TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

আশ্রয় আবেদন নাকচ হলেই উচ্ছেদঃ শিশুদের নিয়েও কঠোর অবস্থানে ব্রিটিশ সরকার

আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যাত পরিবারগুলোকে যুক্তরাজ্য ত্যাগে বাধ্য করার সরকারি পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ইংল্যান্ডের শিশু বিষয়ক কমিশনার র‍্যাচেল ডি সুজা সতর্ক করে বলেছেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শাবানা মাহমুদের প্রস্তাবিত নীতিগুলো বাস্তবায়ন করা হলে হাজার হাজার শিশু “গুরুতর ক্ষতির” মুখে পড়তে পারে।

মার্চ মাসে হোম অফিস প্রকাশিত একটি পরামর্শপত্রে (কনসালটেশন) আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যাত পরিবারগুলোর জন্য সরকারি সহায়তা কমানো, প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থীদের দ্রুত দেশত্যাগে বাধ্য করা এবং জোরপূর্বক বহিষ্কারের সময় শিশুদের বিরুদ্ধে শারীরিক বলপ্রয়োগের সুযোগ তৈরির প্রস্তাব রাখা হয়।

এ নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শাবানা মাহমুদকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছেন শিশু বিষয়ক কমিশনার। তিনি বলেছেন, বর্তমানে যেভাবে প্রস্তাবগুলো উপস্থাপন করা হয়েছে, তা শিশুদের অধিকার ও কল্যাণের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করবে এবং যুক্তরাজ্যের চিলড্রেন অ্যাক্ট ১৯৮৯-এর মূল নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।

ডি সুজার কার্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, এসব পরিবর্তনের প্রভাবে প্রায় ২৭ হাজার শিশু ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবে হোম অফিস এখনো সুনির্দিষ্টভাবে জানাতে পারেনি ঠিক কতজন শিশু এর আওতায় পড়বে এবং তাদের কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন হতে পারে।

সবচেয়ে বিতর্কিত প্রস্তাবগুলোর একটি হলো, কোনো শিশুর চলমান চিকিৎসা কিংবা নিজ দেশে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধার অনুপস্থিতিকে আর বহিষ্কারের ক্ষেত্রে বাধা হিসেবে গণ্য না করা। এর ফলে গুরুতর অসুস্থ শিশুদের পরিবারও সরকারি আবাসন ও আর্থিক সহায়তা হারিয়ে বহিষ্কারের ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মানবাধিকারকর্মীরা।

প্রস্তাব অনুযায়ী, আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর পরিবারগুলোকে শুধুমাত্র তখনই সহায়তা দেওয়া হবে, যখন তারা সম্পূর্ণ নিঃস্ব হওয়ার ঝুঁকিতে থাকবে অথবা দেশত্যাগে বিলম্বের গ্রহণযোগ্য কারণ দেখাতে পারবে।

এদিকে জোরপূর্বক বহিষ্কারের সময় শিশুদের বিরুদ্ধে শারীরিক হস্তক্ষেপের অনুমতি দেওয়ার প্রস্তাবও তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। বর্তমান নিয়মে অভিবাসন কর্মকর্তারা শিশুদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ করতে পারেন না। কিন্তু নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে হাতকড়াসহ বিভিন্ন ধরনের শারীরিক নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

র‍্যাচেল ডি সুজা বলেন, কোনো শিশুর বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ কেবলমাত্র একান্ত শেষ উপায় হিসেবে এবং শিশু বা অন্য কারও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনে ব্যবহার করা উচিত। তিনি হোম অফিসকে এই প্রস্তাব থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, শাবানা মাহমুদ যুক্তি দিয়েছেন যে, আশ্রয় ও অভিবাসন ব্যবস্থার ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা জরুরি। তার মতে, অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসন নিয়ে জনমনে উদ্বেগ বাড়লে তা সামাজিক বিভাজন ও চরম ডানপন্থী রাজনীতির উত্থানকে উৎসাহিত করতে পারে।

সরকারের প্রস্তাব অনুযায়ী, আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যাত ব্যক্তিদের স্বেচ্ছায় দেশত্যাগে উৎসাহিত করতে পরিবারপ্রতি সদস্যকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে, যদিও এটি চারজন সদস্য পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকবে।

প্রস্তাবিত নীতিগুলো নিয়ে জনমত গ্রহণ প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও শিশু অধিকার সংগঠন, মানবাধিকারকর্মী এবং অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, বর্তমান রূপে এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে হাজার হাজার শিশুর নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

অবৈধ কর্মী রাখায় লন্ডনের রেস্টুরেন্টে £১২০,০০০ জরিমানা, লাইসেন্স বাতিলের আশঙ্কা

যুক্তরাজ্য পরিবেশ সংকটে পড়তে যাচ্ছে খুব দ্রুতঃ গবেষণা

উত্তপ্ত যুক্তরাজ্যের বেলফাস্টঃ ছুরিকাঘাতের ঘটনার জেরে দাঙ্গা