ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র পরাজিত হয়েছে এবং সেই ব্যর্থতার পরই ওয়াশিংটন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার পথ বেছে নিয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বা আইআরজিসির মুখপাত্র সরদার মোহেবি বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক যুদ্ধ শুরু করাই প্রমাণ করে যে সামরিক ক্ষেত্রে দেশটি কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন করতে পারেনি।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার এ অঞ্চলের দেশগুলোরই। ভবিষ্যতে এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো স্থান থাকবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ইরাকের সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ফায়েক জেইদানের সঙ্গে বৈঠকে রেজায়ি ইরান ও ইরাকের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তিনি একটি স্বাধীন, শক্তিশালী ও স্থিতিশীল ইরাকের প্রতি ইরানের সমর্থনের কথা জানান এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে দুই দেশের সীমান্ত এলাকায় অবস্থানরত ইরানবিরোধী গোষ্ঠীগুলোর বিষয় দ্রুত নিষ্পত্তির প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন।
এদিকে ইরান ও দেশটির বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বাড়ানোর পরিকল্পনা ঘোষণার পর ওয়াশিংটনকে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে চীন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, বেইজিং যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা নিষেধাজ্ঞার তীব্র বিরোধিতা করে এবং নিজেদের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে।
লিন জিয়ান আরও বলেন, চীন ও ইরানের পারস্পরিক সহযোগিতা আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যেই পরিচালিত হচ্ছে। তাই দুই দেশের বৈধ সহযোগিতায় কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ বা বাধা সৃষ্টি করা উচিত নয়। ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার চীন হওয়ায় নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে।
গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ঘোষণা দেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের সঙ্গে আর্থিক অংশীদারিত্ব রাখা যেকোনো দেশকে বিশ্ব অর্থনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন করার পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। এর ফলে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোর ওপরও ওয়াশিংটনের চাপ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক চাপ নিয়ে কাতারও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজিদ আনসারী বলেন, এসব নিষেধাজ্ঞা একতরফা এবং কাতার মধ্যস্থতার মাধ্যমে সংকট সমাধানের পক্ষে। এতে বোঝা যায়, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা আরও বড় সংঘাতে রূপ নেওয়ার আশঙ্কায় কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
এর মধ্যেই ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। আইআরজিসির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার অবস্থান ও তাদের নেটওয়ার্ক সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ ১০ মিলিয়ন বা ১ কোটি মার্কিন ডলার পর্যন্ত পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।
পুরস্কারের তালিকায় আইআরজিসি প্রধান আহমেদ ওয়াহিদি, ইরানের সর্বোচ্চ সামরিক কমান্ড খাতামুল আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের প্রধান আলি আব্দুল্লাহি, আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্সের ড্রোন ইউনিটের কমান্ডার সাঈদ আগাজানি, সাইবার-ইলেকট্রনিক কমান্ডের প্রধান হামিদরেজা লশগরিয়ান এবং আইআরজিসির গোয়েন্দা বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তা মাজিদ খাদেমির নাম রয়েছে।
সূত্রঃ বিবিসি \ আল-জাজিরা
এম.কে

