11.8 C
London
October 16, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজডুবিঃ সাগরে ভাসছে আইফোন ও দামি পারফিউমের বোতল

হরমুজ প্রণালিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মালিকানাধীন একটি পণ্যবাহী জাহাজ ডুবে যাওয়ার পর সাগরে ভাসতে দেখা গেছে আইফোনের বাক্স ও দামি সুগন্ধির প্যাকেট। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ছোট নৌকায় থাকা কয়েকজনকে সাগরে ভাসমান পণ্য সংগ্রহ করতে দেখা যায়। জাহাজটি কী কারণে ডুবেছে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ইরানের পক্ষ থেকে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী ‘জিএফএস প্রাইড’ নামের জাহাজটি দুবাই থেকে পণ্য নিয়ে যাচ্ছিল। বুধবার একটি অজ্ঞাত প্রজেক্টাইলের আঘাতে জাহাজটিতে আগুন ধরে যায় এবং পরে এটি ডুবে যায় বলে সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। সিঙ্গাপুরের সামুদ্রিক ও বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটিতে থাকা ২১ জন নাবিককেই নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় কেউ আহত হননি।

তবে জাহাজডুবির কারণ নিয়ে ভিন্ন দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। তাদের দাবি, অনুমোদনহীন পথে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় জাহাজটি নৌমাইনে আঘাত পেয়ে ডুবে যায়। ফলে জাহাজটি প্রজেক্টাইলের আঘাতে, নাকি নৌমাইনের বিস্ফোরণে ডুবেছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য সান’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাহাজটিতে প্রায় আড়াই হাজার কনটেইনার ছিল। এসব কনটেইনারে আইফোন, বিলাসবহুল সুগন্ধি ও অন্যান্য পণ্য পরিবহন করা হচ্ছিল। জাহাজটি ডুবে যাওয়ার পর এসব পণ্যের কিছু সাগরে ভেসে থাকতে দেখা যায়। তবে কত পরিমাণ পণ্য হারিয়েছে বা কী পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশের জলসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলার ঘটনা বেড়েছে। যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তাবিষয়ক সংস্থা ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছে, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ড্রোন হামলাসহ অন্তত পাঁচটি ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে ধারাবাহিক নিরাপত্তা ঝুঁকি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

এর আগে পৃথক ঘটনায় অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার পতাকাবাহী ‘কেপ দাও’ নামের একটি পণ্যবাহী জাহাজও ডুবে যায়। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৩ সেপ্টেম্বর প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত ওই জাহাজটির একজন নাবিক নিহত হন। অন্য নাবিকদের উদ্ধার করে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো। ফলে এখানে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, পরিবহন ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দামের ওপর প্রভাব পড়তে পারে।

ইরানের দাবি, দেশটির বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ এবং নতুন নিষেধাজ্ঞার জবাবে হামলা বাড়ানো হচ্ছে।

সূত্রঃ ইন্ডিয়া টুডে\ দ্য সান \ রয়টার্স

এমকে

আরো পড়ুন

মার্কিন নাগরিকত্ব রেখে অন্য দেশের নীতিনির্ধারণে অংশ নেওয়া যাবে না

মক্কায় পর্যটন বিধি লঙ্ঘনের দায়ে ২৫ হোটেল বন্ধ, সৌদি কর্তৃপক্ষের কড়া পদক্ষেপ

জাপানে ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, সুনামির সতর্কতা জারি