TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

ইউরোপের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার ধরে রাখতে এফটিএ চুক্তির পথে ঢাকা

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) মর্যাদা থেকে উত্তরণের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে শুল্কমুক্ত ও অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা অব্যাহত রাখতে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এবং বিনিয়োগ চুক্তি সম্পাদনের উদ্যোগ জোরদার করেছে বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে এবং ইইউও বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ২০২৯ সালের পর বাংলাদেশ এলডিসি তালিকা থেকে চূড়ান্তভাবে বের হয়ে যাবে। এর ফলে বর্তমানে ভোগ করা বিশেষ বাণিজ্য সুবিধাগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে অব্যাহত থাকবে না। ফলে ইউরোপীয় বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে নতুন বাণিজ্য কাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো বিকল্প ব্যবস্থা বা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি না হলে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্য ইউরোপীয় বাজারে প্রায় ১২ শতাংশ পর্যন্ত শুল্কের মুখে পড়তে পারে। এতে দেশের রপ্তানি আয় ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশের প্রধান প্রতিযোগী দেশগুলোর মধ্যে ভারত ইতোমধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার পথে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। এছাড়া ভিয়েতনাম দীর্ঘদিন ধরেই ইইউর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য সুবিধা ভোগ করছে। ফলে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী রাখতে দ্রুত কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার তাগিদ দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশ বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নে তৈরি পোশাক ছাড়াও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, কৃষিপণ্য এবং বিভিন্ন শিল্পপণ্য রপ্তানি করে থাকে। ইইউ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় একক রপ্তানি বাজার হওয়ায় এ অঞ্চলে বাণিজ্যিক সুবিধা অব্যাহত রাখা অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশ ও ইইউর অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের নতুন বাস্তবতা তৈরি হবে। এ পরিবর্তনকে সামনে রেখে উভয় পক্ষের মধ্যে সহযোগিতা জোরদারে ইইউ গভীর আগ্রহ নিয়ে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে।

তবে ইইউর রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেছেন, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি একটি দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল প্রক্রিয়া। এজন্য প্রাথমিক পর্যায়ে রাজনৈতিক অঙ্গীকার, নীতিগত সমর্থন এবং বাংলাদেশে ইউরোপীয় বিনিয়োগ বৃদ্ধির পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়গুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, সময়মতো এফটিএ ও বিনিয়োগ চুক্তির আলোচনায় অগ্রগতি অর্জন করতে পারলে বাংলাদেশ শুধু ইউরোপীয় বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারই ধরে রাখতে পারবে না, বরং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য সুবিধা পাবে। তাই এলডিসি-পরবর্তী অর্থনৈতিক বাস্তবতায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করা বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া

এম.কে

আরো পড়ুন

অন্তর্বর্তী সরকারের চ্যালেঞ্জ ও পরিকল্পনা

ভেন্টিলেশনে ওবায়দুল কাদের, ভারতের অ্যাপোলো হাসপাতাল থেকে বাসায় চিকিৎসার সিদ্ধান্ত

বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল নিয়ে উত্তেজনার মধ্যেও জাপানের বিপুল বিনিয়োগ