TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

অবৈধ কাজে লাগাম টানছে যুক্তরাজ্যঃ ইমিগ্রেশন অভিযানে গ্রেপ্তার বেড়েছে রেকর্ড হারে

অবৈধ কাজে কড়াকড়ি জোরদার: যুক্তরাজ্যে ইমিগ্রেশন অভিযানে গ্রেপ্তার ৮৩ শতাংশ বৃদ্ধি
যুক্তরাজ্যে অবৈধভাবে কাজ করা অভিবাসীদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অভিযানের ফলে গ্রেপ্তারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

 

হোম অফিসের তথ্য অনুযায়ী, লেবার সরকার ক্ষমতায় আসার পর নেল বার, কার ওয়াশ, নাপিতের দোকান, টেকঅ্যাওয়ে ও অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ইমিগ্রেশন অভিযানের সংখ্যা ৭৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে এসব অভিযানে গ্রেপ্তার বেড়েছে ৮৩ শতাংশ, যা সরকারের সীমান্ত ও অভিবাসন নীতিতে কঠোর অবস্থানের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিরোধী দলগুলো দাবি করছে, যুক্তরাজ্যে অবৈধভাবে কাজ করার সুযোগই অভিবাসীদের জন্য একটি বড় ‘পুল ফ্যাক্টর’ হিসেবে কাজ করছে এবং এর ফলে ছোট নৌকায় করে ইংলিশ চ্যানেল পার হয়ে দেশটিতে প্রবেশের প্রবণতা বাড়ছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ৪১ হাজারের বেশি মানুষ এই ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা পাড়ি দিয়েছে, যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ এবং আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৫ হাজার বেশি।

কনজারভেটিভ দলের শ্যাডো স্বরাষ্ট্র সচিব ক্রিস ফিল্প অভিযোগ করে বলেন, লেবার সরকার যুক্তরাজ্যকে অবৈধ অভিবাসীদের জন্য একটি ‘সহজ লক্ষ্য’ বানিয়ে ফেলেছে। তাঁর মতে, যতদিন অবৈধভাবে আসা মানুষ কাজ করতে, আয় করতে এবং দেশে থেকে যেতে পারবে, ততদিন মানবপাচারকারীরা চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার জন্য মানুষকে প্রলুব্ধ করার সুযোগ পাবে।

হোম অফিস জানিয়েছে, ইমিগ্রেশন অভিযানে গ্রেপ্তারের সংখ্যা লেবার ক্ষমতায় আসার আগ থেকেই বাড়ছিল, তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই গতি আরও তীব্র হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষ পর্যন্ত ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট দলগুলো ১৭ হাজার ৪০০–এর বেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়েছে, যা তার আগের ১৮ মাসের তুলনায় ৭৭ শতাংশ বেশি। এসব অভিযানে ১২ হাজার ৩০০–এর বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং এর মধ্যে ১ হাজার ৭০০–এর বেশি ব্যক্তিকে যুক্তরাজ্য থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু অভিযান ও গ্রেপ্তার ছোট নৌকায় অভিবাসন ঠেকাতে বড় কোনো পরিবর্তন আনবে না। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইগ্রেশন অবজারভেটরির সিনিয়র গবেষক ড. পিটার ওয়ালশ বলেন, ইতিহাসগতভাবে গ্রেপ্তারের তুলনায় আটক ও বহিষ্কারের সংখ্যা অনেক কম। তাঁর মতে, অভিযানের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে নিয়োগকর্তাদের ওপর, কারণ কর্মক্ষেত্রে কঠোর তদারকি অবৈধভাবে কাজের অধিকারহীন ব্যক্তিদের নিয়োগ নিরুৎসাহিত করে।

সরকারের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের সব অঞ্চলেই ইমিগ্রেশন অভিযানে গ্রেপ্তার বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি গ্রেপ্তার হয়েছে লন্ডন, ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস ও দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডে। লন্ডনে গত বছর ২ হাজার ১০০–এর বেশি গ্রেপ্তার হয়েছে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ৪৭ শতাংশ বেশি। ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস ও দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডে গ্রেপ্তার বেড়েছে যথাক্রমে ৭৬ শতাংশ ও ৯১ শতাংশ। ওয়েলসে ১ হাজার ৩২০টি অভিযানে ৬৪৯ জন গ্রেপ্তার হয়েছে, স্কটল্যান্ডে ৬৯৫টি অভিযানে ৪০০ জন এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডে ১৮৭টি অভিযানে ২৩৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অভিযান চালানো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছিল ওয়েস্ট সাসেক্সের শোরহ্যাম-বাই-সি–এর একটি গুদাম, যেখানে ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাদের মধ্যে ১১ জনকে বহিষ্কারের জন্য আটক রাখা হয়েছে। সুইন্ডনের একটি নির্মাণ সাইটে অভিযানে ভারতীয় ও আলবেনীয় ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়, যাদের প্রায় সবাইকে বহিষ্কারের প্রক্রিয়ায় রাখা হয়েছে। একইভাবে সারির কেম্পটন পার্ক রেসকোর্সের একটি বাজারে অভিযানে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শাবানা মাহমুদ বলেন, যুক্তরাজ্যের সমাজে অবৈধভাবে কাজ করার কোনো স্থান নেই। তিনি জানান, অবৈধ অভিবাসীরা যেন কালোবাজারি অর্থনীতিতে লুকিয়ে থাকতে না পারে, সে জন্য ইমিগ্রেশন প্রয়োগ কার্যক্রম ব্রিটিশ ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নেওয়া হয়েছে। সীমান্তে শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনতে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এই অভিযান জোরদারের পেছনে গত বছর ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টের জন্য অতিরিক্ত ৫০ লাখ পাউন্ড বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকার ২০২৯ সালের মধ্যে ডিজিটাল আইডি ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করছে, যার মাধ্যমে কারও কাজের অধিকার প্রমাণ বাধ্যতামূলক হবে এবং অবৈধভাবে কাজ করা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

সূত্রঃ বিবিসি

এম.কে

আরো পড়ুন

অভিনব ‘ভিসা প্রতারণা’ করে যুক্তরাজ্যে ঢুকছে বহু পাকিস্তানি

যুক্তরাজ্যে তুষারপাত ও তুষার ঝড়ের সতর্কতা

নিউজ ডেস্ক

যুক্তরাজ্যের গাড়ি অর্থায়ন কেলেঙ্কারিঃ এফসিএর ১৮ বিলিয়ন পাউন্ড ক্ষতিপূরণ স্কিম ঘোষণা