17.8 C
London
October 15, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ইউরোপীয় ইউনিয়নে ফিরতে চায় লন্ডনের দুই-তৃতীয়াংশ মানুষঃ ব্রেক্সিট নিয়ে নতুন বিতর্ক যুক্তরাজ্যে

ব্রিটেনের ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) পুনরায় যোগ দেওয়ার পক্ষে নিজের অবস্থান আরও জোরালো করেছেন লন্ডনের মেয়র সাদিক খান। তার মতে, ইইউতে ফিরে যাওয়ার পক্ষে যুক্তি এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে শক্তিশালী। ব্রেক্সিটের কারণে ব্রিটেনের অর্থনীতির যে ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার জন্য অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

লন্ডনের মেয়রের কার্যালয়ের এক মুখপাত্র ইভনিং স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, ব্রিটেনের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা ছিল দেশের ইতিহাসে অর্থনৈতিকভাবে সবচেয়ে বড় আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগকে সাদিক খান পুরোপুরি সমর্থন করেন। এর মাধ্যমে ব্রিটেনের অর্থনীতি শক্তিশালী করা এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামও ব্রেক্সিটের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছেন। আগামী ২০ নভেম্বর যুক্তরাজ্য-ইইউ শীর্ষ সম্মেলনকে সামনে রেখে আলোচনার প্রস্তুতি চলছে। প্রধানমন্ত্রী সংসদে বলেছেন, প্রস্তাবিত চুক্তিগুলো কার্যকর হলে ব্রিটিশ অর্থনীতিতে বছরে ১০ বিলিয়ন পাউন্ড পর্যন্ত অতিরিক্ত প্রবৃদ্ধি আসতে পারে। তবে ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রতিটি পর্যায়ে ব্রিটিশ জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বার্নহাম এর আগে বলেছেন, ব্রেক্সিট ব্রিটেনের জন্য উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি করেছে। তার সরকার ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করছে। এমনকি ভবিষ্যতে ইইউতে পুনরায় যোগ দেওয়ার প্রস্তাবও সামনে আসতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা আনুষ্ঠানিক সময়সূচি ঘোষণা করা হয়নি।

ইউরোপীয় ইউনিয়নে পুনরায় যোগ দেওয়ার দাবিতে একটি অনলাইন পিটিশনে ১ লাখ ১০ হাজারের বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছেন। এতে ব্রেক্সিটের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে, কর-রাজস্ব বৃদ্ধি করতে এবং বাণিজ্যিক বাধা দূর করতে ইইউতে ফেরার আবেদন জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় স্বাক্ষরসংখ্যা অতিক্রম করায় বিষয়টি নিয়ে ব্রিটিশ সংসদে বিতর্কের আয়োজন করা হয়েছে।

লন্ডনে ইইউতে থাকার পক্ষে জনসমর্থনও উল্লেখযোগ্য। সাভান্তার পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, নতুন করে গণভোট হলে লন্ডনের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ ইউরোপীয় ইউনিয়নে পুনরায় যোগ দেওয়ার পক্ষে ভোট দেবেন। ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সীদের মধ্যে এই সমর্থনের হার ৮৫ শতাংশ। ২০১৬ সালের গণভোটেও লন্ডনের অধিকাংশ এলাকার ভোটাররা ইইউতে থাকার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।

এদিকে, ব্রেক্সিট গণভোটে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। প্রধানমন্ত্রী বার্নহাম বলেছেন, ডাউনিং স্ট্রিটে দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০১৬ সালের গণভোটে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট উত্তর পেয়েছেন—হ্যাঁ, হস্তক্ষেপ হয়েছিল। বিষয়টি প্রকাশ্যে নথিভুক্ত করা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

ব্রিটিশ সংসদের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তাবিষয়ক কমিটি ২০২০ সালে বলেছিল, গণভোটে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও অনলাইন ট্রল অ্যাকাউন্টের সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে সরকার পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন করেনি। পররাষ্ট্র দপ্তরের মন্ত্রী স্টিফেন ডাউটি বলেছেন, রাশিয়া ব্রিটেনের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের চেষ্টা করছে এবং এ ধরনের হুমকি মোকাবিলায় দেশের প্রতিরোধব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

সূত্রঃ ইভনিং স্ট্যান্ডার্ড

এমকে

আরো পড়ুন

স্ট্রিমিং যুগের চাপঃ স্কাইয়ে ৬০০ চাকুরি কাটছাঁটের পথে

ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ফিরে পেলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারী শামীমা বেগম

নিউজ ডেস্ক

গোপনে চলছে অভিবাসী হোটেল কার্যক্রমঃ অপরাধ, পর্নগ্রাফি ও জনতার ক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাজ্য

নিউজ ডেস্ক