TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ব্রিটেনকে ঘিরে বাড়ছে রুশ হুমকিঃ এমআইসিক্স

রাশিয়া ও অন্যান্য শত্রুতাপূর্ণ রাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান আগ্রাসনের মুখে যুক্তরাজ্য একটি নতুন “অনিশ্চয়তার যুগে” প্রবেশ করেছে বলে সতর্ক করেছেন এমআই৬-এর নতুন প্রধান ব্লেইজ মেট্রেউয়েলি। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম ভাষণে তিনি বলেন, পরিকল্পিত হত্যাচেষ্টা, নাশকতা, সাইবার হামলা ও তথ্যযুদ্ধের কারণে এখন “ফ্রন্টলাইন সর্বত্র” ছড়িয়ে পড়েছে।

 

মেট্রেউয়েলির ভাষণে রাশিয়াকে যুক্তরাজ্যের জন্য একটি তাৎক্ষণিক ও প্রধান হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তিনি বলেন, ক্রেমলিনের দৃষ্টিভঙ্গি আক্রমণাত্মক, সম্প্রসারণবাদী ও সংশোধনবাদী, যার ফল হিসেবে ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে আগ্রাসনের নির্দেশ দিয়েছেন এবং ইউরোপজুড়ে নানা ধরনের আগ্রাসী সহায়ক তৎপরতা চালাচ্ছেন।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে রাশিয়ার কৌশলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি। পুতিনকে তার হিসাব বদলাতে বাধ্য না করা পর্যন্ত এই প্রবণতা অব্যাহত থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে ইউক্রেনের প্রতি যুক্তরাজ্যের সমর্থন অবিচল থাকবে এবং মস্কোর ওপর চাপ অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন এমআই৬ প্রধান।

এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্যের চিফ অব দ্য ডিফেন্স স্টাফ এয়ার চিফ মার্শাল রিচার্ড নাইটনও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, তার সামরিক জীবনে বর্তমান পরিস্থিতির মতো বিপজ্জনক সময় আর দেখেননি। নাইটনের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধ প্রমাণ করেছে যে রাশিয়া প্রতিবেশী রাষ্ট্রের পাশাপাশি বেসামরিক জনগণকেও লক্ষ্যবস্তু করতে দ্বিধা করে না।

যুক্তরাজ্য যে ধরনের হুমকির মুখোমুখি হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে ২০১৮ সালে স্যালিসবারিতে সের্গেই ও ইউলিয়া স্ক্রিপালকে নার্ভ এজেন্ট দিয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনা। ওই ঘটনায় ব্রিটিশ নাগরিক ডন স্টারজেসের মৃত্যু হয়। সম্প্রতি প্রকাশিত এক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই মৃত্যুর জন্য রুশ প্রেসিডেন্ট নৈতিকভাবে দায়ী।

এ ছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ব্যাপক মাত্রায় ভুয়া তথ্য ছড়ানোর অভিযোগও উঠেছে রাশিয়ার বিরুদ্ধে। ইউক্রেনের প্রতি জনসমর্থন দুর্বল করা এবং ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্য নিয়ে গুজব ছড়ানোর মতো অপচেষ্টা এর অংশ বলে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে, যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী ছয়জন বুলগেরীয় নাগরিককে রুশ গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে সম্প্রতি কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তারা ইউরোপজুড়ে ক্রেমলিনবিরোধী এক সাংবাদিকের ওপর নজরদারি এবং জার্মানিতে প্রশিক্ষণরত ইউক্রেনীয় সেনাদের তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেছিল বলে আদালতে প্রমাণিত হয়।

রাশিয়ার হুমকির পাশাপাশি প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন মেট্রেউয়েলি। তিনি বলেন, আধুনিক গোয়েন্দা কার্যক্রমে প্রযুক্তি ও মানব গোয়েন্দা—উভয় ক্ষেত্রেই সমান দক্ষতা জরুরি। কোড লেখা থেকে শুরু করে মানব সূত্র ব্যবস্থাপনা—সবক্ষেত্রেই এমআই৬ কর্মকর্তাদের দক্ষ হতে হবে।

ভাষণের শেষাংশে নতুন এমআই৬ প্রধান বলেন, একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ শুধু শক্তিশালী প্রযুক্তির মালিক হওয়া নয়, বরং তা প্রজ্ঞা ও নৈতিকতার সঙ্গে পরিচালনা করা। তার মতে, যৌথ মানবিকতা, সাহস এবং পারস্পরিক বোঝাপড়াই ভবিষ্যতে যুক্তরাজ্য ও তার মিত্রদের নিরাপত্তার পথ নির্ধারণ করবে।

সূত্রঃ বিবিসি

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যের প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থীদের নিতে চায় কসোভো, নিরাপত্তা সহায়তা চায় বিনিময়ে

অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক করছে বড় প্রতিষ্ঠানগুলো

ইরানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে দেশে ফিরলেন ব্রিটিশ নাগরিক