মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) বিদেশী ছাত্র, বিনিময় দর্শনার্থী এবং বিদেশী গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের উপর আমেরিকাতে উপস্থিতির নির্দিষ্ট সময়সীমা আরোপের জন্য একটি নতুন প্রস্তাব উন্মোচন করেছে। এর ফলে অনির্দিষ্টকালের জন্য ‘উপস্থিতির মেয়াদ› মঞ্জুর করার কয়েক দশক ধরে চলে আসা প্রথার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে যে এই পরিবর্তনটি ভিসার অপব্যবহার রোধ এবং তদারকি জোরদার করার জন্য তৈরি করা হয়েছে।
ডিএইচএসের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ‹অনেক দিন ধরে, অতীতের প্রশাসন বিদেশী শিক্ষাথী এবং অন্যান্য ভিসাধারীদের কার্যত অনির্দিষ্টকালের জন্য আমেরিকাতে থাকার অনুমতি দিয়েছে, যার ফলে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, করদাতাদের অগণিত ডলার ব্যয় হচ্ছে এবং মার্কিন নাগরিকদের অসুবিধা হচ্ছে। এই নতুন প্রস্তাবিত নিয়মটি নির্দিষ্ট ভিসাধারীদের আমেরিকাতে থাকার অনুমতি সীমিত করে চিরতরে এই অপব্যবহারের অবসান ঘটাবে, বিদেশী শিক্ষার্থী এবং তাদের ইতিহাস সঠিকভাবে তদারকি করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের উপর বোঝা কমিয়ে দেবে।
প্রস্তাবিত কাঠামোটি নিম্নলিখিত পরিবর্তনগুলি প্রবর্তন করবেঃ
*শিক্ষার্থী ও বিনিময় দর্শনার্থী সহ এফ এবং জে ভিসাধারীদের তাদেও প্রকল্পের দৈর্ঘ্যরে উপর ভিত্তি করে ভর্তি করা হবে, যার সীমা চার বছর।
*স্নাতক স্তরের এফ-১ শিক্ষার্থীদের কোর্সের মাঝামাঝি প্রোগ্রাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধের সম্মুখীন হতে হবে।
*পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর এফ-১ শিক্ষার্থীদের জন্য আমেরিকাতে তাদের উপস্থিতি কাল ৬০ থেকে কমিয়ে ৩০ দিন করা হবে।
*বিদেশী গণমাধ্যমে প্রতিনিধিত্বকারী ও ভিসাধারীদের প্রাথমিকভাবে ২শ’ ৪০ দিনের জন্য উপস্থিতির অনুমতি দেয়া হবে, যার মেয়াদ ২শ’ ৪০ দিন পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব হবে, তবে তাদের কাজের জন্য প্রয়োজনীয় সময়ের চেয়ে বেশি নয়।
*মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা বিধানের অধীনে চীনা মিডিয়া প্রতিনিধিদের অতিরিক্ত বিধিনিষেধের সম্মুখীন হতে পারে।
মার্কিন কর্মকর্তারা যুক্তি দিয়েছেন, নির্দিষ্ট মেয়াদের মাধ্যমে কর্মকর্তারা পর্যায়ক্রমে এবং সরাসরি মূল্যায়ন করতে পারবেন যে অ-অভিবাসীরা তাদের শ্রেণীবিভাগ এবং মার্কিন অভিবাসন আইনের শর্তাবলী মেনে চলছেন কিনা।
বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিকের মতে, আমেরিকা তার অভিবাসন নীতিগুলি পুনর্বিবেচনা করতে প্রস্তুত, বিশেষ করে এইচ-১বি ভিসা প্রকল্প এবং গ্রিন কার্ডের উপর জোর দিয়ে। ফক্স নিউজকে দেয়া একটি সাক্ষাতকারে লুটনিক একটি নতুন ‘গোল্ড কার্ড’ উদ্যোগের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন, যা দেশটিতে ৫০ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগকারী ধনী বিদেশীদের স্থায়ী বসবাসের সুযোগ প্রদান করবে।
লুটনিক বলেন, ‘আমি এইচ১বি ভিসা প্রকল্পটি পরিবর্তনের সাথে জড়িত। আমরা গ্রিন কার্ড পরিবর্তন করতে যাচ্ছি। এটাই সেই গোল্ড কার্ড যা আসছে। এবং আমরা এই দেশে আসার জন্য সেরা ব্যক্তিদের বেছে নেওয়া শুরু করব। এটি পরিবর্তনের সময় এসেছে।
ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি বিশ্বব্যাপী ৫৫ কোটি সক্রিয় মার্কিন ভিসার একটি ব্যাপক পর্যালোচনা শুরু করেছে, যার মধ্যে ৫০লাখেরও বেশি ভারতীয় রয়েছে। পর্যালোচনাগুলির মধ্যে রয়েছে সামাজিক মাধ্যম, আদান-প্রদাকৃত ডিজিটাল তথ্য এবং আইআরএস ট্যাক্স রেকর্ড।
মার্কিন নিয়ম লঙ্ঘনের ফলে ভিসা বাতিল এবং নির্বাসন হতে পারে। তবে, সমালোচকরা সতর্ক করেছেন যে এই পদক্ষেপগুলি নাগরিক স্বাধীনতার জন্য হুমকি এবং অর্থনৈতিক ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি করে। এর পাশাপাশি, বৈষম্য এবং বিঘ্নের উদ্বেগ সত্ত্বেও, মার্কিন কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলছেন যে নীতিগুলি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য।
সূত্রঃ দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া
এম.কে
২৯ আগস্ট ২০২৫