ইরানের ওপর আরোপিত বেশ কয়েকটি অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর ফলে ১৯৭৯ সালের পর প্রথমবারের মতো মার্কিন ডলারে তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের বাণিজ্যের সুযোগ পাচ্ছে তেহরান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, ভবিষ্যতে সর্বোচ্চ পর্যায়ের পারমাণবিক পরিদর্শন ব্যবস্থায় সম্মত হয়েছে ইরান। তবে এ দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছে তেহরান।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় সোমবার ৬০ দিনের একটি বিশেষ ছাড়পত্র জারি করে। এর আওতায় আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত ইরানকে মার্কিন ডলারে অপরিশোধিত তেল, পেট্রোকেমিক্যাল এবং অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য উৎপাদন ও বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আগে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা কিছু জাহাজ ও প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রেও ছাড় দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ ইরানের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহের সুযোগ সৃষ্টি করবে। একই সঙ্গে ১৯৯০-এর দশকের পর প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রে ইরানি তেল আমদানির সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।
মঙ্গলবার সকালে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরানের জন্য মুক্ত করা অর্থ সরাসরি তাদের হাতে দেওয়া হবে না। বরং যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রিত একটি এসক্রো ব্যবস্থার মাধ্যমে খাদ্য ও চিকিৎসা সামগ্রী কেনার কাজে ব্যবহার করা হবে। তিনি জানান, এসব পণ্য একচেটিয়াভাবে যুক্তরাষ্ট্র থেকেই সংগ্রহ করা হবে, যার মধ্যে ভুট্টা, গম ও সয়াবিনও থাকবে।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরান ভবিষ্যতের জন্য সর্বোচ্চ পর্যায়ের পারমাণবিক পরিদর্শনে সম্মতি দিয়েছে। তার ভাষায়, এই ব্যবস্থা ‘পারমাণবিক সততা’ নিশ্চিত করবে এবং এ কারণেই আলোচনায় অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও জানিয়েছেন, রবিবার অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনায় ইরান আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাকে (আইএইএ) পুনরায় দেশটিতে প্রবেশ ও পরিদর্শনের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছে।
তবে মার্কিন প্রশাসনের এই দাবির পরপরই ইরান তা প্রত্যাখ্যান করেছে। মঙ্গলবার সকালে তেহরান জানায়, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন কোনো ছাড় বা অতিরিক্ত পরিদর্শন ব্যবস্থায় তারা সম্মতি দেয়নি।
ইরানের এই অবস্থানের ফলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান আলোচনার ভবিষ্যৎ এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবুও ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে এবং কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা এখনও জোরালো রয়েছে।
সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া
এম.কে

