TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

৫০ বছর যুক্তরাজ্যে বসবাসের পরও বহিষ্কারের মুখে ৬৮ বছর বয়সী মারিয়া

প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাসের পর ৬৮ বছর বয়সী এক নারী বহিষ্কারের মুখে পড়েছেন। স্বল্পমেয়াদি স্থগিত দণ্ড পাওয়ার পর তাকে জন্মভূমি নেদারল্যান্ডসে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার— যে দেশে তিনি ১৯৯৯ সালের পর আর যাননি। বিষয়টি মানবিক ও আইনি উভয় দিক থেকেই প্রশ্ন তুলেছে।

 

মারিয়া ১৯৭০-এর দশকে মাত্র ১৭ বছর বয়সে নেদারল্যান্ডস ছেড়ে ব্রিটেনে আসেন। দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে তিনি যুক্তরাজ্যেই বসবাস করছেন। বর্তমানে পশ্চিম লন্ডনে ভাড়াবাসায় তিনি তার প্রতিবন্ধী সঙ্গী টমের সঙ্গে থাকেন এবং তার প্রধান পরিচর্যাকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

গত ডিসেম্বর মাসে হোম অফিস থেকে পাঠানো এক চিঠিতে তাকে জানানো হয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বিরুদ্ধে বহিষ্কার প্রক্রিয়া শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, “আপনাকে বহিষ্কার করা জনস্বার্থের অনুকূল” এবং “বিলম্ব না করে যুক্তরাজ্য থেকে অপসারণ করা জনস্বার্থে প্রয়োজন।” চিঠি পাওয়ার পর মারিয়া মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন বলে জানা গেছে।

মারিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে তার একমাত্র সংযোগ এখন কেবল তার পাসপোর্ট। যুক্তরাজ্যে তার বসবাসের অধিকাংশ সময় দেশটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য ছিল, ফলে আলাদা করে স্থায়ী বসবাসের অনুমতির প্রয়োজন হয়নি। ২০২২ সালের জানুয়ারিতে তাকে ‘ইইউ সেটেল্ড স্ট্যাটাস’ দেওয়া হয়, যা ইউরোপীয় নাগরিকদের জন্য অনির্দিষ্টকালের বসবাসের অনুমতির সমতুল্য।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি বসবাস, বয়স, পারিবারিক নির্ভরশীলতা এবং মানবিক বিবেচনা— এসব বিষয় সাধারণত বহিষ্কার সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিশেষ করে যখন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি একজন পরিচর্যাকারী এবং তার সঙ্গী প্রতিবন্ধী, তখন পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে।
সরকারি অবস্থান অনুযায়ী, গুরুতর অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে জনস্বার্থ বিবেচনায় বহিষ্কার প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হতে পারে। তবে সমালোচকদের দাবি, স্বল্পমেয়াদি স্থগিত দণ্ডের ক্ষেত্রে এমন কঠোর পদক্ষেপ অনুপাতহীন হতে পারে এবং এতে মানবিক সংকট তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

বর্তমানে মারিয়া আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তার প্রশ্ন, “আমি ৬৮ বছরে আবার কীভাবে নতুন করে শুরু করব?” দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে যে দেশকে নিজের ঘর হিসেবে জেনেছেন, সেখান থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা তার জীবনের সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে মানুষের চেয়ে গাছের সংখ্যা বেশি যে শহরে

ব্রিটিশ রাজপ্রাসাদের বর্ণবিদ্বেষ!

যুক্তরাজ্যের অধিকাংশ পেট্রোল পাম্প বন্ধ, পরিস্থিতি সামলাতে প্রস্তুত সেনাবাহিনী