15.4 C
London
October 27, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ইংলিশ চ্যানেলে ফরাসি বাধাঃ অভূতপূর্ব সমুদ্র অভিযানে শুরু হচ্ছে মাইগ্রান্ট আটক অভিযান

ইংলিশ চ্যানেল হয়ে যুক্তরাজ্যে আসা অভিবাসীদের নৌকা আটকাতে ফরাসি পুলিশ এবার প্রথমবারের মতো সমুদ্র অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে। লে মোঁদে প্রকাশিত এক গোপন সরকারি নথিতে এই অভূতপূর্ব পদক্ষেপের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ায় দুই দেশের আলোচনায় নতুন মোড় এসেছে।

চারজন ফরাসি দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি স্বাক্ষরিত নথিতে জানানো হয়েছে, মেরিটাইম জঁদারমেরি এখন থেকে সমুদ্রে সরাসরি অভিযান চালাবে, যাতে ফোলানো ছোট নৌকা বা ডিঙি ইংল্যান্ডের দিকে যাত্রা করার আগেই আটকানো যায়। এসব নৌকার বড় অংশই কালে, ডানকার্কসহ উত্তর ফ্রান্সের উপকূল থেকে রওনা দেয়।

গত এক বছরে চ্যানেল পাড়ি দিয়েছে ৩৯ হাজারের বেশি অভিবাসী—যাদের অধিকাংশই ইরান, আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়া, ইরিত্রিয়া ও সুদান থেকে আসা আশ্রয়প্রার্থী। এ অবস্থায় যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁকে লেখা এক চিঠিতে উল্লেখ করেন, “এ মাসেই আমাদের এই কৌশলগুলো প্রয়োগ করা অত্যন্ত জরুরি, চ্যানেলে আমাদের কোনো কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেই।”

ফ্রান্সের নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এই অভিযান অত্যন্ত সংবেদনশীল ও অভূতপূর্ব, তাই মাঠ পর্যায়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও নমনীয়তা বজায় রাখতে হবে। পাশাপাশি মানবজীবন রক্ষা—এটি হবে “সর্বোচ্চ ও অবিচল অগ্রাধিকার।”

প্রাথমিকভাবে অভিযান লক্ষ্য করবে ‘ট্যাক্সি বোট’ নামে পরিচিত নৌকাগুলোকে—যেগুলো প্রথমে খালি অবস্থায় পানিতে ঢোকে এবং পরে পাচারকারীরা সৈকতের কাছে এগুলোতে যাত্রী তোলে। অভিযান চলাকালীন পুলিশ ধাপে ধাপে ব্যবস্থা নেবে—থামার নির্দেশ থেকে শুরু করে নৌকাকে নিষ্ক্রিয় করা, দিক পরিবর্তন করানো এবং যাত্রীদের হস্তান্তর পর্যন্ত।

তবে এই পরিকল্পনা নিয়ে ফ্রান্সের পুলিশ ইউনিয়নগুলো তীব্র উদ্বেগ জানিয়েছে। দেশের বৃহত্তম ইউনিয়ন অ্যালায়েন্স–এর এক কর্মকর্তা বলেন, “একটি ভিড়ে ঠাসা নৌকা—যেখানে নারী-শিশু মিশে আছে—সেটিকে জোর করে থামানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।” ফরাসি নৌবাহিনীও আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছে, ভুল পদক্ষেপে সহজেই ডুবে মৃত্যুসহ ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্য চ্যানেল নিরাপত্তায় ফ্রান্সকে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন পাউন্ড প্রদান করেছে। কিন্তু লন্ডনের অভিযোগ—বিনিয়োগের তুলনায় কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না। সে কারণেই সমুদ্র অভিযানের মতো কঠোর পদক্ষেপের বিষয়ে দুই দেশের আলোচনায় তীব্র চাপ ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ফ্রান্সের এই নতুন পদক্ষেপ ইংলিশ চ্যানেলে অভিবাসী প্রবাহ সীমিত করতে কতটা কার্যকর হবে—এখন সেটিই নজরকাড়া বিষয়।

সূত্রঃ ডেইলি মেইল

এম.কে

আরো পড়ুন

এনএইচএস’কে সহায়তায় পরিবারগুলোকে ভূমিকা পালন করতে হবে: স্বাস্থ্য সচিব

অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাজ্যের ভ্রমণ শিল্পে হতাশা

নিউজ ডেস্ক

ইউরোপজুড়ে গুগল ক্লাউডে বড় বিপর্যয়ঃ অচল ব্যাংকিং অ্যাপ ও অনলাইন সেবা