12.3 C
London
June 10, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ইংল্যান্ডের জরুরি বিভাগে দীর্ঘ অপেক্ষাঃ এক দশকে ১০ গুণ বেড়েছে দীর্ঘ অপেক্ষাজনিত মৃত্যু

ইংল্যান্ডের হাসপাতালগুলোর জরুরি বিভাগে (এঅ্যান্ডই) দীর্ঘ সময় অপেক্ষার কারণে প্রতি মাসে ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি রোগীর অপ্রয়োজনীয় মৃত্যু ঘটছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে দেশটির জরুরি চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের সংগঠন রয়্যাল কলেজ অব ইমার্জেন্সি মেডিসিন (আরসিইএম)। সংস্থাটির সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত এক দশকে এ ধরনের মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ১০ গুণ বেড়েছে।

আরসিইএমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রতি সপ্তাহে ৩০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু জরুরি বিভাগে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। ২০১৫ সালে যেখানে এ সংখ্যা ছিল প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৩০ জন। সেই হিসাবে, চলতি বছরে দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে অতিরিক্ত মৃত্যুর সম্ভাব্য সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৮৬০ জনে। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ১৬ হাজার ৬৪৪ এবং ২০১৫ সালে ছিল ১ হাজার ৬৫৭ জন।

অতিরিক্ত মৃত্যুর এ হিসাব নির্ধারণে ২০২১ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণার তথ্য ব্যবহার করেছে আরসিইএম। পাঁচ মিলিয়নের বেশি এনএইচএস রোগীর ওপর পরিচালিত ওই গবেষণায় দেখা যায়, জরুরি বিভাগে আট থেকে ১২ ঘণ্টা অপেক্ষার পর হাসপাতালে শয্যা পাওয়া প্রতি ৭২ জন রোগীর মধ্যে একজন অতিরিক্ত মৃত্যুর শিকার হন। গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়, পাঁচ ঘণ্টার বেশি অপেক্ষার পর থেকেই মৃত্যুঝুঁকি বাড়তে শুরু করে এবং অপেক্ষার সময় যত দীর্ঘ হয়, ঝুঁকিও তত বৃদ্ধি পায়।

আরসিইএমের সভাপতি ডা. ইয়ান হিগিনসন বলেন, “এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে প্রয়োজনের সময় রোগীরা হাসপাতালে আসলেও শয্যাসংকটের কারণে চিকিৎসকরা যথাযথভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না।”

তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, “এই ভয়াবহ সংকট কেন রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে নেই? আর কত মানুষের মৃত্যু হলে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে?”

ডা. হিগিনসনের অভিযোগ, সমস্যার মূল কারণ দূর করার পরিবর্তে কর্তৃপক্ষ পরিসংখ্যানের সামান্য উন্নতির দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। এতে সবচেয়ে গুরুতর অবস্থায় থাকা রোগীরা প্রয়োজনীয় অগ্রাধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

তার ভাষায়, “আমরা বারবার এমন সব পুরোনো ধারণার মুখোমুখি হচ্ছি, যেগুলো কখনো কার্যকর প্রমাণিত হয়নি। বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটায় না এমন তথ্য এবং তথাকথিত দ্রুত সমাধানের ওপর নির্ভর করা হচ্ছে।”

রয়্যাল কলেজ অব নার্সিংয়ের মহাসচিব ও প্রধান নির্বাহী অধ্যাপক নিকোলা রেঞ্জার এই পরিস্থিতিকে “নিয়ন্ত্রণহীন বিপর্যয়” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালগুলোতে এ সংকট অব্যাহত থাকলেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

তার মতে, সমস্যার সমাধানে স্বাস্থ্যব্যবস্থাজুড়ে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি। এর মধ্যে হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি, নার্স নিয়োগে বিনিয়োগ, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, কমিউনিটি নার্সিং শক্তিশালীকরণ এবং সামাজিক সেবাখাতে সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকা উচিত।

সোসাইটি ফর অ্যাকিউট মেডিসিনের সভাপতি ডা. ভিকি প্রাইস বলেন, এ ধরনের মৃত্যু “জাতীয় লজ্জার” বিষয় এবং জরুরি বিভাগে অতিরিক্ত ভিড়ের সমস্যা ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা বিভাগ দীর্ঘ সময় জরুরি চিকিৎসার জন্য অপেক্ষা করাকে “গ্রহণযোগ্য নয়” বলে উল্লেখ করেছে। এক বিবৃতিতে বিভাগটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, যারা তাদের স্বজনদের হারিয়েছেন তাদের প্রতি সরকার সমবেদনা জানাচ্ছে।

বিভাগটির একজন মুখপাত্র বলেন, গত সাড়ে চার বছরের মধ্যে বর্তমানে জরুরি বিভাগের অপেক্ষার সময় সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। তবে পরিস্থিতির আরও উন্নয়নে কাজ চলছে।

সরকার জানিয়েছে, ইংল্যান্ডজুড়ে জরুরি বিভাগের ওপর চাপ কমাতে একই দিনে চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী ও জরুরি চিকিৎসা কেন্দ্রের নতুন এবং সম্প্রসারিত ৪০টি প্রকল্পে ২১ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ডের বেশি বিনিয়োগ করা হচ্ছে। এছাড়া করিডোরে রোগীসেবার মতো পরিস্থিতি দূর করতে সবচেয়ে বেশি সমস্যাগ্রস্ত এনএইচএস ট্রাস্টগুলোতে বিশেষজ্ঞ দল মোতায়েন করা হয়েছে।

তবে স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, সমস্যার মূল কারণগুলো দ্রুত সমাধান না করা গেলে ইংল্যান্ডের জরুরি বিভাগগুলো দীর্ঘদিন ধরেই চরম চাপের মধ্যে থাকবে এবং অপ্রয়োজনীয় মৃত্যুর মিছিল থামানো কঠিন হয়ে পড়বে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

গ্রেটার ম্যানচেস্টারে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ব্রিটিশ বাংলাদেশি ট্যাক্সি চালকসহ চারজন নিহত

যুক্তরাজ্যে হামাসের পক্ষে অবস্থান নিলে নাগরিকদের নামে হতে পারে ফৌজদারি মামলা

নিউজ ডেস্ক

ধুমপান নিয়ে আবারো কঠিন বার্তা দিলেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক