আন্তর্জাতিক সুরক্ষা চাইতে এসে গৃহহীন, অনাহারী ও নিঃস্ব অবস্থায় পড়ে যাওয়া দুই আশ্রয়প্রার্থীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। আদালত বলেছে, রাষ্ট্র তাদের আবাসনের ব্যবস্থা করতে ব্যর্থ হয়ে মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করেছে।
গতকাল ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণ করে রায় দেন বিচারপতি কিয়েইন ফেরিটার।
‘এসএ’ নামে পরিচিত এক আবেদনকারীকে ৯ হাজার ৫০০ ইউরো এবং ‘আরযে’ নামে পরিচিত আরেক আবেদনকারীকে ৬ হাজার ইউরো প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালত মনে করেছে, রাষ্ট্রের ব্যর্থতার কারণে তারা চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন।
এই ক্ষতিপূরণের আদেশ আসে গত আগস্টে কোর্ট অব জাস্টিস অব দ্য ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন (সিজেইইউ)–এর এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ের পর। ওই রায়ে বলা হয়, আয়ারল্যান্ড সরকার দুই আবেদনকারীকে আবাসন দিতে ব্যর্থ হয়ে চার্টার অব ফান্ডাম্যান্টাল রাইটস অব দ্য ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন লঙ্ঘন করেছে এবং ইইউ আইনের অধীনে তাদের মৌলিক অধিকার রক্ষা করতে পারেনি।
আফগান নাগরিক এসএ ডাবলিনে টানা ৭১ দিন রাস্তায় ঘুমিয়ে কাটান। তার পক্ষে আইনি সহায়তা দেয় আইরিশ রিফিউজি কাউন্সিলের স্বাধীন ল’ সেন্টার। সংস্থাটি জানায়, আন্তর্জাতিক সুরক্ষা প্রার্থীদের জন্য নির্ধারিত ‘রিসেপশন কন্ডিশনস’ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের বাধ্যবাধকতা।
ল’ সেন্টারের ম্যানেজিং সলিসিটার কেটি মানিয়ন বলেন, তার মক্কেল আয়ারল্যান্ডে এসে যে কষ্ট সহ্য করেছেন, তা এড়ানো সম্ভব ছিল। আদালতের এই রায় রাষ্ট্রের ব্যর্থতার জন্য ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আইরিশ রিফিউজি কাউন্সিলের সিইও নিক হেন্ডারসন বলেন, কোনো ব্যক্তিকেই—সে আশ্রয়প্রার্থী হোক বা না হোক—অনাহারে ও ভয়ে রাস্তায় ফেলে রাখা উচিত নয়। তিনি জানান, ক্ষতিপূরণ জবাবদিহিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলেও এটি ভুক্তভোগীদের ভোগান্তি পুরোপুরি দূর করতে পারে না।
তার ভাষায়, আদালত স্পষ্ট করেছে যে প্রশাসনিক চাপ বা অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার অজুহাতে মৌলিক চাহিদা পূরণের দায় এড়ানো যায় না। তিন বছর এবং একাধিক আদালতের রায়ের পরও অনেকে পর্যাপ্ত সহায়তা না পেয়ে ভেজা ও হিমশীতল পরিবেশে রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন, যা বেআইনি ও ঝুঁকিপূর্ণ।
সূত্রঃ আইরিশ লিগ্যাল নিউজ
এম.কে

