18.4 C
London
August 20, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

অপরাধের পরও ব্রিটেনে থাকার সুযোগঃ ইসিএইচআর নিয়ে কঠোর অবস্থানের দাবি জোরালো

গুরুতর যৌন অপরাধের সঙ্গে জড়িত এক অভিবাসী ইউরোপীয় মানবাধিকার সনদের (ECHR) আওতায় যুক্তরাজ্যে থাকার সুযোগ পাওয়ার ঘটনায় দেশটিতে নতুন করে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। ঘটনাটি সামনে আসার পর বিদেশি অপরাধীদের বহিষ্কার এবং ইউরোপীয় মানবাধিকার সনদের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছেন সমালোচকেরা।

ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন যুক্তরাজ্য সরকার আশ্রয়প্রার্থীদের দেশটির আইন, সামাজিক মূল্যবোধ এবং নারী-পুরুষের সমান অধিকারের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দেশনা দেওয়া শুরু করেছে। ১৯ আগস্ট প্রকাশিত হোম অফিসের নতুন নির্দেশিকায় আশ্রয়প্রার্থীদের যৌন সহিংসতা, পারিবারিক নির্যাতন ও নারীর প্রতি অসম আচরণ থেকে বিরত থাকার বিষয়ে স্পষ্টভাবে সতর্ক করা হয়েছে।

‘Understanding behaviours and expectations in the UK: A guide for asylum seekers’ শিরোনামের সরকারি নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, কারও সম্মতি ছাড়া যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা ধর্ষণ এবং এটি যুক্তরাজ্যে গুরুতর অপরাধ। কেউ ঘুমিয়ে থাকলে, মাতাল অবস্থায় থাকলে কিংবা সম্মতি জানানোর মতো অবস্থায় না থাকলে তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা যাবে না। এমনকি স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের ক্ষেত্রেও প্রতিবার যৌন সম্পর্কের জন্য উভয়ের সম্মতি প্রয়োজন।

নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যে নারী ও পুরুষের সমান অধিকার রয়েছে। কোনো নারীকে কাজ বা পড়াশোনা থেকে বিরত রাখা, তিনি কী পরবেন বা কোথায় যাবেন তা নিয়ন্ত্রণ করা, পরিবার-বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে বাধা দেওয়া কিংবা তার সম্মতি ছাড়া তার জীবনের সিদ্ধান্ত নেওয়া আইনবিরোধী হতে পারে।

পারিবারিক নির্যাতনের বিষয়টিও নির্দেশিকায় গুরুত্ব পেয়েছে। শারীরিক আঘাত, হুমকি, নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণ, মানসিক নির্যাতন এবং কারও পাসপোর্ট বা পরিচয়পত্র কেড়ে নেওয়াকেও গার্হস্থ্য নির্যাতনের আওতায় উল্লেখ করা হয়েছে। এসব আচরণের জন্য গ্রেপ্তার ও কারাদণ্ডের পাশাপাশি আশ্রয়-সহায়তা হারানো এবং আশ্রয়ের আবেদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

জনসমক্ষে আচরণের ক্ষেত্রেও নতুন নির্দেশনায় বেশ কিছু বিধিনিষেধ তুলে ধরা হয়েছে। কাউকে যৌন মন্তব্য করা, শিস দেওয়া বা চুম্বনের শব্দ করা, কারও পিছু নেওয়া কিংবা পথ আটকে দেওয়া এবং লিঙ্গ, ধর্ম বা চেহারার কারণে মৌখিকভাবে অপমান করার মতো আচরণ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া কারও অনুমতি ছাড়া যৌন ছবি ধারণ বা তা ছড়িয়ে দেওয়াকেও গুরুতর অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, আইন ভঙ্গ করলে পুলিশি ব্যবস্থা, আশ্রয়-সহায়তা হারানো এবং আশ্রয়ের আবেদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

এই নির্দেশিকা প্রকাশের পেছনে যুক্তরাজ্যে সাম্প্রতিক সময়ে আশ্রয়প্রার্থীদের সঙ্গে জড়িত বলে আলোচিত কয়েকটি ধর্ষণ ও যৌন অপরাধের মামলাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপও রয়েছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট অপরাধের দায় পুরো আশ্রয়প্রার্থী বা অভিবাসী জনগোষ্ঠীর ওপর আরোপ করা যায় না—প্রতিটি মামলা ব্যক্তিগত প্রমাণ ও আইনি প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে বিচারযোগ্য।

এদিকে গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত বা দণ্ডিত বিদেশি নাগরিকদের যুক্তরাজ্যে থাকার অধিকার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। সমালোচকদের একটি অংশের দাবি, মানবাধিকার আইনের কিছু বিধান বিদেশি অপরাধীদের অপসারণ প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলছে এবং এ কারণে যুক্তরাজ্যের ইসিএইচআর থেকে বেরিয়ে আসা উচিত।

তবে মানবাধিকার সনদ নিয়ে বিতর্কের ক্ষেত্রে আইনি বাস্তবতা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো অপরাধী বিদেশি নাগরিক যুক্তরাজ্যে থাকার অনুমতি পেলেই যে তাকে সরাসরি ইসিএইচআর ‘থাকার অধিকার দিয়েছে’—এমন সরলীকরণ সব ক্ষেত্রে সঠিক নয়। নির্দিষ্ট মামলায় আদালতের সিদ্ধান্ত, ব্যক্তিগত পরিস্থিতি এবং কোন মানবাধিকার বিধান প্রয়োগ হয়েছে—এসব বিষয় বিবেচনা করতে হয়।

সরকারি নতুন নির্দেশিকাতেও অবশ্য স্পষ্ট করা হয়েছে যে যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী সবার জন্য একই আইন প্রযোজ্য। আশ্রয়প্রার্থীদের জানানো হয়েছে, এসব নিয়ম শুধু তাদের জন্য নয়; যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

ফলে একদিকে আশ্রয়প্রার্থীদের ব্রিটিশ আইন ও সামাজিক আচরণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার, অন্যদিকে বিদেশি অপরাধীদের বহিষ্কার ও মানবাধিকার আইনের প্রয়োগ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হচ্ছে। গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং একই সঙ্গে মানবাধিকার ও আইনের শাসন বজায় রাখা—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্যই এখন ব্রিটিশ সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্রঃ গভ.ইউকে

এম.কে

আরো পড়ুন

ব্রিটেনের রাজা হিসেবে চার্লসের নাম আনুষ্ঠানিক ঘোষণা

বরিস জনসনের নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জের মুখে পরতে পারে: টরি এমপিদের হুঁশিয়ারি

নিউজ ডেস্ক

পৃথিবীর ভয়ংকরতম স্নাইপার ওয়ালি এখন ইউক্রেনে