ব্রিটেনে ১৭৩ বছরের পুরোনো ব্যাংক ব্র্যান্ড হ্যালিফ্যাক্সের অনলাইন ব্যাংকিং অ্যাপ বন্ধের প্রক্রিয়া আগামীকাল ৫ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে। লয়েডস ব্যাংকের সঙ্গে ব্র্যান্ড একীভূত করার অংশ হিসেবে ধাপে ধাপে হ্যালিফ্যাক্সের ডিজিটাল সেবা বন্ধ করে দেওয়া হবে।
দ্য সানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হ্যালিফ্যাক্স গ্রাহকদের গত সেপ্টেম্বরেই ই-মেইলের মাধ্যমে এ পরিবর্তনের বিষয়ে জানানো হয়েছিল। সেখানে বলা হয়, ৫ অক্টোবর থেকে হ্যালিফ্যাক্স অ্যাপ বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু হবে। ৩১ অক্টোবর অ্যাপটি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়ে যাবে এবং ১ নভেম্বর থেকে এর মাধ্যমে ডিজিটাল ব্যাংকিং সুবিধা আর পাওয়া যাবে না।
হ্যালিফ্যাক্সের গ্রাহকদের অনলাইন ব্যাংকিং চালিয়ে যেতে লয়েডস ব্যাংকের অ্যাপ ব্যবহার করতে হবে। বর্তমান হিসাব, সঞ্চয়ী হিসাব, বন্ধকী ঋণ, ক্রেডিট কার্ড, ঋণ এবং বিমাসহ বিভিন্ন ব্যাংকিং সেবা লয়েডসের অ্যাপের মাধ্যমে পরিচালনা করা যাবে।
ব্যাংকের পক্ষ থেকে গ্রাহকদের জানানো হয়েছে, হ্যালিফ্যাক্স থেকে লয়েডসের অ্যাপে স্থানান্তরের প্রক্রিয়াটি কয়েকটি ধাপেই সম্পন্ন করা যাবে। গ্রাহকদের আগে থেকে চালু করা অর্থ পরিশোধের নির্দেশনা, হিসাবসংক্রান্ত তথ্য এবং ডিজিটাল ডাকবাক্সে থাকা চিঠি ও বিবৃতিও নতুন অ্যাপে পাওয়া যাবে বলে জানানো হয়েছে।
স্থানান্তরের সময় হ্যালিফ্যাক্সের হিসাবের টাকা সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকবে। একই সঙ্গে গ্রাহকদের হিসাব নম্বর ও ব্যাংক শাখার পরিচিতি নম্বর অপরিবর্তিত থাকবে বলে জানিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
চলতি বছরের মে মাসে লয়েডস ব্যাংকিং গ্রুপ হ্যালিফ্যাক্স ব্র্যান্ড বন্ধ করে উচ্চসড়কভিত্তিক শাখা ও ডিজিটাল ব্যাংকিং কার্যক্রমকে লয়েডসের অধীনে একীভূত করার পরিকল্পনা ঘোষণা করে। ১৮৫৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হ্যালিফ্যাক্স ইয়র্কশায়ারে একটি সঞ্চয় ও বিনিয়োগ সমিতি হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিল। পরবর্তীতে এটি ব্রিটেনের অন্যতম বড় বন্ধকী ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।
হ্যালিফ্যাক্সের ডিজিটাল সেবা বন্ধের পাশাপাশি চলতি মাসে লয়েডস ও হ্যালিফ্যাক্সের মোট ২৬টি শাখাও স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। দ্য সানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রিস্টল, নটিংহাম ও সাউদাম্পটনসহ বিভিন্ন এলাকায় এসব শাখা বন্ধ হবে।
লয়েডস ব্যাংকিং গ্রুপের একজন মুখপাত্র বলেন, শাখা নেটওয়ার্কে পরিবর্তন আনার সময় গ্রাহকদের ওপর এর প্রভাব এবং তারা কীভাবে ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ করবেন, তা বিবেচনা করা হয়।
সূত্রঃ দ্য সান
এমকে

