26.8 C
London
June 25, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

ইরান চুক্তিতে সবহারা নেতানিয়াহুঃ ওয়াশিংটনের নতুন নীতিতে চাপে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী

মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা চুক্তি আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন বাস্তবতার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতার সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক মূল্য দিতে হতে পারে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে, যিনি দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের অন্যতম প্রধান প্রবক্তা হিসেবে পরিচিত।

বিগত দুই দশকে নেতানিয়াহু নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী মহলে অত্যন্ত প্রভাবশালী নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। বিশেষ করে রিপাবলিকান পার্টির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং ওয়াশিংটনের ক্ষমতাকেন্দ্রে তার সক্রিয় যোগাযোগের কারণে তাকে অনেক মার্কিন কূটনীতিক ‘আমেরিকান হুইস্পারার’ বলেও আখ্যায়িত করেছিলেন।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক প্রভাব মোকাবিলায় নেতানিয়াহু বরাবরই সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তার যুক্তি ছিল, তেহরানকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে কঠোর নীতি ছাড়া কার্যকর কোনো বিকল্প নেই। এই অবস্থানকে সামনে রেখে তিনি একাধিকবার মার্কিন কংগ্রেসে ভাষণ দিয়েছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অঙ্গনেও উল্লেখযোগ্য প্রভাব বিস্তার করেছেন।

তবে সাম্প্রতিক মার্কিন-ইরান সমঝোতা সেই রাজনৈতিক বাস্তবতাকে পাল্টে দিয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। তাদের মতে, ওয়াশিংটন এখন মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের দিকে ঝুঁকছে, যা নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের কৌশলের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

বিশ্লেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এক সময় যিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইরাননীতি প্রভাবিত করতে সক্ষম বলে পরিচিত ছিলেন, এখন তাকে বরং ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধের পরিবর্তে সমঝোতার পথ বেছে নেওয়ায় ইসরাইলের আপত্তিগুলোকে আগের মতো গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

সাবেক মার্কিন কূটনীতিক ও মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ ডেনিস রসের মতে, নেতানিয়াহু বর্তমানে বহুমুখী রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছেন। একদিকে ট্রাম্প প্রশাসন সংঘাতের অবসান চাইলেও, অন্যদিকে তার নিজস্ব রাজনৈতিক জোট ও ডানপন্থী সমর্থকরা ইরান ও লেবানন প্রশ্নে কোনো ধরনের ছাড় দিতে রাজি নন।

ফলে নেতানিয়াহু এমন এক রাজনৈতিক সংকটে পড়েছেন, যেখানে প্রতিটি সিদ্ধান্তই ঝুঁকিপূর্ণ। সেনা উপস্থিতি বা সামরিক অভিযান কমালে নিজ দেশের রাজনৈতিক সমর্থন হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। আবার সামরিক তৎপরতা বাড়ালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মতবিরোধ আরও প্রকট হতে পারে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কূটনৈতিক বাস্তবতা গড়ে উঠলে নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক শক্তির অন্যতম ভিত্তি—ওয়াশিংটনের ওপর তার প্রভাব—আর আগের মতো কার্যকর নাও থাকতে পারে। আর সেটিই ভবিষ্যতে ইসরাইলি রাজনীতিতে তার অবস্থানকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।

সূত্রঃ এনপিআর

এম.কে

আরো পড়ুন

অস্ত্রের অভাবে বেলচা দিয়ে লড়ছে রুশ বাহিনী

ফিলিস্তিনে দখলদারিত্বের ছায়ায় সহিংসতা বৃদ্ধিঃ বেসামরিক লোকদের হাতে অস্ত্র তুলে দিচ্ছে ইসরায়েল

আমিরাতের উপকূল নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি ইরানের