ইয়েমেনভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিদের সামরিক নেতৃত্ব চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে একটি তিন ধাপের যুদ্ধ কৌশল গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা-এর সানা প্রতিনিধি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুথি নেতৃত্ব স্পষ্ট করেছে যে, প্রথম ধাপে তারা সরাসরি ইসরায়েল-কে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাবে। এই ধাপ মূলত সামরিক চাপ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে পরিচালিত হবে।
দ্বিতীয় ধাপে যাওয়ার প্রয়োজন হলে, তারা গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালি-তে ইসরায়েল-সম্পৃক্ত জাহাজগুলোর ওপর অবরোধ আরোপ করবে। তবে পুরো প্রণালি বন্ধ করার কোনো পরিকল্পনা নেই বলেও তারা জানিয়েছে। একইসঙ্গে, এই অবরোধ কেবলমাত্র ইসরায়েল-সংযুক্ত জাহাজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে, অন্য কোনো দেশের জাহাজ এতে অন্তর্ভুক্ত নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সীমিত অবরোধও ইসরায়েলের জন্য বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। কারণ দেশটির প্রায় ৩০ শতাংশ বাণিজ্যিক পণ্য এই প্রণালির মাধ্যমে পরিবাহিত হয়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে, দ্বিতীয় ধাপ পর্যন্ত হুথিরা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র-এর কোনো স্থাপনা বা স্বার্থের ওপর আক্রমণ চালাবে না। তবে যদি যুক্তরাষ্ট্র আগে হামলা চালায়, তাহলে হুথিরা তৃতীয় ধাপে প্রবেশ করবে এবং মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করবে।
এই অবস্থানের পেছনে রয়েছে গত বছরের মে মাসে হুথিদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি। এর আগে, ইসরায়েলের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র হুথিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিলেও সেই সংঘাতে হুথিরা উল্লেখযোগ্য প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
তথ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষের সময় হুথিরা যুক্তরাষ্ট্রের সাতটি উন্নতমানের নজরদারি ড্রোন ভূপাতিত করে, যার প্রতিটির মূল্য কয়েক কোটি ডলার। পাশাপাশি, তারা মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজেও হামলা চালায় এবং একাধিক যুদ্ধবিমান গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়ে। এতে প্রথম মাসেই যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল আর্থিক ক্ষতি হয়।
পরিস্থিতির ঝুঁকি বিবেচনায় তৎকালীন মার্কিন নেতৃত্ব যুদ্ধ থেকে সরে এসে একতরফা যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সেই চুক্তিতে ইসরায়েলের কোনো উল্লেখ ছিল না।
ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে হুথিরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ওই যুদ্ধবিরতি বজায় রেখেই ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তাদের সামরিক অভিযান পরিচালনার কৌশল নিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র যদি পুনরায় সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে সংঘাত নতুন মাত্রা পেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্রঃ আল জাজিরা
এম.কে

