TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

আমেরিকার ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্ট জন ওসফঃ ‘দ্বিতীয় ওবামা’কে ঘিরে ডেমোক্র্যাটদের বড় স্বপ্ন

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন জর্জিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন ওসফ। মধ্যবর্তী নির্বাচনে নিজের আসন ধরে রেখে বিপুল ভোটে জয়ী হওয়ার পর তাকে ঘিরে শুরু হয়েছে ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্ট হওয়ার জল্পনা। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, বাগ্মিতা ও নেতৃত্বের বৈশিষ্ট্যে মিল খুঁজে পেয়ে অনেকেই তাকে আখ্যা দিচ্ছেন ‘দ্বিতীয় ওবামা’ কিংবা ‘ভবিষ্যতের বারাক ওবামা’ হিসেবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সাফল্যের মধ্যেই জন ওসফের জয় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। জর্জিয়া থেকে আবারও সিনেটে নির্বাচিত হয়েছেন ৩৯ বছর বয়সী এই রাজনীতিক। নির্বাচনে তিনি রাজ্যের প্রায় ৬০ শতাংশ ভোট পেয়েছেন বলে ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তার এই সাফল্য শুধু জর্জিয়ার রাজনীতিতেই নয়, জাতীয় পর্যায়েও নতুন রাজনৈতিক সম্ভাবনার আলোচনাকে সামনে এনেছে।

২০২১ সালে মাত্র ৩৩ বছর বয়সে জর্জিয়া থেকে প্রথমবার সিনেটর নির্বাচিত হন ওসফ। সে সময় তার জয় ছিল অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। নির্বাচনে অল্প ব্যবধানে জয়ের কারণে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ তাকে ‘অ্যাক্সিডেন্টাল সিনেটর’ বলেও আখ্যা দিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করে সেই সমালোচকদের ধারণা পাল্টে দিয়েছেন তিনি।

২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জর্জিয়ায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয়ও ওসফকে দমাতে পারেনি। ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতির কড়া সমালোচনা করে তিনি ধীরে ধীরে ভোটারদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। তার বক্তব্য, রাজনৈতিক অবস্থান এবং জনসমক্ষে উপস্থিতির ধরন তাকে ডেমোক্র্যাটদের অন্যতম আলোচিত মুখে পরিণত করেছে।

জন ওসফকে ‘দ্বিতীয় ওবামা’ বলার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ তার বাগ্মিতা ও বক্তব্য উপস্থাপনের ধরন। ২০০৮ সালে মাত্র ৪৭ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে বারাক ওবামা তার ভাষণ, আত্মবিশ্বাস এবং রাজনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন। ওসফের মধ্যেও সেই ধরনের নেতৃত্বের বৈশিষ্ট্য দেখতে পাচ্ছেন মার্কিন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।

ভাষণের সময় শরীরী ভাষা, আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি এবং বক্তব্যের ছন্দে ওবামার সঙ্গে ওসফের মিল রয়েছে বলে মনে করেন অনেকে। ওবামার মতো তিনিও অনেক সময় শার্টের হাতা গুটিয়ে বক্তব্য দেন। তার পরিপাটি উপস্থিতি, সাবলীল কথা বলার ধরন এবং শ্রোতাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের দক্ষতা তাকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।

জর্জিয়ার বাসিন্দা প্যাট্রিক গারভার বলেন, প্রায় ২০ বছর আগে ওবামাকে দেখে যে অনুভূতি তৈরি হয়েছিল, ওসফকে দেখেও তার মধ্যে একই ধরনের অনুভূতি জাগে। এই তুলনা এখন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে আরও বেশি আলোচনার জন্ম দিচ্ছে।

বারাক ওবামা ও জন ওসফের মধ্যে রাজনৈতিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ মিলও রয়েছে। তাদের দুজনেরই রাজনৈতিক পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন প্রয়াত নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেতা জন লুইস।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে জন ওসফের পক্ষে প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। জর্জিয়ায় প্রচারসভায় ওসফের প্রশংসা করে তিনি বলেন, সাধারণ বিবেচনায় জন ওসফ ছাড়া অন্য কাউকে বেছে নেওয়ার কারণ নেই। ওবামার বক্তব্য অনুযায়ী, তাদের দুজনেরই রাজনৈতিক গুরু ছিলেন জন লুইস।

ওবামার এই সমর্থন ও প্রশংসা ওসফের রাজনৈতিক গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভেতরে তার ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনাও নতুন মাত্রা পেয়েছে।

জন ওসফকে ঘিরে ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্ট হওয়ার আলোচনা বাড়লেও তিনি নিজে এখনই এমন কোনো আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেননি। প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছা নেই বলে ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন তিনি। তবে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের তালিকায় তার নাম যে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হচ্ছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।

১৯৮৭ সালে আটলান্টায় জন্ম নেওয়া জন ওসফের পারিবারিক পরিচয়ও আন্তর্জাতিক বৈচিত্র্যে ভরপুর। তার মা অস্ট্রেলীয় অভিবাসী এবং বাবা বেলারুশের ইহুদি পরিবারের সন্তান। নিজে ইহুদি হলেও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সমালোচক হিসেবে পরিচিত তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ডেমোক্র্যাটদের নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বের প্রশ্নে জন ওসফ এখন অন্যতম আলোচিত নাম। বারাক ওবামার সঙ্গে তার তুলনা কতটা বাস্তব রাজনৈতিক সম্ভাবনায় রূপ নেবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে জর্জিয়ায় ধারাবাহিক সাফল্য, জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি এবং ওবামার সমর্থন তাকে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

সূত্রঃ লে মোঁদ\রয়টার্স

এমকে

আরো পড়ুন

জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্টঃ লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা ট্রাম্পের

৫০ হাজার বছর পর ঘুম ভাঙছে জোম্বি ভাইরাসের, আশঙ্কা মহামারির

বিশ্বের শীর্ষ ঋণগ্রস্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্রঃ ১৫ বছরে বাংলাদেশের ঋণ বেড়েছে প্রায় পাঁচ গুণ

নিউজ ডেস্ক