19.2 C
London
June 20, 2026
TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

ইউনিয়নের নামকরণ বিতর্কে চাপে শাহে আলমঃ অস্বস্তিতে বিএনপির মন্ত্রী-এমপিরা

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে ঘিরে সৃষ্ট ইউনিয়নের নামকরণ বিতর্কে ক্ষমতাসীন বিএনপির ভেতরে অস্বস্তি ও অসন্তোষ বাড়ছে। দলটির একাধিক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং স্থায়ী কমিটির সদস্যরা মনে করছেন, ঘটনাটি সরকারের জন্য অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক সৃষ্টি করেছে এবং বিরোধীদের সমালোচনার সুযোগ করে দিয়েছে।

দলীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্ট নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় চার মাস পর এই প্রথমবারের মতো মন্ত্রিসভার কোনো সদস্যকে ঘিরে এমন বিতর্কে প্রকাশ্যে বিব্রত বোধ করছেন বিএনপির অনেক নেতা।

বিতর্কের সূত্রপাত হয় প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমের নির্বাচনী এলাকায় নবগঠিত তিনটি ইউনিয়নের নাম নিয়ে। অভিযোগ ওঠে, এসব ইউনিয়নের নাম তার পারিবারিক পদবি এবং দুই ছেলের নামের সঙ্গে মিলে যায়। বিষয়টি জাতীয় সংসদে উত্থাপিত হলে তা রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

গত সোমবার সংসদে প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, দুটি ইউনিয়নের নাম তার ছেলেদের নামের সঙ্গে মিলে যাওয়া ‘মিরাকল’ বা অলৌকিক ঘটনা ছাড়া কিছু নয়। তবে তার এই ব্যাখ্যা দলীয় নেতাদের একটি অংশের মধ্যেও গ্রহণযোগ্যতা পায়নি বলে জানা গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে চট্টগ্রাম বিভাগের একজন মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেখানে নিজের পরিবারের সদস্যদের নাম সরকারি স্থাপনা বা প্রতিষ্ঠানে ব্যবহার করতে অনাগ্রহী, সেখানে ব্যক্তিগতভাবে সংশ্লিষ্ট এমন বিষয়ে মন্ত্রীদের আরও সতর্ক থাকা উচিত ছিল।

তিনি বলেন, “সংসদে বিদ্রূপাত্মক ভঙ্গিতে জবাব না দিয়ে বিষয়টি যুক্তিসঙ্গতভাবে ব্যাখ্যা করা উচিত ছিল। তিনি এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করছেন, যার প্রতিটি কর্মকাণ্ড সরকার ও দলের সামগ্রিক ভাবমূর্তির সঙ্গে জড়িত।”

আরেকজন মন্ত্রী বলেন, “ধরে নিলাম নামগুলো কাকতালীয়ভাবে মিলে গেছে। কিন্তু চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে কেন বিষয়টি থামানো হলো না? এতে বিরোধীদের হাতে সমালোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।”

দলীয় সূত্রগুলো জানায়, বিষয়টি ইতোমধ্যে সরকারের উচ্চপর্যায়েও পৌঁছেছে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত বা অবস্থান এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

সংসদের বিরতির সময় কয়েকজন সরকারি দলের এমপি বিষয়টি নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছেন বলেও জানা গেছে। একজন সংসদ সদস্য বলেন, প্রতিমন্ত্রীর ব্যাখ্যা সংসদ সদস্যদের অনেককেই অস্বস্তিকর অবস্থায় ফেলেছে।

তার ভাষায়, “আমরা মাঠে জনগণের নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হচ্ছি। তিনি যে ব্যাখ্যা দিচ্ছেন, তা খুবই দুর্বল। এতে সরকার ও দলের অবস্থান ব্যাখ্যা করা কঠিন হয়ে পড়ছে।”

আরেকজন সংসদ সদস্য অভিযোগ করেন, উন্নয়ন প্রকল্প ও বরাদ্দ বণ্টন নিয়েও প্রতিমন্ত্রীকে ঘিরে প্রশ্ন উঠছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে শাহে আলমের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

উত্তরাঞ্চলের একজন সরকারি দলের এমপি বলেন, “তৃণমূলের নেতাকর্মীরাও বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করছেন। প্রধানমন্ত্রী যখন নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন, তখন এ ধরনের বিতর্ক হতাশাজনক।”

এদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য জানিয়েছেন, বিষয়টি দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়েও আলোচনা হয়েছে। একজন সদস্য বলেন, “দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের পর বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে। এখন যদি কোনো ব্যক্তির কর্মকাণ্ডে দল ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে সেটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।”

আরেক সদস্যের দাবি, সম্প্রতি শাহে আলমের নির্বাচনী এলাকায় তুলনামূলক বেশি বরাদ্দ এবং তার পরিবারের সদস্যদের সম্পৃক্ততা নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনও জনমনে প্রশ্ন তৈরি করেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো যাচাই সম্ভব হয়নি।

প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি বলে জানা গেছে।

দলীয় সূত্রে আরও জানা যায়, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার জন্য বগুড়া-২ আসন ছেড়ে দেওয়ার পূর্বঘোষণা থেকে বিএনপি সরে আসার পর শাহে আলম ওই আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।

সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া

এম.কে

আরো পড়ুন

হাসিনার ‘রাহুল-প্রিয়াঙ্কা মডেল’ আওয়ামী লীগের জন্য আরেকটি ভুল পদক্ষেপ

কেউ পালানোর চেষ্টা করলে বিজিবিকে জানানোর আহ্বান

ইলিয়াস আলীকে হত্যার পর লাশ যমুনায়