19.3 C
London
August 5, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ইউকেতে ডিডব্লিউপির কড়া আইনঃ বকেয়া থাকলে ব্যাংক হিসাব থেকে অর্থ কাটা ও ড্রাইভিং নিষেধাজ্ঞা

যুক্তরাজ্যের কর্ম ও পেনশন বিভাগ (ডিডব্লিউপি) বকেয়া সরকারি ঋণ আদায়ে নতুন ও আরও কঠোর ক্ষমতা কার্যকর করতে যাচ্ছে। নতুন ব্যবস্থার আওতায় যেসব ব্যক্তি আর বেনিফিট গ্রহণ করছেন না কিন্তু এখনও ডিডব্লিউপির কাছে ঋণী রয়েছেন, তাদের ব্যাংক হিসাব থেকে আদালতের পূর্বানুমতি ছাড়াই অর্থ আদায় করা যাবে। গুরুতর ক্ষেত্রে আদালতের মাধ্যমে ড্রাইভিং লাইসেন্স স্থগিত বা নিষিদ্ধ করার ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।

ডিডব্লিউপি জানিয়েছে, নতুন আইন মূলত সরকারি অর্থ আত্মসাৎকারী এবং ইচ্ছাকৃতভাবে ঋণ পরিশোধ এড়িয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা জোরদারের উদ্দেশ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে। এ সপ্তাহ থেকেই সম্ভাব্য প্রভাবিত ব্যক্তিদের কাছে সতর্কতামূলক চিঠি পাঠানো শুরু হয়েছে। চিঠিতে তাদের দ্রুত ডিডব্লিউপির সঙ্গে যোগাযোগ করে বকেয়া পরিশোধ অথবা গ্রহণযোগ্য কিস্তি পরিকল্পনায় সম্মত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

কর্ম ও পেনশন বিভাগের মন্ত্রী অ্যান্ড্রু ওয়েস্টার্ন বলেন, কঠোর পরিশ্রমী করদাতারা এমন একটি ব্যবস্থা পাওয়ার অধিকার রাখেন, যেখানে ইচ্ছাকৃতভাবে সরকারি ঋণ পরিশোধ এড়িয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, যাদের বকেয়া রয়েছে তাদের জন্য ডিডব্লিউপির দরজা সবসময় খোলা এবং সামর্থ্য অনুযায়ী ঋণ পরিশোধের পথ খুঁজে বের করতে বিভাগ সহযোগিতা করবে। তবে যারা পরিশোধ করার সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তা করবেন না, তাদের বিরুদ্ধে আগের চেয়ে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডিডব্লিউপি জানিয়েছে, নতুন ক্ষমতার পূর্ণ বাস্তবায়ন আগামী অক্টোবর থেকে ধাপে ধাপে কার্যকর হবে। অর্থাৎ ঋণগ্রহীতাদের হাতে প্রায় চার মাস সময় থাকবে বকেয়া পরিশোধ বা একটি গ্রহণযোগ্য পরিশোধ পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার জন্য। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগাযোগ করলে কঠোর ব্যবস্থার মুখোমুখি হওয়া এড়ানো সম্ভব হবে বলেও জানানো হয়েছে।

বিভাগ আরও জানিয়েছে, প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিনামূল্যের ঋণ-পরামর্শ সেবার দিকেও নির্দেশনা দেওয়া হবে। বর্তমানে যারা বেনিফিট গ্রহণ করছেন এবং ডিডব্লিউপির কাছে ঋণী, তাদের ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ বেনিফিট থেকে কেটে অর্থ আদায় করা হয়। কিন্তু কেউ বেনিফিট নেওয়া বন্ধ করলে সেই অর্থ আদায় করা কঠিন হয়ে পড়ে। নতুন আইন সেই সমস্যার সমাধানেই প্রণয়ন করা হয়েছে।

নতুন বিধান অনুযায়ী, কমপক্ষে এক হাজার পাউন্ড বা তার বেশি বকেয়া থাকলে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাজ বা জীবিকার জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্স অপরিহার্য না হলে আদালত তার লাইসেন্স স্থগিত বা নিষিদ্ধ করার নির্দেশ দিতে পারবেন।

ক্যাবিনেট অফিসের মন্ত্রী সাতভির কৌর বলেন, সরকারি খাতে জালিয়াতি এবং অনাদায়ী ঋণের কারণে গুরুত্বপূর্ণ জনসেবা খাত প্রয়োজনীয় অর্থায়ন থেকে বঞ্চিত হয়। নতুন আইনের মাধ্যমে সরকার করদাতাদের অর্থ সুরক্ষা এবং সরকারি অর্থ আত্মসাৎকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিশ্চিত করতে চায়।

ডিডব্লিউপি জোর দিয়ে বলেছে, যাদের কাছে সতর্কতামূলক চিঠি পৌঁছাবে তারা যেন বিলম্ব না করে বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সময়মতো সমাধানের উদ্যোগ নিলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা এড়ানো সম্ভব হবে।

সূত্রঃ দ্য মিরর

এম.কে

আরো পড়ুন

বরিস বেকারকে নির্বাসন দেওয়া হতে পারে

যুক্তরাজ্যের স্যালিসবারিতে প্রথম বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত মেয়র

যুক্তরাজ্যে সব পর্ন সাইটগুলোকে বয়স কঠোরভাবে যাচাই করার নির্দেশ

নিউজ ডেস্ক