বারো ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে গঠিত হতে যাওয়া প্রথম মন্ত্রিসভার আকার ও চেহারা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে। দলীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, এই মন্ত্রিসভা ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে ছোট হতে যাচ্ছে।
বিএনপি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা কমিয়ে ত্রিশের নিচে নামিয়ে আনার চিন্তা করা হচ্ছে। বর্তমানে সরকারের ৪৩টি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে যেগুলো গত দেড় দশকে ভেঙে আলাদা করা হয়েছিল, সেগুলোর কয়েকটি একীভূত করে আগের কাঠামোয় ফেরানোর পরিকল্পনা রয়েছে। একই খাতভিত্তিক মন্ত্রণালয়কে এক ছাতার নিচে আনার বিষয়টিও আলোচনায় আছে; এতে সড়ক পরিবহন ও রেল মন্ত্রণালয় একীভূত হতে পারে।
দলটির ধারণা, মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা কমলে সরকারের কাজের গতি বাড়বে এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সহজ হবে। সেই সঙ্গে নবীন ও প্রবীণ নেতাদের সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ মন্ত্রিসভা গঠনের দিকেই ঝুঁকছে বিএনপি। নিজ দলের বাইরে ভোটে জয়ী সমমনা দলগুলোর প্রতিনিধিদেরও মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে আভাস দিয়েছেন সিনিয়র নেতারা।
নতুন মন্ত্রিসভায় নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। দলীয় সূত্র বলছে, পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে প্রায় দুই ডজন নেতা থাকতে পারেন, পাশাপাশি এক ডজনের মতো প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী রাখার সম্ভাবনাও রয়েছে।
আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের কথা রয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন সকাল ১০টায় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে শপথ পড়াবেন। একইদিন বিকেলে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন শপথ পাঠ করাবেন।
শপথ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফসহ বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান, সার্কভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ঢাকায় নিযুক্ত কূটনীতিকদের আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।
মন্ত্রিসভায় জায়গা পেতে আলোচনায় থাকা সিনিয়র নেতাদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, মির্জা আব্বাস, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু।
নারী নেত্রীদের মধ্যে আলোচনায় আছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, যিনি ফরিদপুর–২ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন।
তরুণ নেতাদের মধ্যে প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী হিসেবে জায়গা পেতে পারেন বলে আলোচনায় রয়েছেন লক্ষ্মীপুর সদর থেকে নির্বাচিত শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, টাঙ্গাইল–৫ থেকে জয়ী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং ঢাকা–৬ আসনের বিজয়ী ইশরাক হোসেন।
মিত্র দলের নেতাদের মধ্যে ধানের শীষ প্রতীকে জয়ী ববি হাজ্জাজ ও শাহাদাত হোসেন সেলিম-এর নামও প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দল থেকে জয়ী আন্দালিভ রহমান পার্থ, জোনায়েদ সাকি এবং নুরুল হক নুর-এরও মন্ত্রিসভায় ডাক পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে, যেসব সিনিয়র নেতা মন্ত্রিসভায় স্থান পাচ্ছেন না, তাদের কেউ কেউ প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিষদে অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন। এ ক্ষেত্রে স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান-কে তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা করার চিন্তাভাবনা চলছে।
শেষ পর্যন্ত কারা মন্ত্রিসভায় জায়গা পাচ্ছেন এবং কে কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিচ্ছেন—তা আগামী মঙ্গলবার শপথ অনুষ্ঠানের পরই স্পষ্ট হবে।
সূত্রঃ বিবিসি বাংলা
এম.কে

