21.8 C
London
August 5, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিকযুক্তরাজ্য (UK)

অবৈধ ইসরায়েলি বসতিতে যুক্তরাজ্যের দাতব্য অনুদানঃ তদন্ত শুরু করল চ্যারিটি কমিশন

ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের দাতব্য সংস্থাগুলোর (চ্যারিটি) মাধ্যমে ফিলিস্তিনের অধিকৃত অঞ্চলে আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ হিসেবে বিবেচিত ইসরায়েলি বসতিগুলোতে অর্থায়নের অভিযোগে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাজ্যের চ্যারিটি কমিশন। প্রাথমিকভাবে আটটি চ্যারিটিকে তদন্তের আওতায় আনা হলেও, পর্যায়ক্রমে আরও সংস্থাকে তদন্তের অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

চ্যারিটি কমিশন জানিয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে তারা নির্ধারণ করবে—কত পরিমাণ দাতব্য অর্থ অবৈধ বসতিগুলোতে পাঠানো হয়েছে, সেই ব্যয় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর ঘোষিত দাতব্য উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল কি না এবং প্রয়োজন হলে কী ধরনের নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই তদন্তের পেছনে রয়েছে দ্য গার্ডিয়ান-এর ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন। গত বছর পত্রিকাটি জানায়, যুক্তরাজ্যের দুটি দাতব্য সংস্থা অধিকৃত পশ্চিম তীরের সুসিয়া এলাকায় অবস্থিত বনেই আকিভা ইয়েশিভা উচ্চবিদ্যালয়ে প্রায় ৫ দশমিক ৭ মিলিয়ন পাউন্ড স্থানান্তর করেছে।

চলতি বছরের জুনে লেবার পার্টির এমপি মেলানি ওয়ার্ড চ্যারিটি কমিশনের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের ৩২টি দাতব্য সংস্থা অন্তত ২৮ মিলিয়ন পাউন্ড আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ বিবেচিত ইসরায়েলি বসতিগুলোতে অনুদান দিয়েছে। জানা গেছে, বর্তমান তদন্তটি ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই শুরু হয়েছে।

চ্যারিটি কমিশনের সহকারী পরিচালক (হাই রিস্ক কমপ্লায়েন্স) স্টিফেন রোক বলেন, ফিলিস্তিনে অবৈধ ইসরায়েলি বসতিতে যুক্তরাজ্যের দাতব্য সংস্থাগুলোর কার্যক্রম নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তাই প্রথমে প্রকৃত তথ্য-উপাত্ত যাচাই করা হবে। এরপর প্রাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। তিনি জানান, এই অনুসন্ধানের ফলাফল ভবিষ্যতে দাতব্য সংস্থাগুলোর জন্য নতুন নির্দেশিকা তৈরিতেও সহায়ক হবে।

জুন মাসে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার পার্লামেন্টে বলেন, তিনি চ্যারিটি কমিশনকে বিষয়টি তদন্তের অনুরোধ করেছেন। তার ভাষায়, দাতব্য ব্যবস্থাকে অপব্যবহার করে অবৈধ বসতিগুলোতে সহায়তা পাঠানো হচ্ছে এবং কিছু প্রমাণ ইঙ্গিত করছে যে বিদ্যমান নিয়ম লঙ্ঘিত হয়েছে। তিনি যুক্তরাজ্যের গিফট এইড (Gift Aid) কর-ছাড়ের অর্থও এসব বসতিতে ব্যবহৃত হতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে, এমপি মেলানি ওয়ার্ড বলেন, তদন্তের পাশাপাশি এসব অনুদান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার দাবিও তুলেছেন তিনি এবং লেবার পার্টির ১৪০ জন এমপি। তার অভিযোগ, গত বছর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরও চ্যারিটি কমিশন কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দেরি করেছে।

চ্যারিটি কমিশন জানিয়েছে, তদন্তের পরিধি সম্পর্কে পুলিশ ও এইচএম রেভিনিউ অ্যান্ড কাস্টমস (HMRC)-কে অবহিত করা হয়েছে। তবে মেট্রোপলিটন পুলিশের ওয়ার ক্রাইমস ইউনিট জানিয়েছে, অবৈধ বসতিতে অনুদানের অভিযোগে বর্তমানে তারা কোনো দাতব্য সংস্থার বিরুদ্ধে পৃথক তদন্ত পরিচালনা করছে না।

এদিকে গত মাসে দ্য গার্ডিয়ান আরও জানায়, যুক্তরাজ্যের একটি দাতব্য সংস্থা হেবরনের একটি ধর্মীয় বিদ্যালয়কে অর্থায়ন করেছে, যা ওই এলাকার একটি অবৈধ ইসরায়েলি বসতির সম্প্রসারণ পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ওই সংস্থাটি বিদ্যালয়টিতে প্রায় দুই লাখ পাউন্ড পাঠিয়েছে।

লেবার এমপি এবং পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির সদস্য আবতিসাম মোহাম্মদ তদন্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, অন্তত ৩২টি দাতব্য সংস্থার বিরুদ্ধে এ ধরনের কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তাই দ্রুত সব অভিযোগের তদন্ত সম্পন্ন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (ICJ), জাতিসংঘ এবং অধিকাংশ দেশ অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতিগুলোকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী হিসেবে বিবেচনা করে। তবে ইসরায়েল এই অবস্থানের সঙ্গে একমত নয় এবং বসতিগুলোর বৈধতা নিয়ে ভিন্ন আইনি অবস্থান বজায় রেখেছে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

মানুষের মলমূত্র থেকে তৈরি সার নিরাপদ: গবেষণা

কৌশলে অগ্নিনিরাপত্তা এড়াচ্ছেন লন্ডনের বিল্ডাররা

অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাজ্যের এক্সেটরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বোমা বিস্ফোরণ

নিউজ ডেস্ক