TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ইরানের হুমকিতে পিছু হটবে না ব্রিটেনঃ ‘যেকোনো হামলার জবাব দিতে প্রস্তুত’—প্রতিরক্ষামন্ত্রী

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাজ্যকে সরাসরি হুমকি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)। যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়ালে ব্রিটেন একটি “নিশ্চিত ও বৈধ লক্ষ্যবস্তু” হবে বলে সতর্ক করেছে তেহরান। তবে এই হুমকিকে গুরুত্ব না দিয়ে যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, যেকোনো হামলার জবাব দিতে তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরানের যুদ্ধংদেহী বক্তব্যে যুক্তরাজ্য ভীত নয়। তিনি বলেন, “ইরান যদি আমাদের দেশ বা আমাদের মিত্রদের বিরুদ্ধে কোনো হামলা চালাতে চায়, তাহলে তার জবাব দিতে আমরা প্রস্তুত। ইরানের এই ধরনের হুমকিতে আমরা ভয় পাই না।”

শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম IRIB-এর বরাতে জানানো হয়, আইআরজিসির এক মুখপাত্র বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে ব্রিটেনের সমর্থন পায়, তাহলে যুক্তরাজ্য একটি “নিশ্চিত ও বৈধ লক্ষ্যবস্তু” হয়ে উঠবে। ওই মুখপাত্র আরও দাবি করেন, সম্প্রতি মার্কিন বোমারু বিমান ব্রিটিশ বিমানঘাঁটি ব্যবহার করেছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফরাসি সংবাদমাধ্যম LCI-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “আমরা যা চাই তার শতভাগ অর্জন করতে না পারলে” তিনি ইরানের বিরুদ্ধে আবারও পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর বিষয়টি বিবেচনা করছেন। তার এই মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে আরও উসকে দিয়েছে।

অন্যদিকে, ওমান ও ইরান শনিবার হরমুজ প্রণালি ঘিরে “গঠনমূলক” আলোচনা করেছে বলে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুট হওয়ায় হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা আন্তর্জাতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা যদি লোহিত সাগরে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে, তাহলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও ইঙ্গিত দিয়েছেন, হুথিদের এমন পদক্ষেপ হলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারে।

এদিকে ট্রাম্প ইরানের নতুন একটি ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা, “পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন”, লক্ষ্য করে নতুন করে হামলার হুমকি দিয়েছেন। এই স্থাপনাটি নাতাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্রের দক্ষিণে অবস্থিত বলে ধারণা করা হয়। এর আগে ২০২৫ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে “অপারেশন মিডনাইট হ্যামার” পরিচালনা করে ইরানের একাধিক পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল।

এর পাশাপাশি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন, রাশিয়া মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের স্যাটেলাইটে ধারণ করা সামরিক স্থাপনার ছবি ইরানকে সরবরাহ করছে। তার অভিযোগ, এসব তথ্য ব্যবহার করে ইরান হামলার লক্ষ্য নির্ধারণ এবং হামলার পর ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন করছে। তবে রাশিয়া বা ইরান এখন পর্যন্ত এ দাবির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।

সাম্প্রতিক এই পাল্টাপাল্টি হুমকি, সামরিক প্রস্তুতি এবং কূটনৈতিক উত্তেজনা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আবারও বড় ধরনের সংঘাতের দিকে এগোতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের প্রতিটি পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্রঃ দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে মদ্যপ অবস্থায় ক্লাস নেওয়া শিক্ষিকা চাকরি হারিয়ে আজীবন নিষিদ্ধ

জ্বালানি বিল আরও বাড়ছে ব্রিটেনেঃ অতিরিক্ত ৭৫ পাউন্ড গুনতে হতে পারে পরিবারগুলোকে

যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ে আর সামগ্রিক প্রতিবাদ নিষেধাজ্ঞা নয়ঃ অফিস ফর স্টুডেন্টস