18.1 C
London
August 30, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ইরানের অপারেটিভদের হুমকির গভীরতা বুঝতে পারেনি যুক্তরাজ্যঃ সাবেক নিরাপত্তা প্রধান

যুক্তরাজ্যের ওয়ার্ক ও স্টুডেন্ট ভিসা ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে ইরানের রাষ্ট্র-সমর্থিত অপারেটিভরা দীর্ঘদিন ধরে দেশটিতে গোপন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে বলে দাবি করেছেন দেশটির সাবেক নিরাপত্তা প্রধান রজার ম্যাকমিলান। তার ভাষ্য, ব্রিটিশ সমাজ এখনও বুঝতে পারেনি যে এসব অপারেটিভ সাধারণ মানুষের মধ্যে কতটা গভীরভাবে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছে।

এক সাক্ষাৎকারে ম্যাকমিলান বলেন, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)–এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু এজেন্ট প্রায় ২৫ বছর আগে বৈধ উপায়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করে। সময়ের সঙ্গে তারা স্থানীয়ভাবে সম্মানজনক ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করেছে এবং কেউ কেউ বিদেশ থেকে দক্ষ কর্মী আনার জন্য প্রয়োজনীয় স্পনসরশিপের আইনগত ক্ষমতাও অর্জন করেছে।

তার দাবি, ছোট নৌকায় অবৈধভাবে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের ঝুঁকি না নিয়ে এসব অপারেটিভ বৈধ ওয়ার্ক ও স্টুডেন্ট ভিসার মাধ্যমে নিরাপত্তা নজরদারি এড়িয়ে দেশে প্রবেশ করছে এবং ধীরে ধীরে গোপন নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করছে।

ম্যাকমিলান আরও অভিযোগ করেন, এসব নেটওয়ার্ক ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে স্বল্প পারিশ্রমিকে লোক ভাড়া করে যুক্তরাজ্যে ইহুদি সম্প্রদায় এবং রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর নজরদারি ও হামলার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। তিনি এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে “Violence as a Service” বা “সেবা হিসেবে সহিংসতা” বলে উল্লেখ করেন।

তার ভাষায়, কয়েক পাউন্ড থেকে কয়েক হাজার পাউন্ডের বিনিময়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের নিয়ে একটি গোপন বাজার তৈরি হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে তিনি নরওয়ের নাগরিক কিশোর জোহানেস ন্যাটল্যান্ডের একটি ঘটনার উদাহরণ তুলে ধরেন। ম্যাকমিলানের দাবি, ন্যাটল্যান্ড যুক্তরাজ্যে এসে হাডার্সফিল্ডের একটি হোটেলে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি নিয়ে অবস্থান করছিল। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তার কক্ষ থেকে পাওয়া মোবাইল ফোনের নির্দেশনা ও মানচিত্রের স্থানাঙ্কের ভিত্তিতে লুকিয়ে রাখা অস্ত্র উদ্ধার করে। তবে তদন্তকারীরা এখনও প্রকাশ করেননি, তাকে কাকে লক্ষ্য করে পাঠানো হয়েছিল।

এদিকে, যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ আনুষ্ঠানিকভাবে সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন। এর ফলে সন্ত্রাসবাদবিরোধী সংস্থাগুলো সন্দেহভাজনদের সম্পদ জব্দ, ভিসা বাতিল এবং অন্যান্য আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বাড়তি ক্ষমতা পেয়েছে।

তবে রজার ম্যাকমিলানের দাবির উপর ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ প্রকাশ্যে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি বলে জানা যায়।

সূত্রঃ জিবি নিউজ

এম.কে

আরো পড়ুন

ইইউর জনগণের কাছে আকর্ষণ হারিয়েছে যুক্তরাজ্য

যুক্তরাজ্যে অভিবাসীদের আবাসন নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই

বাইডেন-সুনাক বৈঠক, আর্থিক সহযোগিতার ঘোষণা