TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

ইমিগ্রেশন ছাড়া দেশত্যাগের অভিযোগে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানার বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন না করে দেশত্যাগের অভিযোগে নতুন মামলা দায়েরের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশত্যাগের ঘটনায় অনুসন্ধান শেষ হয়েছে এবং ২০১৩ সালের অভিবাসী আইনসহ প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী মামলা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মামলায় দেশত্যাগে সহযোগিতা করেছেন বলে যাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদেরও আসামি করা হতে পারে বলে জানা গেছে।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের ৪ আগস্টই ক্ষমতা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং বিষয়টি মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্য ও ঘনিষ্ঠ নেতাদের জানালেও তা গোপন রাখতে বলেন। পরদিন ৫ আগস্ট দুপুরে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা গণভবন থেকে সড়কপথে পুরোনো বাণিজ্যমেলার মাঠে যান। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে কুর্মিটোলার বীর উত্তম এ কে খন্দকার বিমানঘাঁটিতে পৌঁছে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর লকহিড সি–১৩০ জে হারকিউলিস বিমানে ভারতগামী হন।
অনুসন্ধানকারী সংস্থার দাবি, শেখ হাসিনার কাছে কূটনৈতিক পাসপোর্ট এবং শেখ রেহানার কাছে ব্রিটিশ পাসপোর্ট থাকলেও তারা নির্ধারিত ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস কার্যক্রম সম্পন্ন করেননি। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অনুমোদিত ইমিগ্রেশন কাউন্টার ব্যবহার না করে এবং এক্সিট ক্লিয়ারেন্স ছাড়াই দেশত্যাগ করায় প্রচলিত আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হচ্ছে। তাদের দাবি, এই ঘটনায় বাংলাদেশ পাসপোর্ট অর্ডার, সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন বিধান, কাস্টমস আইন এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক আইনের বিষয়গুলোও তদন্তে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, ৩, ৪ ও ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে টেলিফোনে হওয়া কথোপকথনের অডিও সংগ্রহ করে ফরেনসিক পরীক্ষা করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, এসব অডিও বিশ্লেষণে দেশত্যাগের প্রস্তুতি, বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ এবং ভারত যাওয়ার পরিকল্পনা সম্পর্কে তথ্য মিলেছে। একই সঙ্গে ভারত সরকারের কাছে আশ্রয়ের অনুরোধ জানানো হয়েছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বক্তব্য।
আরও দাবি করা হয়েছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমানটির ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রাখা হয়েছিল এবং দ্রুত বাংলাদেশের আকাশসীমা ত্যাগের উদ্দেশ্যে বিমানটি প্রথমে কলকাতামুখী রুট অনুসরণ করে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান জাতির উদ্দেশে ভাষণে জানান, প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন এবং একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করে রাষ্ট্র পরিচালনা করা হবে। একই দিন রাতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জাতির উদ্দেশে ভাষণে জানান, শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র তিনি গ্রহণ করেছেন। পরদিন রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ বিলুপ্তির ঘোষণা দেওয়া হয় এবং ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার শপথ গ্রহণ করে।
এদিকে ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট ভারতের সংসদে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর বলেন, নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেন এবং তিনি তখন ভারতে অবস্থান করছিলেন। পরে সংসদীয় কমিটির এক বৈঠকেও তিনি বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের অবস্থান তুলে ধরেন।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন মেজবাহ বলেন, ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত অভিযোগে দেশত্যাগের পরপরই মামলা হওয়া উচিত ছিল। তার মতে, দেরিতে হলেও মামলা করার উদ্যোগ ইতিবাচক এবং তদন্তে যারা দেশত্যাগে সহযোগিতা করেছেন, তাদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতের আশ্রয়ে রয়েছেন। অন্যদিকে শেখ রেহানার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য এখনও তদন্তকারী সংস্থার কাছে নেই বলে দাবি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মামলার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ হলে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সূত্রঃ কালের কন্ঠ
এম.কে

আরো পড়ুন

নিজ কার্যালয়ের দেয়াল থেকে প্রধানমন্ত্রীর ছবি সরালেন জাবি অধ্যাপিকা

বাংলাদেশে গণ অভ্যূত্থানের সাথে মুনা তাসনিমের সংহতি প্রকাশ

সিলেটে এমপির গাড়িতে হামলা, পাশেই ছিল দর্শক পুলিশ

অনলাইন ডেস্ক