যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েও ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হতে পারে। তবে তেহরান এ প্রস্তাবকে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে।
ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইরান নানাবিষয়ে সম্মতি জানিয়েছে, যার মধ্যে তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ও রয়েছে।
মার্কিন গণমাধ্যম সিবিএসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়, এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের স্থল সেনা মোতায়েন প্রয়োজন হবে কি না। উত্তরে ট্রাম্প বলেন, কোনো সেনার প্রয়োজন হবে না; একটি চুক্তির মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা সম্ভব এবং তখন সংঘাতের দরকার পড়বে না।
পরবর্তীতে অ্যারিজোনায় এক নির্বাচনী সমাবেশেও তিনি একই বক্তব্য পুনর্ব্যক্ত করেন। সম্ভাব্য চুক্তির প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সব পারমাণবিক উপাদান নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেবে। তিনি “নিউক্লিয়ার ডাস্ট” শব্দটি ব্যবহার করে বিষয়টি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন, যদিও পরমাণু শক্তি খাতে এ ধরনের কোনো স্বীকৃত পরিভাষা নেই।
অন্যদিকে, ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ট্রাম্পের এসব মন্তব্যকে ‘মনগড়া’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর বিষয়ে ইরান কোনো সম্মতি দেয়নি।
এছাড়া, ইরান অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করতে রাজি হয়েছে—ট্রাম্পের এমন দাবিও প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। ওই কর্মকর্তা বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের বাইরে গিয়ে কোনো শর্ত ইরান মেনে নেবে না। বর্তমানে দুই দেশের আলোচনায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণই অন্যতম প্রধান অমীমাংসিত ইস্যু হিসেবে রয়ে গেছে।
সূত্রঃ সিএনএন
এম.কে

