আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকান সেনাদের নির্দেশ দিতে পারেন ইরানের ইউরেনিয়াম জব্দ করার। সেক্ষেত্রে তারা ইরানের সশস্ত্র বিদ্রোহী সেনাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। তারা মুখোমুখি হবে এমন এক শত্রুর সঙ্গে, যাদের লক্ষ্য দেশ রক্ষা করতে প্রাণ বিলিয়ে দেয়া। এমন লাখ লাখ সুসংগঠিত যোদ্ধা প্রস্তুত রয়েছে ইরানের।
ইরানের নিয়মিত সেনাবাহিনী কেবলমাত্র একটি প্রতিবন্ধকতা নয় আমেরিকার জন্য । ইরান যুক্তরাষ্ট্রের স্থল অভিযান মোকাবিলার জন্য কোটি কোটি ডলার এবং চার দশক ব্যয় করেছে বলে জানা যায়। তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বহু স্তরের লেয়ার দিয়ে তৈরি, যা বিভিন্ন দূরত্ব এবং উচ্চতায় বিভিন্ন হুমকি মোকাবিলার জন্য ডিজাইন করা।
ইরানের এলিট ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) যে কোনো স্থল অভিযান প্রতিহত করার মূল বাহিনী হিসেবে কাজ করে।
ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, যদি ইরান ৪৫০ কেজি প্রায় অস্ত্র-গ্রেড ইউরেনিয়াম সরবরাহে অস্বীকৃতি জানায়, তবে এই প্রস্তুতির প্রকৃত পরীক্ষা হবে। এই মিশনে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে আমেরিকান স্থল সেনাদের এক বা একাধিক পারমাণবিক স্থাপনায় স্থল অভিযান চালাতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের ইরানের আভ্যন্তরীণ এলাকায় প্রবেশ করতে হবে, ইরানের পাহাড়ি প্রতিরক্ষা অতিক্রম করতে হবে, গোলাবর্ষণের মধ্যে রেডিওএকটিভ পদার্থ প্যাকেজ করতে হবে এবং তারপর দেশে ফিরে আসতে হবে। ইরানের প্রায় দশ লাখ মানুষ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় মোতায়েন আছে।
এই ধরনের অভিযান ইতিহাসের সবচেয়ে বড় স্পেশাল ফোর্স অপারেশন হতে পারে বলে জানিয়েছেন, অবসরপ্রাপ্ত ন্যাটো কমান্ডার এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন অ্যাডমিরাল জেমস স্ট্যাভরিডিস।
ইরানের সবচেয়ে সংবেদনশীল পারমাণবিক স্থাপনাগুলো এমন স্থানে তৈরি করা হয়েছে যা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অপারেশন জটিল করে তুলতে পারে। প্রতিটি সাইট স্টেজিং এরিয়া থেকে ৬০০ মাইলের বেশি দূরে, যা কোনো স্থল বা বিমান বাহিনীর জন্য এক বড় লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ।
ইরানে ভূপ্রকৃতি নিজেই প্রতিরক্ষার অংশ। যাত্রোস পাহাড় ১,০০০ মাইল বিস্তৃত এবং অত্যন্ত উঁচু শিখরযুক্ত, যা উপকূল এবং অভ্যন্তরীণ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার মধ্যে প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে।
ইরানের প্রতিরক্ষা নীতি যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের প্রবেশ রোধে ব্যবহৃত হবে—যা আমেরিকার বিমান শক্তির কাছে প্রায় অসম্ভব। বরং ইরানে যেকোনো অনুপ্রবেশকে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতির মাধ্যমে অচল করে দেওয়া সক্ষমতা রয়েছে ইরানের।
ইরান দাবি করেছে তারা দশ লাখের বেশি যোদ্ধাকে স্থল যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করেছে, যার মধ্যে আইআরজিসি, বাসিজ মিলিশিয়া এবং স্বেচ্ছাসেবক অন্তর্ভুক্ত। সংখ্যাগতভাবে এটি যে কোনো অধিগ্রহণ বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে যেকোনো স্থল অভিযান মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করবে। তারা হুমকি দিয়েছে যে, যদি যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা নামেন, তারা “অন্য সামরিক ফ্রন্টও খুলবে”—যা উপসাগরীয় অবকাঠামো, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন আমেরিকান ঘাঁটি এবং হরমুজ ও বাব আল-মানদেব প্রণালী বন্ধের জন্য কার্যকর হবে।
ইরানের লক্ষ্য হলো, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো স্থল অভিযান এমনভাবে ব্যয়বহুল করা যাতে তাদের মিশনের ব্যর্থতা দ্রুততর হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারমাণবিক সাইট দখল করা এবং ৪৫০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিরাপদে সরানো প্রচলিত সামরিক অপারেশনের বাইরে।
অস্ত্র-গ্রেড ইউরেনিয়াম নিরাপদে প্যাকেজিং, পরিবহন এবং ডিকনটামিনেশনের জন্য বিশেষ সরঞ্জাম প্রয়োজন। এই পুরো মিশন চলাকালীন ইরানী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সমস্ত সম্ভাব্য সম্পদ ব্যবহার করবে।
তাছাড়া প্রতিটি কৌশলগত সুবিধা ইরানের পক্ষে, এবং এটি এমন এক পরীক্ষা যা দুই পক্ষই আগে কখনও মোকাবিলা করেনি।
সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ
এম.কে

