ইতালিতে মুসলিম জনসংখ্যা আনুমানিক ২৭ লাখ, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০২১ সালে ইতালীয় গবেষক ফাব্রিজিও চোচ্চার প্রকাশিত গবেষণায় এ হিসাব উঠে আসে। দেশটিতে মুসলিম কমিউনিটির মধ্যে বিদেশি বাসিন্দা, মুসলিম পারিবারিক পটভূমি থেকে আসা ইতালীয় নাগরিক, নাগরিকত্ব গ্রহণকারী অভিবাসী এবং ইসলাম গ্রহণ করা ব্যক্তিরা রয়েছেন।
গত কয়েক দশকে উত্তর আফ্রিকা, দক্ষিণ এশিয়া ও বলকান অঞ্চল থেকে অভিবাসনের কারণে ইতালিতে মুসলিম কমিউনিটির বিস্তার ঘটেছে। বিভিন্ন দেশ থেকে আসা মানুষের বসবাসের ফলে দেশটির মুসলিম জনগোষ্ঠীও বৈচিত্র্যময় হয়ে উঠেছে।
ইতালির অভিবাসন ও বহুত্ববাদবিষয়ক গবেষণা সংস্থা আইএসএমইউ ফাউন্ডেশনের ২০২৫ সালের জুলাইয়ে প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, ওই বছরের ১ জানুয়ারি ইতালিতে মুসলিম বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা ছিল প্রায় ১৭ লাখ। পরবর্তী হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে এ সংখ্যা ১৭ লাখ ছাড়িয়ে যায়, যা দেশটির মোট বিদেশি বাসিন্দার প্রায় ৩১ শতাংশ।
তবে এই পরিসংখ্যান ইতালির সব মুসলিম নাগরিককে অন্তর্ভুক্ত করে না। এতে কেবল বিদেশি বাসিন্দাদের হিসাব করা হয়েছে। ফলে ২০২১ সালের গবেষণায় উল্লেখ করা ২৭ লাখ মুসলিমের সামগ্রিক অনুমান এবং আইএসএমইউ ফাউন্ডেশনের ১৭ লাখের বেশি বিদেশি মুসলিম বাসিন্দার হিসাবের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
আইএসএমইউর তথ্য অনুযায়ী, ইতালির মুসলিম বিদেশি বাসিন্দাদের মধ্যে মরক্কোর নাগরিকরা সবচেয়ে বড় জাতীয় গোষ্ঠী। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে আসা মুসলিম কমিউনিটির সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
ধর্মীয় পরিচয়ের হিসাবে, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ইতালির বিদেশি বাসিন্দাদের মধ্যে খ্রিষ্টানরা সম্মিলিতভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিলেন। তাদের অংশ ছিল প্রায় ৫২ শতাংশ। তবে খ্রিষ্টধর্মের বিভিন্ন সম্প্রদায়কে আলাদাভাবে গণনা করলে মুসলিমরা বিদেশি বাসিন্দাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় একক ধর্মীয় গোষ্ঠী হিসেবে উঠে আসেন।
ইতালিতে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে সরকারি জনশুমারিতে আলাদা হিসাব রাখা হয় না। এ কারণে দেশটির মুসলিম জনসংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন গবেষণা ও প্রতিষ্ঠানের হিসাবে পার্থক্য দেখা যায়। হিসাবের সময়কাল, তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি এবং কোন জনগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে, তার ওপরও পরিসংখ্যান নির্ভর করে।
সাম্প্রতিক এই হিসাবগুলো ইতালির অভিবাসী জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় ও জনতাত্ত্বিক পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরে। বিশেষ করে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে আসা মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির তথ্য দেশটিতে দক্ষিণ এশীয় মুসলিম কমিউনিটির ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।
সূত্রঃ আইএসএমইউ ফাউন্ডেশন\ফাব্রিজিও চোচ্চার গবেষণা
এমকে

