17.6 C
London
September 4, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় ইইউর অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন অর্থনৈতিক চাপের অভিযানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) যোগ দিয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। তবে ইইউর সাম্প্রতিক বিবৃতিতে সরাসরি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কার্যক্রমে যোগ দেওয়ার কথা উল্লেখ না থাকায় বিষয়টি নিয়ে কূটনৈতিক মহলে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

সোমবার দেওয়া এক বিবৃতিতে ইইউ জানায়, ইরান যাতে তার ‘অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ড’ বন্ধ করে এবং আন্তরিকভাবে শান্তি আলোচনায় অংশ নেয়, সে প্রচেষ্টাকে তারা স্বাগত জানায়। একই সঙ্গে এই লক্ষ্য অর্জনে অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের উদ্যোগকেও সমর্থন করার কথা জানিয়েছে ইউরোপীয় জোট।

ইইউর ওই বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’-এর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ওয়াশিংটনের এই অর্থনৈতিক অভিযানে ইইউ আনুষ্ঠানিকভাবে অংশ নিয়েছে—এমন কোনো সরাসরি ঘোষণা বিবৃতিতে দেওয়া হয়নি।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইইউকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অভিযানে যোগ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, বিশ্ব ইরানের প্রতি একটি ‘স্পষ্ট বার্তা’ পাঠাচ্ছে।

তবে বেসেন্টের বক্তব্যের সঙ্গে ইইউর প্রকাশিত অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ওয়াশিংটন যেখানে ইইউর অংশগ্রহণের কথা বলছে, সেখানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন মূলত যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের উদ্যোগকে সমর্থনের কথা জানিয়েছে।

ইইউ একই সঙ্গে জানিয়েছে, প্রয়োজন হলে নিজেদের নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় আরও পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে। ফলে জোটটি যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে সরাসরি অংশ নিচ্ছে কি না, নাকি কেবল ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর নীতিকে রাজনৈতিকভাবে সমর্থন করছে—তা এখনো পরিষ্কার নয়।

ইরানকে শান্তি আলোচনায় ফেরানো এবং দেশটির কথিত অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ড বন্ধ করার জন্য অর্থনৈতিক চাপকে সমর্থনের মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়ন যে ওয়াশিংটনের অবস্থানের কাছাকাছি রয়েছে, তা স্পষ্ট। তবে সরাসরি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বা অভিযানে অংশ নেওয়ার বিষয়ে ইইউ এখনো সতর্ক অবস্থান ধরে রেখেছে।

এ অবস্থায় মার্কিন প্রশাসনের দাবি এবং ইইউর আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মধ্যে যে পার্থক্য তৈরি হয়েছে, তা দুই পক্ষের সমন্বয় ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়লে ইউরোপীয় ইউনিয়ন শেষ পর্যন্ত সরাসরি কোনো পদক্ষেপ নেয় কি না, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের অবস্থান স্পষ্ট হলে এর প্রভাব শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত, কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

সূত্রঃ আল জাজিরা

এম.কে

আরো পড়ুন

ট্রাম্প–মোদি সরাসরি যোগাযোগ না হওয়ায় থেমে গেল ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি

এপস্টেইন ফাইলসঃ মোদির যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সফরের মধ্যস্থতায় যৌন অপরাধী এপস্টেইন

নিউইয়র্কে প্রকাশ্যে আযানের অনুমতি