সিলেটকে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান শাকসবজি রপ্তানি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, আধুনিক প্যাকেজিং ব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন উৎপাদন, কৃষকদের প্রশিক্ষণ এবং ট্রেসেবিলিটি নিশ্চিত করা গেলে সিলেট দেশের রপ্তানি খাতে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।
শুক্রবার জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষে সিলেট সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে যে পরিমাণ শাকসবজি বিদেশে রপ্তানি হয়, তার প্রায় অর্ধেকই সিলেট অঞ্চল থেকে যায়। কিন্তু আধুনিক প্যাকেজিং অবকাঠামোর অভাবে রপ্তানি কার্যক্রম নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। এ সমস্যা সমাধানে সিলেটে একটি আধুনিক প্যাকেজিং সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “সিলেট থেকে শাকসবজি রপ্তানির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে কৃষকদের আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন উৎপাদন পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি ট্রেসেবিলিটি ব্যবস্থা চালু করা হবে, যাতে বিদেশি বাজারে পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা ও আস্থা আরও বাড়ে। ইনশাআল্লাহ, সিলেটের প্যাকেজিং সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হবে।”
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার মানবসম্পদ উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। সে লক্ষ্যেই সরকারের প্রথম বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। ভবিষ্যতে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশ শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলে তিনি জানান।
তিনি বলেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো হলে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি হবে, যা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
চা বাগান এলাকায় শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতির বিষয়টিও তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমানে অনেক চা বাগানে কার্যকর কোনো বিদ্যালয় নেই। এ সংকট দূর করতে সরকার একটি বিশেষ প্রকল্প হাতে নিয়েছে, যার আওতায় সাতটি নতুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণ করা হবে।
এছাড়া চা বাগানের শ্রমিক ও তাদের পরিবারের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কয়েকটি বাগান নিয়ে ক্লাস্টার গঠন করে সেখানে অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সুধীজন উপস্থিত ছিলেন। পরে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতিত্ব অর্জনকারী শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া
এম.কে

