উত্তর আয়ারল্যান্ডের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মতে, টিউশন ফি বৃদ্ধি হলেও শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করতে হবে—এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয় এবং তা সহায়কও নয়।
ওয়েস্টমিনস্টারের ট্রেজারি কমিটিতে জমা দেওয়া এক লিখিত বক্তব্যে আলস্টার ইউনিভার্সিটি (ইউইউ) জানিয়েছে, আয়ভিত্তিক স্টুডেন্ট লোন ব্যবস্থার কারণে অনেক শিক্ষার্থীকে ফি বৃদ্ধির পরেও অতিরিক্ত অর্থ ফেরত দিতে হয় না। ঋণের কিস্তি নির্ধারিত হয় মূলত স্নাতকদের আয়ের ওপর, ধার করা অর্থের পরিমাণের ওপর নয়।
যদিও তদন্তটি মূলত ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের ঋণব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে, তবুও আলস্টার ইউনিভার্সিটি এবং কুইন্স ইউনিভার্সিটি বেলফাস্ট (কিউইউবি) উভয়ই কমিটিতে লিখিত মতামত জমা দিয়েছে।
উত্তর আয়ারল্যান্ডের অধিকাংশ শিক্ষার্থী টিউশন ফি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহের জন্য ঋণ নিয়ে থাকেন। ২০২৬/২৭ শিক্ষাবর্ষে উত্তর আয়ারল্যান্ডে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের বার্ষিক টিউশন ফি ৪,৯৮৫ পাউন্ড নির্ধারিত রয়েছে। এটি ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের ৯,৭৯০ পাউন্ডের তুলনায় কম, তবে আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রের ২,৫০০ ইউরোর স্টুডেন্ট কনট্রিবিউশন চার্জের চেয়ে বেশি।
শিক্ষার্থীরা বাসস্থানের অবস্থার ওপর নির্ভর করে বছরে সর্বোচ্চ ৬,৪৭১ বা ৮,৩৫২ পাউন্ড পর্যন্ত রক্ষণাবেক্ষণ ঋণ নিতে পারেন। পড়াশোনা শেষ করে চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর বার্ষিক আয় ২৬,৯০০ পাউন্ড অতিক্রম করলেই ঋণ পরিশোধ শুরু হয়। ২৫ বছরের মধ্যে ঋণ পুরোপুরি পরিশোধ না হলে বাকি অংশ মওকুফ হয়ে যায়।
উত্তর আয়ারল্যান্ডের পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের প্রধানরা এর আগে টিউশন ফি বছরে এক হাজার পাউন্ডেরও বেশি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। ২০২৫ সালে তারা প্রধান পাঁচটি রাজনৈতিক দলের নেতাদের কাছে ফি প্রায় ৬,০০০ পাউন্ডে উন্নীত করার অনুরোধ জানান। তবে অর্থনীতি মন্ত্রী কাওমি আর্চিবাল্ড মুদ্রাস্ফীতির স্বাভাবিক হার ছাড়া অতিরিক্ত বৃদ্ধি নাকচ করে দেন।
ইউইউ ও কিউইউবি উভয়ই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আর্থিক স্থায়িত্ব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সম্প্রতি আলস্টার ইউনিভার্সিটি ৪৫০টি পর্যন্ত চাকরি ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি বলেছে, বর্তমান উচ্চশিক্ষা অর্থায়ন ব্যবস্থা আর কার্যকর নয় এবং এটি এখন তহবিল সংকটে রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, ছাত্রঋণ নিয়ে একটি ভ্রান্ত ধারণা প্রচলিত রয়েছে। তাদের অর্থনৈতিক নীতি কেন্দ্রের বিশ্লেষণ অনুসারে, মধ্যম আয়ের বা তার নিচের আয়ের স্নাতকদের ক্ষেত্রে ফি বাড়লেও অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করতে হয় না। জনপরিসরের আলোচনায় মোট ঋণের পরিমাণের ওপর অতিরিক্ত জোর দেওয়া হয়, অথচ বাস্তবে শিক্ষার্থীরা কত অর্থ ফেরত দেন তা উপেক্ষিত থাকে।
ফাইন্যান্সে পড়াশোনা করা মাইকেল ডোহার্টি বলেন, তরুণ বয়সে স্টুডেন্ট লোনকে ‘বিনামূল্যের টাকা’ মনে হলেও এখন তা তার কাছে ‘কর প্রদানের মতো’ অনুভূত হয়। তিনি মনে করেন, তার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি খুব লাভজনক বিনিয়োগ ছিল না। তবে কম আয়ের সময় তাকে কোনো কিস্তি পরিশোধ করতে হয়নি।
আলস্টার ইউনিভার্সিটি ও পরে এজ হিল ইউনিভার্সিটিতে পিজিসিই সম্পন্ন করা লরেন মার্শাল জানান, তার স্টুডেন্ট লোনের পরিমাণ প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার পাউন্ড। তিনি মাসে প্রায় ১৫০ পাউন্ড পরিশোধ করেন এবং এটিকে সবসময় মানসিক চাপের উৎস বলে মনে করেন।
এদিকে এনইউএস-ইউএসআই-এর সভাপতি অ্যামি স্মিথ সতর্ক করে বলেন, টিউশন ফি বৃদ্ধি ‘বিপর্যয়কর’ হবে। তার ভাষায়, প্রতি মাসে ৮৬.২ শতাংশ স্নাতক তাদের ঋণের কিস্তি পরিশোধ করছেন। বন্ধকের চেয়েও বড় ঋণের বোঝা বহনকারী তরুণদের জন্য ফি বৃদ্ধি মানসিক ও আর্থিক চাপ আরও বাড়াবে এবং অনেক সম্ভাব্য শিক্ষার্থীকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ থেকে নিরুৎসাহিত করতে পারে।
সূত্রঃ বিবিসি
এম.কে

