15.2 C
London
June 8, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ইংল্যান্ডে সামাজিক আবাসনের ভয়াবহ সংকটঃ অপেক্ষমাণ তালিকা শেষ করতে লাগতে পারে ১১৯ বছর

ইংল্যান্ডে সামাজিক আবাসন সংকট নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। বর্তমান হারে নতুন সামাজিক আবাসন নির্মাণ অব্যাহত থাকলে অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা পরিবারগুলোর জন্য ঘর নিশ্চিত করতে ১১৯ বছর সময় লাগতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবাসনবিষয়ক দাতব্য সংস্থা শেল্টার।

সংস্থাটির সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমানে ইংল্যান্ডে ১৩ লাখেরও বেশি পরিবার সামাজিক আবাসনের জন্য অপেক্ষমাণ তালিকায় রয়েছে। অথচ গত বছর স্থানীয় কাউন্সিল, আবাসন সমিতি এবং বেসরকারি উন্নয়নকারীরা মিলে মাত্র ১২ হাজার ১৯৮টি নতুন সামাজিক আবাসন নির্মাণ করেছে। অর্থাৎ প্রতিটি নতুন ঘরের বিপরীতে গড়ে ১১০টি পরিবার অপেক্ষা করছে।

শেল্টারের প্রধান নির্বাহী সারা এলিয়ট বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আজ জীবিত থাকা অধিকাংশ মানুষই আবাসন সংকটের সমাপ্তি দেখে যেতে পারবেন না। তাঁর মতে, নতুন সামাজিক আবাসনের তীব্র ঘাটতি দূর করা না গেলে সমাজে বৈষম্য আরও বাড়বে এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম শিশু গৃহহীনতার ঝুঁকিতে বড় হবে।

গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, গত ১৫ বছরে ইংল্যান্ডে নতুন সামাজিক ভাড়ার ঘর নির্মাণ ৬৪ শতাংশ কমে গেছে। বিপরীতে অস্থায়ী আবাসনে থাকা গৃহহীন পরিবারের সংখ্যা বেড়েছে ১৫৫ শতাংশ। ফলে নিরাপদ ও স্থায়ী বাসস্থানের সংকট দিন দিন আরও গভীর হচ্ছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইংল্যান্ডের প্রায় ২০ শতাংশ কাউন্সিল এলাকায় গত দুই বছরে একটি নতুন সামাজিক আবাসনও নির্মিত হয়নি। আবার প্রায় ৩০ শতাংশ এলাকায় নির্মিত হয়েছে ১০টিরও কম সামাজিক ঘর। অথচ ১৯৬৭ সালে দেশটিতে নির্মিত নতুন ঘরগুলোর প্রায় অর্ধেকই ছিল সামাজিক ভাড়ার জন্য এবং সেগুলোর বেশিরভাগই নির্মাণ করত স্থানীয় কাউন্সিলগুলো।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকটের পেছনে দীর্ঘদিনের নীতিগত ব্যর্থতা কাজ করছে। সামাজিক আবাসন খাতে বিনিয়োগ কমে যাওয়া, কাউন্সিল হাউজ বিক্রির নীতি এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

শেল্টারের দাবি, ২০১২ সালে কেন্দ্রীয় সরকারের আরোপিত প্রায় ২৯ বিলিয়ন পাউন্ডের আবাসন ঋণের বোঝা স্থানীয় কাউন্সিলগুলোর জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঋণের সুদ পরিশোধ করতে গিয়ে অনেক কাউন্সিল নতুন আবাসন নির্মাণে প্রয়োজনীয় অর্থ ব্যয় করতে পারছে না। একই সঙ্গে তারা যে হারে পুরোনো ঘর বিক্রি করছে, সেই হারে নতুন ঘর নির্মাণও সম্ভব হচ্ছে না।

সোশ্যাল হাউজিং অ্যাকশন ক্যাম্পেইনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা সুজান মুনা বলেছেন, শুধু নতুন ঘর নির্মাণের লক্ষ্য ঘোষণা করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। তাঁর মতে, সামাজিক আবাসন ব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করতে ব্যাপক সরকারি বিনিয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।

এদিকে ব্রিটিশ সরকার ইতোমধ্যে ‘কাউন্সিল হাউজিং বিপ্লব’-এর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ৩ লাখ নতুন সামাজিক ও সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ১ লাখ ৮০ হাজার ঘর সামাজিক ভাড়ার জন্য নির্ধারিত থাকবে। সরকার বলছে, এই পরিকল্পনা স্থানীয় কাউন্সিলগুলোকে আবার বড় পরিসরে আবাসন নির্মাণে উৎসাহিত করবে।

তবে আবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সংকটের গভীরতা বিবেচনায় ঘোষিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি কাউন্সিলগুলোর আর্থিক বাধা দূর করা এবং সামাজিক আবাসন খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা লাখো পরিবারের জন্য একটি নিরাপদ বাসস্থান পাওয়া আরও দীর্ঘ ও অনিশ্চিত হয়ে উঠতে পারে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

ইউরোপে নতুন বায়োমেট্রিক সীমান্তঃ ব্রিটিশ যাত্রীদের বিমানবন্দরে ৩ ঘণ্টা আগে পৌঁছানোর পরামর্শ

২০২৩ সালে ল্যান্ডলর্ডদের যা জানা প্রয়োজন

নিউজ ডেস্ক

ইংলিশ চ্যানেলে অভিবাসন প্রত্যাশীদের নৌকাডুবিতে নিহত ৬