয়ায় প্রতিযোগিতাও থাকতে পারে।
সূত্রঃ এনডিটিভি\ ফোর্বস \ ফিনল্যান্ডের পর্যটন সংস্থা ভিজিট ফিনল্যান্ডের উদ্ধৃত সরকারি বিবৃতি।
এমকে

