18.1 C
London
October 4, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ইউকে-তে ব্যবসা সম্প্রসারণে বিদেশি কর্মী আনার সুযোগঃ মিলছে এক্সপ্যানশন ওয়ার্কার ভিসা

বিদেশি কোনো ব্যবসা ইউকে-তে নতুন কার্যক্রম শুরু বা ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপক ও বিশেষজ্ঞ কর্মীদের ইউকে-তে পাঠানোর সুযোগ রয়েছে ‘ইউকে এক্সপ্যানশন ওয়ার্কার ভিসা’ রুটে। গ্লোবাল বিজনেস মোবিলিটি ব্যবস্থার এই ভিসা ২০২২ সালের ১১ এপ্রিল চালু করা হয় এবং এটি আগের ওভারসিজ বিজনেসের প্রতিনিধি ভিসার পরিবর্তে চালু হয়েছে।

ফ্রি মুভমেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ভিসায় প্রথমবার সর্বোচ্চ এক বছরের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। পরে আরও এক বছরের জন্য তা বাড়ানো সম্ভব। তবে এই রুটে টানা সর্বোচ্চ দুই বছর থাকা যায় এবং নির্দিষ্ট অন্যান্য গ্লোবাল বিজনেস মোবিলিটি ও ইন্ট্রা-কোম্পানি রুটের সময়সহ ছয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর থাকার সীমা রয়েছে।

এক্সপ্যানশন ওয়ার্কার ভিসায় থাকা অবস্থায় সরাসরি স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা ইন্ডেফিনিট লিভ টু রিমেইন পাওয়া যায় না। পাঁচ বছরের বেশি ইউকে-তে থাকতে হলে সাধারণত অন্য কোনো অভিবাসন রুটে, যেমন স্কিল্ড ওয়ার্কার রুটে যেতে হবে।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান একই সময়ে সর্বোচ্চ ১০ জন এক্সপ্যানশন ওয়ার্কারকে স্পনসর করতে পারে। আগে এই সংখ্যা ছিল পাঁচজন। ২০২৫ সালের ২২ জুলাই থেকে সর্বোচ্চ সংখ্যা ১০ জন করা হয়েছে। ভিসাধারীরা নির্দিষ্ট শর্তে তাদের পরিবারের সদস্যদেরও ইউকে-তে আনতে পারেন।

এই ভিসার জন্য বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে প্রথমে ইউকে এক্সপ্যানশন ওয়ার্কার স্পনসর লাইসেন্স নিতে হবে। প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে ইউকে-তে সক্রিয়ভাবে ব্যবসা পরিচালনা করলে এই রুট ব্যবহার করা যাবে না; সে ক্ষেত্রে স্কিল্ড ওয়ার্কার বা সিনিয়র অ্যান্ড স্পেশালিস্ট ওয়ার্কার রুট বিবেচনা করতে হবে।

স্পনসর প্রতিষ্ঠানের ইউকে-তে ব্যবসায়িক উপস্থিতির প্রমাণ থাকতে হবে। এর মধ্যে ব্যবসায়িক কার্যালয় নিশ্চিত করা অথবা কোম্পানিজ হাউসে শাখা বা সহযোগী প্রতিষ্ঠান নিবন্ধনের মতো বিষয় থাকতে পারে। সাধারণভাবে বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে কমপক্ষে তিন বছর ধরে বিদেশে সক্রিয়ভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে, যদিও নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রয়েছে।

ভিসার জন্য আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট স্পনসর গ্রুপের সঙ্গে আগে থেকেই কাজ করতে হবে। সাধারণ নিয়মে ইউকে-র বাইরে ওই প্রতিষ্ঠান বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কমপক্ষে ১২ মাস ধারাবাহিকভাবে কাজ করার শর্ত রয়েছে। তবে বছরে কমপক্ষে ৭৩ হাজার ৯০০ পাউন্ড আয়কারী উচ্চ আয়ের কর্মী এবং কিছু নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে এই শর্তে ছাড় রয়েছে।

চাকরিটির দক্ষতার মানও নির্দিষ্ট হতে হবে। সাধারণভাবে পদটি আরকিউএফ লেভেল ৬ বা তার বেশি অর্থাৎ ডিগ্রি পর্যায়ের দক্ষতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। হোম অফিস প্রয়োজন হলে যাচাই করতে পারে, আবেদনকারী সত্যিই ওই দক্ষতার কাজ করবেন কি না এবং তার যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা সংশ্লিষ্ট পদের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না।

এই ভিসার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো বেতন। আবেদনকারীর বার্ষিক বেতন কমপক্ষে ৫২ হাজার ৫০০ পাউন্ড হতে হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পেশার নির্ধারিত ‘গোয়িং রেট’ যদি ৫২ হাজার ৫০০ পাউন্ডের চেয়ে বেশি হয়, তাহলে সেই উচ্চতর বেতনসীমা পূরণ করতে হবে।

ভিসার জন্য আবেদনকারীর কাজটি সত্যিকারের হতে হবে এবং স্পনসর যে পদে নিয়োগ দিয়েছে, সেই পদেই কাজ করার উদ্দেশ্য থাকতে হবে। হোম অফিস প্রয়োজন মনে করলে অতিরিক্ত নথি চাইতে বা আবেদনকারীকে প্রশ্ন করতে পারে।

ইউকের ভেতর থেকেও নির্দিষ্ট অভিবাসন রুট থেকে এক্সপ্যানশন ওয়ার্কার ভিসায় পরিবর্তন করা যায়। তবে কেউ যদি সর্বশেষ ভিজিটর হিসেবে ইউকে-তে অবস্থান করেন, তাহলে ভেতর থেকে এই রুটে পরিবর্তন করা যাবে না। তাকে ইউকের বাইরে থেকে আবেদন করতে হবে। শিক্ষার্থীসহ কিছু রুটের ক্ষেত্রেও আলাদা বিধিনিষেধ রয়েছে।

আবেদনের জন্য সাধারণত স্পনসরশিপের সার্টিফিকেট প্রয়োজন হবে। সার্টিফিকেটে আবেদনকারীর নাম, চাকরির পদ, বেতন, কাজ শুরুর তারিখসহ প্রয়োজনীয় তথ্য থাকতে হবে। সার্টিফিকেটে উল্লেখ করা কাজ শুরুর তারিখের তিন মাসের বেশি আগে ভিসার আবেদন করা যাবে না।

আবেদনকারীর আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণও দিতে হবে। সাধারণ নিয়মে কমপক্ষে ১ হাজার ২৭০ পাউন্ড অর্থ টানা ২৮ দিন নিজের কাছে থাকার প্রমাণ দেখাতে হয়। তবে ইউকে-তে আগে থেকেই ১২ মাস বা তার বেশি সময় ধরে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্তে এই অর্থের প্রমাণের প্রয়োজন নাও হতে পারে।

বর্তমানে এই ভিসার সার্টিফিকেট অব স্পনসরশিপের ফি ৫৫ পাউন্ড, ভিসা আবেদনের ফি ৩৪০ পাউন্ড এবং ইমিগ্রেশন হেলথ সারচার্জ বছরে ১ হাজার ৩৫ পাউন্ড। স্পনসর লাইসেন্সের ফি ৬১১ পাউন্ড। এই রুটে ইমিগ্রেশন স্কিলস চার্জ দিতে হয় না।

ভিসা অনুমোদিত হলে আবেদনকারী ইভিসা পাবেন। তিনি স্পনসরশিপের সার্টিফিকেটে উল্লেখ করা কাজ করতে পারবেন, পড়াশোনা ও স্বেচ্ছাসেবী কাজ করতে পারবেন। তবে অতিরিক্ত চাকরি করার অনুমতি নেই এবং সরকারি তহবিল বা পাবলিক ফান্ড ব্যবহারের সুযোগও নেই।

ফ্রি মুভমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ইউকে-তে কাজ ও পড়াশোনার জন্য প্রায় ৬ লাখ ৪০ হাজার প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা স্পনসর হিসেবে নিবন্ধিত থাকলেও এক্সপ্যানশন ওয়ার্কার রুটে লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল প্রায় ১ হাজার ৮০০। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যবসা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে এই রুট তুলনামূলকভাবে জটিল হওয়ায় আবেদন করার আগে স্কিল্ড ওয়ার্কার, গ্লোবাল ট্যালেন্ট বা হাই পটেনশিয়াল ইন্ডিভিজুয়ালসহ বিকল্প রুট বিবেচনা করা যেতে পারে।

সূত্রঃ ফ্রি মুভমেন্ট

এমকে

আরো পড়ুন

নির্বাচনের আগে উইন্ড্রাশ কেলেঙ্কারি নিয়ে চরম বিপাকে কনজারভেটিভ সরকার

‘৪০ বছরের সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের’ প্রতিশ্রুতিঃ শুরুতেই সমালোচনার মুখে বার্নহাম সরকার

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘বাঁকা কলা’ আইন বাতিল করবে যুক্তরাজ্য