27.7 C
London
May 24, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

অর্থনৈতিক অপরাধ ও মানি লন্ডারিং নিয়ে ব্রিটেনের আর্থিক খাতে নতুন উদ্বেগ

প্রতি বছর অন্তত ৩২৫ বিলিয়ন পাউন্ডের অবৈধ অর্থ বা ‘ডার্টি মানি’ যুক্তরাজ্যের আর্থিক ব্যবস্থার ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে এক নতুন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এই অর্থের সঙ্গে মানি লন্ডারিং, দুর্নীতি, কর ফাঁকি, অবৈধ বাণিজ্য ও আর্থিক অপরাধের যোগসূত্র রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

দাতব্য সংস্থা ফাইন্যান্স ইনোভেশন ল্যাবের প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়, এই অবৈধ অর্থের পরিমাণ যুক্তরাজ্যের মোট জিডিপির ১০ শতাংশেরও বেশি। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের ক্রাউন ডিপেনডেন্সি ও ওভারসিজ টেরিটরিগুলো—যেমন জার্সি ও কেম্যান আইল্যান্ডস—ধরে হিসাব করলে এই অঙ্ক বছরে ৭৮৮ বিলিয়ন পাউন্ড ছাড়িয়ে যায়।

গবেষণাটিকে যুক্তরাজ্যকে কেন্দ্র করে অবৈধ আর্থিক প্রবাহের প্রকৃত মাত্রা নির্ধারণের অন্যতম প্রথম বিস্তৃত প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক কর ফাঁকি ও আর্থিক অপরাধ সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বিশ্বব্যাপী ‘কালো টাকা’র অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে যুক্তরাজ্যের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।

প্রতিবেদনটি এমন সময় প্রকাশিত হলো, যখন যুক্তরাজ্য সরকার আগামী ২৩–২৪ জুন নির্ধারিত ‘ইলিসিট ফাইন্যান্স সামিট’ ডিসেম্বর পর্যন্ত পিছিয়ে দিয়েছে।

ফাইন্যান্স ইনোভেশন ল্যাব সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, অর্থনৈতিক অপরাধ দমন ও কর ফাঁকি রোধে আরও কঠোর অবস্থান নিতে। সংস্থাটির মতে, এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে সরকারকে নেতৃত্ব দিতে হবে।

প্রতিবেদনের লেখক জেসি গ্রিফিথস বলেন, “যুক্তরাজ্যের আর্থিক খাতকে অনেক সময় অর্থনীতির মুকুটের রত্ন হিসেবে দেখা হয়, কিন্তু বাস্তবে এটি অনেক ক্ষেত্রে অবৈধ অর্থপ্রবাহকে সহায়তা করছে।”

তিনি বলেন, এই অর্থের কারণে জনসেবা থেকে অর্থ সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে, অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং অপরাধমূলক কার্যক্রমকে সহায়তা করা হচ্ছে। তাই আর্থিক ব্যবস্থার প্রকৃত চিত্র বোঝা জরুরি।

অল-পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপ অন অ্যান্টি-করাপশন অ্যান্ড রেসপনসিবল ট্যাক্সও সরকারের প্রতি তদন্ত সংস্থাগুলোর জন্য অর্থায়ন বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি ও সিরিয়াস ফ্রড অফিসের মতো সংস্থাগুলোকে শক্তিশালী করলে অর্থনৈতিক অপরাধ দমন আরও কার্যকর হবে।

এছাড়া তারা লন্ডনকে আন্তর্জাতিক ক্রিপ্টোকারেন্সি হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে। প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, ক্রিপ্টো সম্পদের সঙ্গে মানি লন্ডারিং ও গোপন আর্থিক লেনদেনের ঝুঁকি বাড়ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুক্তরাজ্যের বৈশ্বিক আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে অবস্থান যেমন অর্থনৈতিক সুবিধা দেয়, তেমনি এটি অপরাধী চক্র, দুর্নীতি ও কর ফাঁকির অর্থকে আকর্ষণ করে, যা বাজারের স্বচ্ছতা ও জনআস্থা ক্ষুণ্ন করে।

ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডসসহ বিদেশি অঞ্চলে শেল কোম্পানির প্রকৃত মালিকানা প্রকাশে স্বচ্ছতা আনার আহ্বান জানানো হয়েছে।

অল-পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপের চেয়ারম্যান ফিল ব্রিকেল বলেন, “দীর্ঘদিনের নিষ্ক্রিয়তার পর এখন সময় এসেছে অর্থনৈতিক অপরাধ দমনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার।”

তিনি বলেন, তদন্ত সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় সম্পদ দিতে হবে এবং বিদেশি অঞ্চলের কর্পোরেট গোপনীয়তা বন্ধ করতে হবে, যাতে যুক্তরাজ্য সমস্যার অংশ না হয়ে সমাধানের অংশ হতে পারে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

পার্টির কথা স্বীকার করে ক্ষমা চাইলেন বরিস জনসন

অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাজ্যে অভিবাসন কমাতে গিয়ে ২০ বিলিয়ন পাউন্ডের রাজস্ব ঝুঁকিঃ কর বাড়ার আশঙ্কায় ব্রিটেন

ক্রিপ্টোকারেন্সি জালিয়াতি, লন্ডনে একজন হারালেন প্রায় ৩ কোটি টাকা