10.4 C
London
April 26, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

অনিয়ম, দুর্নীতি ও অপরাধের অভিযোগে কাঁপছে লন্ডনের পুলিশ বাহিনী

যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের পুলিশ বাহিনী নিজেদের ভেতরের অনিয়ম ও অসদাচরণ শনাক্ত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর একটি সফটওয়্যার ব্যবহার করে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে শতাধিক পুলিশ কর্মকর্তাকে তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।

পুলিশের নিজস্ব তথ্যভান্ডার বিশ্লেষণ করে অল্প সময়ের মধ্যেই সফটওয়্যারটি বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম চিহ্নিত করে। এর মধ্যে রয়েছে অফিসে উপস্থিতি সংক্রান্ত নিয়ম ভঙ্গ, দায়িত্ব পালনে অসততা, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থার অপব্যবহার, আর্থিক অনিয়ম এবং গুরুতর অপরাধের অভিযোগ।

প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ইতোমধ্যে কয়েকজন কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দায়িত্বের অপব্যবহার, জালিয়াতি, যৌন নিপীড়ন, সরকারি কাজে অসদাচরণ এবং তথ্য ব্যবস্থার অপব্যবহারের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি অনিয়ম ধরা পড়েছে দায়িত্ব বণ্টনের তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থার অপব্যবহার নিয়ে। প্রায় শতাধিক কর্মকর্তা ব্যক্তিগত বা আর্থিক সুবিধার জন্য এই ব্যবস্থা ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একই ধরনের অনিয়মে আরও কয়েকশ কর্মকর্তাকে সতর্কতামূলক নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যেও অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে। অভিযোগ রয়েছে, অনেকে অফিসে উপস্থিত থাকার ভুয়া তথ্য দিয়েছেন, যদিও বাস্তবে তারা বাড়িতে বা অন্যত্র অবস্থান করছিলেন। অথচ বাহিনীর নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট মাত্রার নিচে অফিস উপস্থিতি কমানো যায় না।

সফটওয়্যারটি আরও শনাক্ত করেছে এমন কিছু কর্মকর্তা, যারা একটি গোপন সংগঠনের সদস্য হওয়া সত্ত্বেও তা কর্তৃপক্ষকে জানাননি—যা বর্তমানে বাধ্যতামূলক ঘোষণার অন্তর্ভুক্ত।

এ কারণে কয়েকজনের বিরুদ্ধে গুরুতর অসদাচরণের তদন্ত চলছে এবং আরও অনেকে সতর্কবার্তা পেয়েছেন।

প্রযুক্তি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নিয়ে আলোচনা
এই প্রযুক্তি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানটি বড় পরিসরের তথ্য বিশ্লেষণে বিশেষজ্ঞ এবং বিভিন্ন নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে কাজ করার জন্য পরিচিত। তবে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

বিশেষ করে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ সংস্থার সঙ্গে কাজ করা, কঠোর অভিবাসন নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং বিদেশি সামরিক বাহিনীর সঙ্গে প্রযুক্তিগত সহযোগিতার অভিযোগ নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। যুক্তরাজ্যেও দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার সঙ্গে বড় অঙ্কের চুক্তি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

পুলিশ বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা বলেছেন, অপরাধীরা যেভাবে প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিজেদের কৌশল বদলাচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও তেমনভাবে আধুনিক হতে হবে—শুধু মাঠপর্যায়ে নয়, নিজেদের ভেতরেও।

তার মতে, বিদ্যমান তথ্যকে একত্র করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করলে ঝুঁকি আগেভাগে শনাক্ত করা সম্ভব, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায় এবং আরও ন্যায়সংগতভাবে কাজ করা যায়। এর মাধ্যমে বাহিনীর ভেতরের অনিয়ম দূর করে জনবিশ্বাস পুনর্গঠন করা সহজ হবে।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, ড্রোন ও মুখাবয়ব শনাক্তকরণ প্রযুক্তির মতো আধুনিক ব্যবস্থাগুলো ইতোমধ্যে অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার যেমন কার্যকর, তেমনি ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নজরদারি নিয়ে নতুন উদ্বেগও তৈরি করছে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে অবৈধ কর্মী রাখায় ৯০,০০০ পাউন্ড জরিমানা, রেস্টুরেন্টের অ্যালকোহল লাইসেন্স বাতিলের মুখে

২০২৬ সালে যুক্তরাজ্যে কার্যকর হচ্ছে একগুচ্ছ নতুন আইনঃনতুন বছরে ব্রিটিশদের জন্য কী বদলাচ্ছে

র্নীতির দায়ে যুক্তরাজ্যে বিচারক ও আইনজীবীদের সাজা