9.7 C
London
March 10, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

আইআরজিসি কমান্ডারের হুঁশিয়ারিঃ এক টনের কম ওয়ারহেডের মিসাইল আর ব্যবহার করবে না ইরান

ইরান ঘোষণা দিয়েছে, এখন থেকে তারা অন্তত এক টনের বেশি ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম মিসাইল ব্যবহার করবে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার মাজিদ মুসাভি এ তথ্য জানিয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরান ইন্টারন্যাশনাল।

মাজিদ মুসাভি বলেন, ভবিষ্যতে ইরানের মিসাইল হামলার “ওয়েভলেংথ” ও তীব্রতা আরও বাড়ানো হবে এবং হামলার পরিধিও বিস্তৃত করা হবে। তার মতে, সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত মিসাইলের শক্তি ও ধ্বংসক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

বর্তমান সংঘাতের শুরুতে ইরানের একটি মিসাইল, যার ওজন কয়েকশ কিলোগ্রাম হলেও এক টনের কম ছিল, সেটিই তেল আবিবের একটি ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেয়। এই উদাহরণ তুলে ধরে বিশ্লেষকরা বলছেন, এক টনের বেশি ওয়ারহেড ব্যবহার করলে হামলার ধ্বংসক্ষমতা আরও অনেক বেশি হতে পারে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়লেও ইরানের হাতে এখনও শক্তিশালী সামরিক অস্ত্রভাণ্ডার রয়েছে। প্রতিবেদনে যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ও মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সামরিক বিশ্লেষক মার্টিন স্যাম্পসনের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে।

মার্টিন স্যাম্পসনের মতে, ইরানের হাতে ক্রুজ মিসাইল, সাইবার যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা এবং সমুদ্রের মাইনসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র রয়েছে। তিনি বলেন, ইরানের বর্তমান অস্ত্রভাণ্ডার দিয়ে তারা চাইলে সংঘাত আরও বড় পরিসরে বাড়াতে পারে।

সাম্প্রতিক হামলাগুলোতে ইরান ক্লাস্টার মিউনিশন ব্যবহার শুরু করেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ধরনের অস্ত্র অত্যন্ত বিধ্বংসী হিসেবে পরিচিত এবং এর ফলে ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিকদের হতাহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

২০২৫ সালের গ্রীষ্মে সংঘটিত বারো দিনের যুদ্ধে ইরান এই ধরনের ক্লাস্টার মিউনিশন ব্যবহার করেছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তে দেখা যায়, একটি মিসাইল আকাশে প্রায় সাত কিলোমিটার উচ্চতায় গিয়ে কয়েকটি ছোট বোমায় বিভক্ত হয় এবং পরে প্রায় আট কিলোমিটার এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটায়।

প্রতিটি ছোট বোমায় প্রায় দুই কিলোগ্রাম বিস্ফোরক ছিল। তবে ভবিষ্যতে ব্যবহৃত ভারী ওয়ারহেডেও ক্লাস্টার বোমা থাকবে কি না, সে বিষয়ে মাজিদ মুসাভি স্পষ্ট করে কিছু বলেননি।

এদিকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী আইডিএফ দাবি করেছে, তারা ইরানের প্রায় ৭৫ শতাংশ মিসাইল লঞ্চার ধ্বংস করে দিয়েছে। দুই দিন আগে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ৬৫ শতাংশ।

তবে আইডিএফ সূত্র বলছে, ইরানের মিসাইল হামলা নিকট ভবিষ্যতে পুরোপুরি থামিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।

সূত্রঃ দ্য জেরুজালেম পোস্ট

এম.কে

আরো পড়ুন

নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত কারাবন্দি ইমরান খান!

আইফেল টাওয়ারের কাছে পর্যটকদের ওপর হামলায় নিহত ১, আহত ২

ইতালিতে অ্যাসাইলাম আবেদনে নতুন আইন, গুনতে হবে ৫ হাজার ইউরো