11.7 C
London
March 3, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ইটিএ ছাড়া ভ্রমণ নয়ঃ যুক্তরাজ্যে আজ থেকে পূর্ণমাত্রায় কার্যকর নতুন সীমান্তনীতি

২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের ক্ষেত্রে নতুন ডিজিটাল ভ্রমণ অনুমতি ব্যবস্থা পূর্ণমাত্রায় কার্যকর হয়েছে। ভিসা প্রয়োজন হয় না—এমন দেশগুলোর নাগরিকদের এখন থেকে ভ্রমণের আগে বাধ্যতামূলকভাবে ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন (ইটিএ) নিতে হবে। অনুমতি ছাড়া কেউ যুক্তরাজ্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলে তাকে বোর্ডিং থেকে বিরত রাখা হতে পারে।

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এয়ারলাইনসহ সব পরিবহন সংস্থাকে যাত্রার আগে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার মাধ্যমে যাত্রীদের ভ্রমণ অনুমতি যাচাই করতে হবে। কারও বৈধ অনুমতি না থাকলে তাকে বহন করলে পরিবহন সংস্থাগুলোকেও জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে। ফলে ‘নো পারমিশন, নো ট্রাভেল’ নীতি এখন থেকে কঠোরভাবে বাস্তবায়িত হবে।

ব্রিটিশ ও আইরিশ নাগরিকরা ইটিএ বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি পেলেও দ্বৈত নাগরিকদের ক্ষেত্রে আলাদা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ব্রিটিশ নাগরিকদের অবশ্যই বৈধ ব্রিটিশ পাসপোর্ট অথবা রাইট অব অ্যাবোড-সংবলিত সার্টিফিকেট অব এনটাইটেলমেন্ট দিয়ে তাদের প্রবেশাধিকার প্রমাণ করতে হবে। অন্যথায় বোর্ডিং প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ঝুঁকি থাকবে।

মাইগ্রেশন ও সিটিজেনশিপ বিষয়ক মন্ত্রী মাইক ট্যাপ সংসদে লিখিত বিবৃতিতে জানান, এটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল অভিবাসন ব্যবস্থায় রূপান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তিনি বলেন, এখন থেকে ব্রিটিশ ও আইরিশ নাগরিক ছাড়া প্রায় সবাইকে যুক্তরাজ্যে ভ্রমণের আগে ‘পারমিশন টু ট্রাভেল’ নিতে হবে। একই সঙ্গে অধিকাংশ ভিজিট ভিসা আবেদনকারী কাগুজে ভিসা স্টিকারের পরিবর্তে শুধুমাত্র ই-ভিসা পাবেন।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী ভ্রমণ অনুমতি তিনভাবে দেওয়া হবে—ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন (ইটিএ), ই-ভিসা (ডিজিটাল অভিবাসন রেকর্ড) অথবা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অনুমোদিত শারীরিক নথি। অনুমতিগুলো সাধারণত ভ্রমণে ব্যবহৃত পাসপোর্টের সঙ্গে ডিজিটালি সংযুক্ত থাকবে। যাদের ই-ভিসা রয়েছে, তাদের ইউকেভিআই অ্যাকাউন্টে পাসপোর্ট সংযুক্ত রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যাতে ভ্রমণ নির্বিঘ্ন হয়।

সরকার বলছে, এই ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে যাত্রার আগেই ভ্রমণকারীদের তথ্য যাচাই সম্ভব হবে, যা সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করবে এবং সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের আগেই ঠেকানো যাবে। একই সঙ্গে পুরো প্রক্রিয়া ডিজিটাল হওয়ায় ভ্রমণ, পড়াশোনা, কাজ ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও গতি বাড়বে।

ইটিএ কর্মসূচি প্রথম চালু হয় অক্টোবর ২০২৩ সালে। সেপ্টেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত প্রায় এক কোটি ৯৬ লাখ ইটিএ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এপ্রিল ২০২৫ থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিকদেরও এর আওতায় আনা হয়। দীর্ঘ রূপান্তরকাল শেষে ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে এটি পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করা হলো। অতিরিক্ত কোনো গ্রেস পিরিয়ড দেওয়া হবে না বলে সরকার স্পষ্ট করেছে।

দ্বৈত ব্রিটিশ নাগরিকদের জন্য সাময়িকভাবে কিছু নমনীয়তা রাখা হয়েছে। ১৯৮৯ সালের পর ইস্যু করা মেয়াদোত্তীর্ণ ব্রিটিশ পাসপোর্ট, বৈধ তৃতীয় দেশের পাসপোর্টের সঙ্গে মিললে পরিবহন সংস্থা চাইলে গ্রহণ করতে পারবে। তবে এটি স্বল্পমেয়াদি ব্যবস্থা এবং পরিবহন সংস্থার নিজস্ব সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

এদিকে ই-ভিসায় রূপান্তর প্রক্রিয়াও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ইতোমধ্যে এক কোটির বেশি মানুষ ই-ভিসা ব্যবহার করছেন। ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ সব ধরনের কাগুজে ভিসা স্টিকার বাতিল করে সম্পূর্ণ ডিজিটাল ভিসা ব্যবস্থায় যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকার বলছে, ইটিএ কার্যকর ও ই-ভিসা চালু করা ভবিষ্যতের ‘কনট্যাক্টলেস’ সীমান্ত ব্যবস্থার ভিত্তি তৈরি করবে।

সূত্রঃ ই আই এন

এম.কে

আরো পড়ুন

‘আগস্টের মধ্যে করোনামুক্ত হবে যুক্তরাজ্য’

যুক্তরাজ্যের করবিনের ‘ইয়োর পার্টি’তে নেতৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব, অভ্যন্তরীণ বিভাজনের আশঙ্কা

ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট: গ্রেটার ম্যানচেস্টার ও ল্যাংকাশায়ারে ভ্রমণ সতর্কতা জারি

অনলাইন ডেস্ক