TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

স্টারশিপ বিস্ফোরণে তুর্কস অ্যান্ড কাইকোস দ্বীপে কম্পনঃ তদন্তে নেমেছে মার্কিন প্রশাসন

মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) এবং তুর্কস অ্যান্ড কাইকোস দ্বীপপুঞ্জের কর্মকর্তারা স্পেসএক্সের স্টারশিপ রকেট বিস্ফোরণের ঘটনায় যৌথ তদন্ত শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার টেক্সাস থেকে উৎক্ষেপিত এই রকেট আট মিনিট পর বাহামাসের আকাশে বিস্ফোরিত হয়। এর ফলে উত্তর ক্যারিবিয়ান দ্বীপের আকাশজুড়ে জ্বলন্ত ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়ে এবং বেশ কিছু এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটের পথ পরিবর্তন করতে হয়।

এফএএ জানায়, তুর্কস অ্যান্ড কাইকোস দ্বীপে জনগণের কোনো শারীরিক ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

তবে, জনসাধারণের সম্পত্তির ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি নিশ্চিত করতে স্পেসএক্স ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছে এফএএ।

দক্ষিণ ও উত্তর কাইকোস দ্বীপের বাসিন্দারা ভয়াবহ কম্পনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা ভেলেইরি আরটিলেস জানান, আমার দেয়াল ও আয়না কাঁপছিল।

মনে হচ্ছিল, বিমানের মতো কোনো কিছু কানের ভেতর গুঞ্জন তুলছে। অপর একজন বাসিন্দা ইবালোর ক্যালুসিন বলেন, এটি ভূমিকম্পের মতো ছিল। সবাই আতঙ্কিত হয়ে অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বেরিয়ে পার্কিং লটে চলে আসেন।

জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সিসমোলজি গবেষক বেঞ্জামিন ফার্নান্দো জানান, ধ্বংসাবশেষ শব্দের গতিবেগ অতিক্রম করার সময় প্রচণ্ড আওয়াজ তৈরি করে।

এই কম্পন প্রায় ১০ মিলিমিটার প্রতি সেকেন্ড ছিল, যা একটি ক্ষুদ্র ভূমিকম্পের মতো।

স্পেসএক্সের রকেটটি স্যাটেলাইট বহন করছিল এবং এটি উপকক্ষীয় কক্ষপথে পৌঁছে ভারত মহাসাগরের ওপর অবতরণের কথা ছিল। কিন্তু সুপার হেভি বুস্টার থেকে সফলভাবে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর স্টারশিপের পেছনের অংশে আগুন ধরে যায়। এর ফলে রকেটটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দ্রুত ধ্বংস হয়ে যায়।

স্পেসএক্স জানিয়েছে, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, স্টারশিপের পেছনের অংশে আগুন ধরে দ্রুত অপ্রত্যাশিত ধ্বংস প্রক্রিয়া শুরু হয়।

তুর্কস অ্যান্ড কাইকোস দ্বীপের রাজকীয় পুলিশ কমিশনার ফিটজ বেইলি জানিয়েছেন, স্টারশিপ বিস্ফোরণ নিয়ে একটি বহুমুখী তদন্ত চলছে। তবে ধ্বংসাবশেষ থেকে সম্পদের ক্ষতির বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এই ঘটনা স্পেসএক্সের জন্য বড় ধরনের ধাক্কা। নতুন প্রযুক্তি ও স্যাটেলাইট ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে যে পরীক্ষা চালানো হচ্ছিল, তা বিস্ফোরণের ফলে ব্যর্থ হয়ে যায়। বিশ্বের প্রথম বেসরকারি রকেট উৎক্ষেপণকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্পেসএক্সের ওপর দৃষ্টি রাখছেন সবাই।

সূত্রঃ রয়টার্স

এম.কে
১৮ জানুয়ারি ২০২৫

আরো পড়ুন

রাশিয়ান বিমানকে এস্তোনিয়ান আকাশসীমার ন্যাটোর হুমকি

নিউজ ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালকের পদ ছাড়ছেন তুলসী গ্যাবার্ড

কেনিয়ায় হাজার হাজার মূল্যবান রানী পিঁপড়া পাচারকালে আটক ৪