যুক্তরাজ্যের লিংকনশায়ারের গ্রিমসবির একটি রেস্তোরাঁয় অবৈধ কর্মী রাখার অভিযোগে প্রিমাইসেস লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নর্থ ইস্ট লিংকনশায়ার কাউন্সিল। হোম অফিসের অভিবাসন কর্মকর্তাদের অভিযানে দুই ব্যক্তিকে অবৈধভাবে কাজ করতে দেখা যাওয়ার অভিযোগের পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত ৪ জুন গ্রিমসবির শহরকেন্দ্রে অবস্থিত স্পাইস অব লাইফ রেস্তোরাঁয় অভিযান চালান হোম অফিসের ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট কর্মকর্তারা। তাদের দাবি, অভিযানের সময় সেখানে দুই ব্যক্তি বৈধভাবে কাজ করার অধিকার ছাড়াই কাজ করছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত কাউন্সিলের লাইসেন্সিং উপ-কমিটির বৈঠকে রেস্তোরাঁটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
শুনানিতে হোম অফিস জানায়, ২০২০ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে নিয়ম মেনে চলার জন্য একাধিকবার সুযোগ দেওয়া হলেও বারবার একই ধরনের অভিযোগ সামনে এসেছে। এক অভিবাসন কর্মকর্তা রেস্তোরাঁটিকে গ্রিমসবি এলাকায় “পুনরাবৃত্ত নিয়মভঙ্গের দিক থেকে সবচেয়ে খারাপ প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি” বলে উল্লেখ করেন। পুলিশের লাইসেন্সিং কর্মকর্তা গ্রান্ট জনস্টনের ভাষ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে পাঁচবার অভিযান চালানো হয়েছে এবং প্রতিবারই অবৈধ কর্মীর উপস্থিতির অভিযোগ উঠেছে।
তবে রেস্তোরাঁর মালিক মোহাম্মদ আবদুল সালিক সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, তিনি জেনেশুনে কখনোই অবৈধভাবে অবস্থানকারী কাউকে চাকরি দেন না এবং কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আপিল করবেন।
মালিকপক্ষের আইনজীবীরা যুক্তি দেন, সর্বশেষ অভিযানের পর হোম অফিস কোনো সিভিল জরিমানা বা সতর্কতামূলক চিঠি দেয়নি, যা তাদের মতে অভিযোগের প্রমাণ দুর্বল হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। তারা আরও জানান, অভিযানের সময় সালিক দেশের বাইরে ছিলেন এবং যাদের শনাক্ত করা হয়েছে, তাদের একজন বিনা পারিশ্রমিকে ট্রায়াল শিফটে ছিলেন, অন্যজন আত্মীয়ের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। তাই তাদের কর্মচারী হিসেবে গণ্য করার সুযোগ নেই বলে দাবি করেন তারা।
শুনানিতে আরও অভিযোগ ওঠে যে, রেস্তোরাঁর ব্যবস্থাপক ও সালিকের ছেলে মোহাম্মদ শাহির অভিযানের সময় অভিবাসন কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছিলেন। যদিও সালিক ছেলের আচরণের পক্ষে সাফাই দেননি, তবে তিনি দাবি করেন, কর্মকর্তারা “স্বৈরশাসকদের মতো” আচরণ করেছেন এবং তার ছেলের জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছিল।
কাউন্সিলর জেমস সকিনস বলেন, সাক্ষ্য, সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা করে কমিটি “সম্ভাবনার ভারসাম্যের ভিত্তিতে” সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, ৪ জুন রেস্তোরাঁটিতে অবৈধ কর্মী উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানান, হোম অফিসের সিভিল জরিমানা না করার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হলেও অপরাধ প্রতিরোধ ও জনশৃঙ্খলা রক্ষার লাইসেন্সিং লক্ষ্য পূরণে প্রতিষ্ঠানটির “ধারাবাহিক ও গুরুতর ব্যর্থতা” স্পষ্ট হয়েছে।
তবে আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত রেস্তোরাঁটির লাইসেন্স বহাল থাকবে। অর্থাৎ, ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আপিলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারবে।
সূত্রঃ বিবিসি
এম.কে

