10.2 C
London
February 20, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ইরানে হামলার প্রস্তুতিঃ যুক্তরাষ্ট্রকে ঘাঁটি ব্যবহারে ‘না’ বলল যুক্তরাজ্য

ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক হামলায় সহায়তা করার জন্য নিজেদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি যুক্তরাজ্য সরকার। বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকলেও লন্ডন এই মুহূর্তে সরাসরি সামরিক সহায়তার পথ এড়িয়ে কূটনৈতিক সমাধানকেই প্রাধান্য দিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র ব্যবহার করেছিল গ্লুচেস্টারশায়ারে অবস্থিত আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটি এবং ভারত মহাসাগরে অবস্থিত চাগোস দ্বীপপুঞ্জের দিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটি। দিয়েগো গার্সিয়া হলো চাগোস দ্বীপপুঞ্জের অংশ, যেখানে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক উপস্থিতি রয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য টাইমস জানায়, চাগোস দ্বীপপুঞ্জ মরিশাসের কাছে হস্তান্তর এবং সেখানে যৌথ সামরিক ঘাঁটির লিজ চুক্তি নিয়ে সাম্প্রতিক সমঝোতার পরও যুক্তরাজ্যের এই অস্বীকৃতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, প্রয়োজনে দিয়েগো গার্সিয়া ও ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি ব্যবহারের দরকার হতে পারে।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এ বিষয়ে সরাসরি কোনো সামরিক মন্তব্য না করলেও সরকারি মুখপাত্র জানান, সামরিক অভিযানসংক্রান্ত বিষয়ে সরকার নিয়ম অনুযায়ী মন্তব্য করে না। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে সমর্থন করছে লন্ডন।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে চাপ দিয়ে আসছে ওয়াশিংটন। চুক্তিতে অগ্রগতি না হলে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে পৌঁছাবে নাকি সামরিক পদক্ষেপ নেবে—তা বিশ্ববাসী সম্ভবত আগামী ১০ দিনের মধ্যেই জানতে পারবে।

একই সময়ে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা চলছে এবং সেখানে কিছু অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। লন্ডনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরান যেন কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা বজায় থাকে—এটাই তাদের প্রধান অগ্রাধিকার।

চাগোস চুক্তিতে মার্কিন সরকারের আনুষ্ঠানিক সমর্থনের পর ট্রাম্প ও স্টারমারের মধ্যে টেলিফোনে আলোচনা হয়। দ্য টাইমস জানায়, ওই আলোচনায় ট্রাম্পের আলটিমেটাম নিয়েও কথা হয়েছে। এর পরদিনই ট্রাম্প চুক্তির সমালোচনা করে বিবৃতি দেন।

যুক্তরাজ্যে বিষয়টি এখন রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে। লিবারেল ডেমোক্র্যাট নেতা এড ডেভি অভিযোগ করেছেন, ট্রাম্প একতরফা সামরিক পদক্ষেপের জন্য ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারে চাপ সৃষ্টি করছেন। তার মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত পার্লামেন্টে ভোটাভুটির মাধ্যমে নেওয়া উচিত।

আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, কোনো রাষ্ট্র যদি সম্ভাব্য বেআইনি সামরিক পদক্ষেপে সহায়তা করে, তবে হামলাকারী রাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের আইনি দায়ও তৈরি হতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী দ্বিপক্ষীয় চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের সার্বভৌম ঘাঁটি ব্যবহারের আগে যুক্তরাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিক অনুমতি নিতে হয়।

গত বছর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে ফেয়ারফোর্ড বা দিয়েগো গার্সিয়া ব্যবহার করা হয়নি বলে জানা যায়। সে সময় ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা সূত্র জানিয়েছিল, ওয়াশিংটন কোনো অনুমতি চায়নি। তবে চলতি বছরের শুরুতে ‘বেলা ১’ নামের একটি ট্যাংকার জব্দ অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার করেছিল, যা আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় যুক্তরাজ্যের পূর্ণ সমর্থন নিয়ে পরিচালিত হয়েছিল।

বর্তমান পরিস্থিতিতে লন্ডনের অবস্থান স্পষ্ট—ইরান প্রশ্নে কূটনৈতিক সমাধানই অগ্রাধিকার। তবে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নিলে এবং ঘাঁটি ব্যবহারের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানালে, বিষয়টি যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।

সূত্রঃ বিবিসি

এম.কে

আরো পড়ুন

ইমেনসা ল্যাবের ত্রুটির কারণে কোভিডে সম্ভাব্য ২৩ জনের মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের হোটেল সংকটঃ সরকারের বিলম্বে রিফর্ম এগোচ্ছে জনমত জরিপে

যুক্তরাজ্যে আমেরিকান দূতাবাসের ১৫ মিলিয়ন পাউন্ডের উপর কনজেশন চার্জ বকেয়া