ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে জীবনের নিরাপত্তার কথা ভেবে ধর্মীয় কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। সম্প্রতি ইউএইয়ের একটি মসজিদে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা রোবট ব্যবহার করে আজান দেওয়ার একটি ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভিডিওটি এলেস্টিকালা ইংলিশ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে ভাইরাল হয়েছে। এতে দেখা যাচ্ছে, মসজিদের মাইক্রোফোনে রোবট আজান প্রদান করছে, যা নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে মসজিদের ইমাম ও ধর্মীয় কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের প্রভাবে, ইউএই,কাতার,সৌদি,বাহরাইন, জর্ডানে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধর্মীয় স্থানগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারকে কেন্দ্র করে নৈতিক, সামাজিক ও প্রযুক্তিগত প্রশ্ন উঠছে। কিছু মানুষ এটিকে প্রযুক্তির সদ্ব্যবহার মনে করছেন, তবে অনেকে এটিকে ঐতিহ্য ও ধর্মীয় প্রথার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেও মত প্রকাশ করছেন।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে রোবট আজানের প্রযুক্তিগত দিক নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, আবার অনেকে এটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে মানবিক স্পর্শহীন করে তোলার অভিযোগ করেছেন।
নিয়ন্ত্রক ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করেছেন, ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে আরও ব্যবহৃত হতে পারে, কিন্তু এ ক্ষেত্রে নৈতিকতা, সম্প্রদায়ের গ্রহণযোগ্যতা এবং নিরাপত্তার দিকগুলো বিবেচনা করা অত্যন্ত জরুরি।
এই ঘটনায় দেখা যাচ্ছে, সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক উত্তেজনা এবং নিরাপত্তা উদ্বেগের প্রেক্ষিতে ধর্মীয় ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার সংমিশ্রণ কিভাবে নতুন বিতর্ক ও আলোচনা সৃষ্টি করছে।
সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া
এম.কে

